জাতীয় পার্টির একাংশের চেয়ারম্যান আনিসুল ইসলাম মাহমুদ। আজ শনিবার ঢাকার গুলশানে নিজ বাড়িতে সংবাদ সম্মেলনে
জাতীয় পার্টির একাংশের চেয়ারম্যান আনিসুল ইসলাম মাহমুদ। আজ শনিবার ঢাকার গুলশানে নিজ বাড়িতে সংবাদ সম্মেলনে

আমার প্রস্তাবক–সমর্থককে অপহরণ করা হয়েছে: আনিসুল ইসলাম মাহমুদ

মনোনয়নপত্র বাতিলের পর ক্ষোভ জানিয়ে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন জাতীয় পার্টির একাংশের চেয়ারম্যান এবং জাতীয় গণতান্ত্রিক ফ্রন্টের সভাপতি আনিসুল ইসলাম মাহমুদ। তিনি অভিযোগ করেছেন, চট্টগ্রামে মনোনয়নপত্র যাচাইয়ের সময় তাঁর প্রস্তাবক ও সমর্থককে অপহরণ করা হয়েছে।

আজ শনিবার বিকেলে রাজধানীর গুলশানে নিজ বাসভবনে জরুরি সংবাদ সম্মেলন করে এই অভিযোগ করেন আনিসুল ইসলাম মাহমুদ। গণমাধ্যমে বিবৃতি পাঠিয়ে সংবাদ সম্মেলনের বিষয়টি জানায় তাঁর নেতৃত্বাধীন জাতীয় পার্টি।

এর আগে সকালে চট্টগ্রাম–৫ (হাটহাজারী) আসনে আনিসুল ইসলামের মনোনয়নপত্র বাতিলের সিদ্ধান্ত জানান চট্টগ্রামের রিটার্নিং কর্মকর্তা ও চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার মো. জিয়াউদ্দীন। হলফনামার সঙ্গে জমা দেওয়া দলীয় মনোনয়নপত্রে স্বাক্ষরের সঙ্গে নির্বাচন কমিশন থেকে পাঠানো দলীয় মনোনয়নপত্রের স্বাক্ষরের মিল না থাকাকে এর কারণ হিসেবে দেখানো হয়।

১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠেয় ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রাম–৫ আসনে প্রার্থী হতে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছিলেন আনিসুল ইসলাম। তার আগে জাতীয় পার্টির ভাঙনে তাঁর নেতৃত্বে একটি অংশ আলাদা হয়। সম্প্রতি জাতীয় পার্টির আরেকটি অংশ আনোয়ার হোসেন মঞ্জুর নেতৃত্বাধীন জাতীয় পার্টি–জেপিসহ কয়েকটি দলকে নিয়ে তাঁরা জাতীয় গণতান্ত্রিক ফ্রন্ট গঠন করেন। নির্বাচন কমিশনের ওয়েবসাইটে আনিসুল ইসলামকে জাতীয় পার্টি–জেপির প্রার্থী হিসেবে দেখানো হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে আনিসুল ইসলাম অভিযোগ করেন, আজ সকালে তাঁর প্রস্তাবক, সমর্থকসহ দলের নেতা–কর্মীরা চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে মনোনয়ন বাছাই প্রক্রিয়ায় অংশ নিতে গেলে চট্টগ্রাম-৫ আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী মীর হেলাল উদ্দিনের সমর্থকেরা তাঁদের বাধা দেন। তখন পুলিশের সহযোগিতায় প্রস্তাবক ও সমর্থকেরা রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে প্রবেশ করতে পেরেছিলেন। পুলিশ চলে যাওয়া মাত্রই জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে থেকে তাঁদেরকে অপহরণ করা হয়।

‘অপহরণের’ জন্য বিএনপি সমর্থকদের দায়ী করে আনিসুল ইসলাম মাহমুদ বলেন, ‘মনোনয়ন জমা দেওয়ার দিনও আমার কর্মী–সমর্থকদের ভয়ভীতি প্রদর্শন করা হয়েছিল। আর আজ মীর হেলালের সমর্থকেরা আমার প্রস্তাবক ও সমর্থনকারীকে অপহরণ করে।’

নির্বাচনে ‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড’ না থাকার অভিযোগ তুলে সাবেক এই সংসদ সদস্য বলেন, ‘এমন থাকলে দেশে অবাধ সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন সম্ভব নয়।’

সংবাদ সম্মেলনে আনিসুল ইসলামের নেতৃত্বাধীন জাতীয় পার্টির মহাসচিব এ বি এম রুহুল আমিন হাওলাদারও বক্তব্য দেন। উপস্থিত ছিলেন জাতীয় পার্টির কো-চেয়ারম্যান কাজী ফিরোজ রশীদ, নির্বাহী চেয়ারম্যান মুজিবুল হক চুন্নু, কো-চেয়ারম্যান শাহিদুর রহমান, মোস্তফা আল মাহমুদ প্রমুখ।

আনিসুল ইসলামের অভিযোগের বিষয়ে মীর হেলাল কিংবা বিএনপির কোনো প্রতিক্রিয়া তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। মীর হেলাল চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র মীর মোহাম্মদ নাছির উদ্দিনের ছেলে।

হাটহাজারীর আসনটিতে আনিসুল ইসলাম মাহমুদ বেশ কয়েকবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। তিনি জাতীয় পার্টির সরকারে মন্ত্রী ছিলেন। আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকাকালে মহাজোটের প্রার্থী সংসদ সদস্য হওয়ার পর এক দফায় মন্ত্রিত্বও পান তিনি। ২০২৪ সালের প্রশ্নবিদ্ধ নির্বাচনেও তিনি সংসদ সদস্য হয়েছিলেন।