
হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে চার শতাধিক শিশুর মৃত্যুর জন্য দায়ী ব্যক্তিদের বিচারের দাবিতে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি)। দলটির নেতারা বলেছেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সীমাহীন অবহেলায় শিশুমৃত্যু শাস্তিযোগ্য অপরাধ। ওই সরকার ও প্রশাসনের দায়ী ব্যক্তিদের চিহ্নিত করে অবিলম্বে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে হবে।
আজ বৃহস্পতিবার বিকেলে রাজধানীর পুরানা পল্টন মোড়ে সিপিবির এই বিক্ষোভ সমাবেশ হয়। হামে শিশুমৃত্যুর জন্য দায়ী ব্যক্তিদের শাস্তির পাশাপাশি এই অনাকাঙ্ক্ষিত মৃত্যু রোধ করতে অবিলম্বে সরকারকে জরুরি পদক্ষেপ নিতে আহ্বান জানিয়েছে দলটি।
সমাবেশে বক্তারা বলেন, ইতিমধ্যে হামে ৫০ হাজার শিশু আক্রান্ত। সরকারি তথ্যমতে, ৪৩৯ জন শিশু মৃত্যুবরণ করেছে। বেসরকারি হিসাবে এই সংখ্যা আরও বেশি। হাম সারা দেশে মহামারি পর্যায়ে ছড়িয়ে পড়েছে। অন্তর্বর্তী সরকার টিকা কেনায় গড়িমসি করায় এবং শিশুদের টিকার আওতায় নিয়ে আসার ব্যর্থতার জন্যই এই হৃদয়বিদারক বিপর্যয় ঘটেছে। ত্বরিত গতিতে যে ধরনের উদ্যোগ নেওয়ার কথা ছিল, সরকার তা নিতে ব্যর্থ হয়েছে। এখনো দেশের বিভিন্ন এলাকায় শিশুরা প্রয়োজনীয় টিকা পাচ্ছে না। গ্রাম আর শহরের মধ্যে টিকার ক্ষেত্রে বৈষম্যও করা হচ্ছে। হাম নিয়ে সরকারিভাবে প্রয়োজনীয় প্রচার-প্রচারণা, বিশেষভাবে আইসিইউ সেবা কার্যক্রমসহ নানা উদ্যোগের ঘাটতি আছে।
সমাবেশে কিছু সুপারিশ তুলে ধরা হয়। এর মধ্যে রয়েছে অবিলম্বে জরুরি টিকাদান কর্মসূচি জোরদার করা, প্রয়োজনীয় ওষুধ ও চিকিৎসা নিশ্চিত করে স্বাস্থ্য খাতে অব্যবস্থাপনা দূর করতে হবে; জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় কার্যকর ও দীর্ঘমেয়াদি পদক্ষেপ নিতে হবে; সরকারের অবহেলায় মৃত শিশুদের পরিবারকে উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ দিতে হবে; সময়মতো টিকা না কিনে অন্তর্বর্তী সরকার সীমাহীন অবহেলার দায়ে সরকার ও প্রশাসনের দায়ী ব্যক্তিদের চিহ্নিত করে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে হবে এবং অবিলম্বে সরকারকে জরুরি পদক্ষেপ নিয়ে অনাকাঙ্ক্ষিত মৃত্যুর মিছিল থামাতে হবে।
সিপিবির সভাপতি কাজী সাজ্জাদ জহির চন্দনের সভাপতিত্বে ও দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য সাদেকুর রহমান শামীমের সঞ্চালনায় সমাবেশে অন্যদের মধ্যে দলের সাধারণ সম্পাদক আবদুল্লাহ ক্বাফী রতন, কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ফজলুর রহমান, ঢাকা জেলার সভাপতি সুকান্ত সফি চৌধুরী কমল, ঢাকা মহানগর উত্তরের সাধারণ সম্পাদক লুনা নূর, ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সভাপতি সাইফুল ইসলাম সমীর বক্তব্য দেন।