আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিনে একই সঙ্গে সংস্কার তথা জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নে গণভোট হবে। ভোটের বাকি মাত্র এক মাস। সংসদ নির্বাচন নিয়ে আলোচনা থাকলেও গণভোট নিয়ে তেমন প্রচার–প্রচারণা এখনো দৃশ্যমান হয়নি। রাজনৈতিক দলগুলো সংস্কারের পক্ষে কথা বললেও গণভোট নিয়ে এখন পর্যন্ত তাদের বড় ধরনের প্রচার নেই।
গণভোটের প্রচারে অন্তর্বর্তী সরকার অবশ্য নানামুখী উদ্যোগ নিয়েছে। কিন্তু সেসব উদ্যোগ এখনো মাঠপর্যায়ে খুব বেশি প্রভাব ফেলতে পারেনি। তৃণমূলের মানুষের মধ্যে সরাসরি গণভোটের প্রচার করতে মসজিদের ইমাম ও সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তা–কর্মচারীদের কাজে লাগাচ্ছে সরকার।
অন্তর্বর্তী সরকার গণভোটের প্রচারে ‘হ্যাঁ’ ভোট দেওয়ার পক্ষে বলছে। যেসব সরকারি কর্মকর্তাকে গণভোটের প্রচারে সম্পৃক্ত করা হচ্ছে, তাঁদের অনেকে নির্বাচনী দায়িত্বে থাকবেন। এসব কর্মকর্তা এবং সরকার একটি পক্ষ নিয়ে প্রচার চালাতে পারে কি না, সে প্রশ্নও সামনে এসেছে।
গণভোটের প্রচারে এখনো দুর্বলতা আছে...। তবে আমরা আশাবাদী, ৭ থেকে ১০ দিনের মধ্যে এটি কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হবে।আলী রীয়াজ, মুখ্য সমন্বয়ক, গণভোট-সংক্রান্ত প্রচার কার্যক্রম
গণ–অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ২০২৪ সালের ৮ আগস্ট অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে শপথ নেয় অন্তর্বর্তী সরকার। রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে দীর্ঘ আলোচনার মাধ্যমে ৮৪টি সংস্কার প্রস্তাব নিয়ে গত অক্টোবরে তৈরি করা হয় জুলাই জাতীয় সনদ। এই সনদে থাকা সংবিধান–সম্পর্কিত ৪৮টি সংস্কার প্রস্তাব নিয়ে হবে গণভোট।
এই ৪৮ প্রস্তাবকে চারটি বিষয়ে ভাগ করে গণভোটের প্রশ্ন তৈরি করা হয়েছে। গণভোটের প্রশ্ন প্রকাশ করার পর থেকেই অনেকে বলে আসছেন, এই প্রশ্ন জটিল ও সাধারণ মানুষের জন্য দুর্বোধ্য। ৪৮টি সংস্কার প্রস্তাব সম্পর্কে বেশির ভাগ মানুষের ধারণা নেই। ভোটারদের সচেতন করতে এ বিষয়ে ব্যাপক প্রচার চালানো প্রয়োজন। কিন্তু নির্বাচন ঘনিয়ে এলেও গণভোট নিয়ে সেভাবে প্রচার হচ্ছে না। ৬ জানুয়ারি ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ প্রধান নির্বাচন কমিশনারের সঙ্গে দেখা করে বলেছিল, নির্বাচনের সামগ্রিক আলোচনা থেকে গণভোটের বিষয়টা হারিয়ে গেছে। এখন সরকার ও নির্বাচন কমিশনকে গণভোটের বিষয়টি আলোচনায় আনার এবং গণভোটের পক্ষে জনমত তৈরির উদ্যোগ নিতে হবে।
বিশেষ করে কিছু সংস্কারের বিষয়ে জাতীয় ঐকমত্য কমিশনে যেভাবে সিদ্ধান্ত হয়েছে, তার সঙ্গে বিএনপির ভিন্নমত আছে। ফলে শেষ পর্যন্ত সব দল গণভোটের পক্ষে কতটা সরব হবে, তা নিয়ে সংশয় আছে।
সংসদ নির্বাচনের প্রচার শুরু হবে ২১ জানুয়ারির পর। এর আগে সংসদ নির্বাচনের প্রচারে বাধা থাকলেও গণভোটের প্রচারে বাধা নেই। তবু রাজনৈতিক দলগুলোকে সেভাবে গণভোট নিয়ে প্রচার চালাতে দেখা যাচ্ছে না। সংস্কারের বিষয়ে একমত হলেও কিছু মৌলিক সংস্কারের ক্ষেত্রে রাজনৈতিক দলগুলোর মতপার্থক্য আছে। বিশেষ করে কিছু সংস্কারের বিষয়ে জাতীয় ঐকমত্য কমিশনে যেভাবে সিদ্ধান্ত হয়েছে, তার সঙ্গে বিএনপির ভিন্নমত আছে। ফলে শেষ পর্যন্ত সব দল গণভোটের পক্ষে কতটা সরব হবে, তা নিয়ে সংশয় আছে।
জামায়াতে ইসলামী ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতাদের অনেকে গণভোটে ‘হ্যাঁ’–এর পক্ষে বলছেন। অন্যদিকে বিএনপির নেতা-কর্মীদের কেউ কেউ বিচ্ছিন্নভাবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘না’ ভোটের পক্ষে বলছেন। ফেসবুকে বিএনপি নেতা-কর্মীদের গণভোটে ‘না’ বলার পক্ষে প্রচারণা চালানো নিয়ে প্রশ্নের জবাবে গত শুক্রবার দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সাংবাদিকদের বলেন, ‘আপনারা ফেসবুকেই এসব দেখতে পাচ্ছেন। তবে দলের অবস্থান সেটি নয়।’ তিনি বলেন, ‘সংস্কার আমাদের মজ্জাগত। এটি একটি চলমান প্রক্রিয়া, চলতেই থাকবে। সেখানে “না” বলার কোনো কারণ আছে বলে আমি মনে করি না।’
অন্তর্বর্তী সরকারের পক্ষ থেকে টেলিভিশন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারের পাশাপাশি মাঠপর্যায়েও প্রচার চালানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়, তথ্য মন্ত্রণালয়, সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে প্রচার চালানো হচ্ছে। ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের বিষয়ে সারা দেশে প্রচারণার লক্ষ্যে গত ২২ ডিসেম্বর যাত্রা শুরু করে ১০টি ভোটের গাড়ি সুপারক্যারাভান।
প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয় সূত্র জানায়, সব সরকারি যোগাযোগ, যেমন পত্র, আদেশ, প্রজ্ঞাপন, পরিপত্র ইত্যাদির ক্ষেত্রে গণভোটের লোগো ব্যবহার এবং সরকারি, আধা সরকারি, স্বায়ত্বশাসিত প্রতিষ্ঠানে দুটি ব্যানার প্রতিষ্ঠানপ্রধানের উদ্যোগে প্রিন্ট করে অফিসের সামনে টানাতে নির্দেশ দিয়েছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। সারা দেশে ব্যানার, বিলবোর্ড, লিফলেট ও ফেস্টুন টানানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ইতিমধ্যে বিভিন্ন জায়গায় প্রচারের কাজ শুরু হয়েছে। বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ইসলামিক ফাউন্ডেশন ও বিভিন্ন বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থার (এনজিও) সঙ্গে বৈঠক করা হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার চালানোর জন্য আলাদা দলও গঠন করা হয়েছে।
গণভোটের প্রচারে গতকাল রোববার বিভাগীয় পর্যায়ে সফর শুরু করেছেন প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী (উপদেষ্টা পদমর্যাদা) ও গণভোট–সংক্রান্ত জনসচেতনতামূলক প্রচার কার্যক্রমের মুখ্য সমন্বয়ক অধ্যাপক আলী রীয়াজ এবং প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী মনির হায়দার। তাঁরা গতকাল বরিশাল বিভাগ সফর করেছেন। ২৪ জানুয়ারির মধ্যে বাকি সাতটি বিভাগে তাঁর সফর করবেন। এসব সফরে তাঁরা বিভাগীয় ও জেলা পর্যায়ের কর্মকর্তা ও অংশীজনদের সঙ্গে মতবিনিময় করবেন। সেই সঙ্গে বিভাগীয় ইমাম সম্মেলনও করা হবে।
সংস্কার আমাদের মজ্জাগত। এটি একটি চলমান প্রক্রিয়া, চলতেই থাকবে। সেখানে “না” বলার কোনো কারণ আছে বলে আমি মনে করি নাবিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে ৬৪টি জেলায় একাধিক ইমাম সমিতিকে যুক্ত করা হয়েছে। মসজিদের ইমামদের মাধ্যমে প্রচার চালানো হবে। তাঁরা গণভোটের এবং সম্ভব হলে হ্যাঁ ভোটের পক্ষে প্রচার চালাবেন। কৃষি মন্ত্রণালয়ের ইউনিয়ন পর্যন্ত যেসব মাঠ কর্মকর্তা আছেন তাঁদের এবং গ্রাম পুলিশকে (চৌকিদার) প্রচারে যুক্ত করা হচ্ছে। তাঁরা তৃণমূল পর্যায়ে গণভোটের পক্ষে প্রচারপত্র বিলি করা, উঠান বৈঠক করার মতো কাজ করবেন।
প্রধান উপদেষ্টার ফেসবুক পেজ থেকেও গণভোটে হ্যাঁর পক্ষে প্রচার চালানো হচ্ছে। সরকারের উপদেষ্টাদের অনেকে বিভিন্ন অনুষ্ঠানে গিয়ে গণভোটের পক্ষে বক্তব্য দিচ্ছেন। গতকাল ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) নাগরিক পদক-২০২৫ প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেন, ‘গণভোটে অবশ্যই সবাইকে অংশ নিতে হবে। যদি সত্যি সংস্কার চান, তাহলে উত্তরটা আমাদের হ্যাঁ বলতে হবে।’
এ ছাড়া নির্বাচন কমিশনও গণভোটের প্রচারে ব্যানার–ফেস্টুন বিতরণ শুরু করেছে।
চট্টগ্রাম নগরের বহদ্দারহাট থেকে টাইগারপাস পর্যন্ত পাঁচ কিলোমিটার এবং সিডিএ অ্যাভিনিউ সড়কের কোথাও গণভোটের কোনো বিলবোর্ড দেখা যায়নি। কোতোয়ালি থেকে চকবাজার পর্যন্ত সড়কেও কোথাও পোস্টার, বিলবোর্ড দেখা যায়নি। জেলা তথ্য অফিসের পক্ষ থেকে নগরের কয়েকটি স্থানে ও উত্তর চট্টগ্রামের উপজেলাগুলোতে লিফলেট বিতরণ হয়েছে।
চট্টগ্রাম থেকে নিজস্ব প্রতিবেদক জানান, ৭ জানুয়ারি রাতে চট্টগ্রাম নগরের সিআরবি সাত রাস্তার মোড় এলাকায় ভোটের গাড়ি—সুপার ক্যারাভান দেখা গেছে। তবে বিষয়টি নিয়ে আগে থেকে প্রচার-প্রচারণা ছিল না। প্রশাসনের কর্মকর্তাদের অনেকেই বিষয়টি সম্পর্কে আগে থেকে জানতেন না। সিআরবি, এনায়েত বাজার, টাইগারপাস এলাকার আশপাশের স্থানীয় লোকজন সেদিন উপস্থিত ছিলেন। তাঁদের কাছে এটি কেবল ভিডিও দেখানোর গাড়ি ছিল। ভোটের গাড়ি সুপার ক্যারাভান ও মিনিট্রাক ১৯ দিন চট্টগ্রামের বিভিন্ন জেলা-উপজেলায় থাকবে বলে জানিয়েছে জেলা তথ্য অফিস।
আলী রীয়াজ বলেন, বর্তমান সরকার কোনো তত্ত্বাবধায়ক সরকার নয়। এটি অভ্যুত্থান–পরবর্তী অন্তর্বর্তী সরকার। এই সরকারের তিনটি ম্যান্ডেট—বিচার, সংস্কার ও নির্বাচন। এ ছাড়া বিদ্যমান সংবিধান, গণভোট অধ্যাদেশ, জাতীয় নির্বাচন–সংক্রান্ত আইন গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও) কোথাও গণভোটের পক্ষে ইতিবাচক প্রচার চালানোর বিষয়ে বাধা নেই।
চট্টগ্রাম নগরের এনায়েত বাজার এলাকার বাসিন্দা সাদেকুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, গত বুধবার রাতে অফিস শেষে ফেরার সময় সিআরবি মোড়ে গানের আওয়াজ পেয়ে এগিয়ে যান তিনি। সেখানে গান, ভিডিও ও প্রধান উপদেষ্টার বক্তব্য প্রচার করা হয়েছে। গণভোটে মানুষের মতামত দেওয়ার সুযোগ আছে, সেটি বোঝা গেছে। তবে সার্বিকভাবে এটি কীভাবে প্রভাব ফেলবে বা মানুষ কেন আগ্রহী হবে, সেটি তাঁর কাছে স্পষ্ট নয়।
চট্টগ্রাম নগরের বহদ্দারহাট থেকে টাইগারপাস পর্যন্ত পাঁচ কিলোমিটার এবং সিডিএ অ্যাভিনিউ সড়কের কোথাও গণভোটের কোনো বিলবোর্ড দেখা যায়নি। কোতোয়ালি থেকে চকবাজার পর্যন্ত সড়কেও কোথাও পোস্টার, বিলবোর্ড দেখা যায়নি। জেলা তথ্য অফিসের পক্ষ থেকে নগরের কয়েকটি স্থানে ও উত্তর চট্টগ্রামের উপজেলাগুলোতে লিফলেট বিতরণ হয়েছে।
ফেনী শহর সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়, শহরের ট্রাংক রোড জিরো পয়েন্ট শহীদ মিনার–সংলগ্ন সড়ক বিভাজকের মাঝখানে স্থাপিত বিলবোর্ডে গণভোটের বিশাল ফেস্টুন ঝোলানো হয়েছে। গণভোটের বিষয়ে মাইকিং করা হচ্ছে। বিভিন্ন জায়গায় প্রচারপত্র বিলি করা হচ্ছে। গত বৃহস্পতিবার বিকেলে ভোটের গাড়ি সুপার ক্যারাভান গিয়েছিল জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের প্রাঙ্গণ–সংলগ্ন সড়কের পাশে। সেখানে প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সরব উপস্থিতি থাকলেও ভোটার ও পথচারীদের তেমন আগ্রহ ছিল না বলে স্থানীয় লোকজন জানিয়েছেন।
শহরের মহিপাল এলাকার বাসিন্দা গৃহিণী ফারহানা কলির কাছে গণভোটের প্রচারণা ও গণভোট সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘জাতীয় নির্বাচনের দিন গণভোট হবে শুনেছি। তবে গণভোটের কোনো প্রচারণা শুনতে পাইনি। কীভাবে ভোট দিতে হবে, সেটিও এখনো পুরোপুরি জানি না।’
রাজধানী ঢাকায়ও গণভোটের খুব বেশি প্রচার দেখা যাচ্ছে না। ঢাকা উত্তর সিটির রাজস্ব বিভাগের সূত্র জানায়, তাদের আওতাধীন এলাকায় অনুমোদন দেওয়া ২২টি এলইডিতে গণভোট–সম্পর্কিত অন্তর্বর্তী সরকারের দেওয়া ভিডিওগুলো প্রচার করা হচ্ছে। ৫ জানুয়ারি এ প্রচারণা শুরু হয়েছে। বেশি এলইডি আছে গুলশান ১ ও ২, মহাখালী, বিজয় সরণি মোড় এলাকায়। অনুমোদিত এলইডি পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে বলা হয়েছে, তারা যেন তাদের নির্ধারিত বিজ্ঞাপন প্রচারের পাশাপাশি গণভোটের ভিডিওগুলো প্রচার করে।
জাতীয় নির্বাচনের দিন গণভোট হবে শুনেছি। তবে গণভোটের কোনো প্রচারণা শুনতে পাইনি। কীভাবে ভোট দিতে হবে, সেটিও এখনো পুরোপুরি জানি না।গৃহিণী ফারহানা কলি
গণভোট–সংক্রান্ত জনসচেতনতামূলক প্রচার কার্যক্রমের মুখ্য সমন্বয়ক অধ্যাপক আলী রীয়াজ বৃহস্পতিবার প্রথম আলোকে বলেন, ‘গণভোটের প্রচারে এখনো দুর্বলতা আছে, এটা অস্বীকার করা যাবে না। এ বিষয়ে যতটা সক্রিয় হওয়া প্রয়োজন ছিল, নানা কারণে তা হয়নি। তবে আমরা আশাবাদী, আগামী ৭ থেকে ১০ দিনের মধ্যে এটি কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হবে।’
‘গণভোট ২০২৬, সংসদ নির্বাচন, দেশের চাবি আপনার হাতে’ শিরোনামে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয় থেকে প্রচারিত একটি লিফলেটে বলা হয়েছে, ‘আপনি কি এমন বাংলাদেশ চান, যেখানে তত্ত্বাবধায়ক সরকার, নির্বাচন কমিশন ও সরকারি কর্ম কমিশন (পিএসসি) গঠনে সরকারি দল ও বিরোধী দল একত্রে কাজ করবে। সরকারি দল ইচ্ছেমতো সংবিধান সংশোধন করতে পারবে না। সংবিধানের গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের ক্ষেত্রে গণভোটের বিধান চালু হবে।...
এমন সাতটি বিষয়ে উল্লেখ করে লিফলেটে বলা হয়েছে, ‘হ্যাঁ ভোট দিলে উপরের সবকিছু পাবেন। “না” ভোট দিলে কিছুই পাবেন না। মনে রাখবেন, পরিবর্তনের চাবি এবার আপনারই হাতে।’
অন্তর্বর্তী সরকার এভাবে পক্ষ নিয়ে প্রচার চালাতে পারে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে অধ্যাপক আলী রীয়াজ প্রথম আলোকে বলেন, তাঁরা এ বিষয়ে বিশেষজ্ঞদের মতামত নিয়েছেন। বিশেষজ্ঞরা মত দিয়েছেন, গণভোটে সংস্কারের পক্ষে ইতিবাচক প্রচারমূলক কার্যক্রম পরিচালনার ক্ষেত্রে অন্তর্বর্তী সরকারের কোনো আইনি বাধা নেই।
আলী রীয়াজ বলেন, বর্তমান সরকার কোনো তত্ত্বাবধায়ক সরকার নয়। এটি অভ্যুত্থান–পরবর্তী অন্তর্বর্তী সরকার। এই সরকারের তিনটি ম্যান্ডেট—বিচার, সংস্কার ও নির্বাচন। এ ছাড়া বিদ্যমান সংবিধান, গণভোট অধ্যাদেশ, জাতীয় নির্বাচন–সংক্রান্ত আইন গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও) কোথাও গণভোটের পক্ষে ইতিবাচক প্রচার চালানোর বিষয়ে বাধা নেই।