আসন বণ্টন নিয়ে জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ও বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের টানপোড়েনের কারণে ১১ দলের আসন সমঝোতা গতকাল মঙ্গলবার রাত পর্যন্ত চূড়ান্ত হয়নি। যদিও গতকালই এ সমঝোতা চূড়ান্ত হওয়ার কথা ছিল।
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, ১১ দলের মধ্যে জামায়াতের সঙ্গে আট দলের আসন সমঝোতা হয়ে গেছে। কেবল ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ও বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের সঙ্গে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। গতকাল রাত ১১টায় এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত ইসলামী আন্দোলনের শুরা কাউন্সিল এ বিষয়ে বৈঠক করছিল। অন্যদিকে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস আজ বুধবার সকালে শুরা কাউন্সিলের বৈঠক ডেকেছে।
তবে আজ সকালের মধ্যে সব দলের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করে বিকেলে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে আসন সমঝোতার চূড়ান্ত ঘোষণা দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে জামায়াতের। এ বিষয়ে একাধিক মিত্র দলকে জানানো হয়েছে।
দলীয় একাধিক সূত্র জানায়, আসন সমঝোতার আলোচনায় থাকা ইসলামী আন্দোলন শুরু থেকে শতাধিক আসনে নির্বাচন করতে চেয়েছিল। তবে আলোচনার ভিত্তিতে ধাপে ধাপে আসনের চাহিদা কমিয়েছে দলটি। সর্বশেষ তাদের দাবি ছিল ৫০টির বেশি আসন। তবে জামায়াত দলটিকে ৪০টি আসন ছাড় দিতে চায়। এটি নিয়ে ইসলামী আন্দোলনের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দেয়। দলের একটা অংশ মনে করে, ৪০ থেকে ৪৫টি আসনে সমঝোতা হতে পারে। তবে দলের বড় অংশই মনে করে, কাঙ্ক্ষিত আসন না পেলে সমঝোতা নিয়ে নতুন করে ভাবতে হবে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, গত সোমবার জামায়াতের সঙ্গে বৈঠক করে ইসলামী আন্দোলন। এ নিয়ে গতকাল সন্ধ্যার পর ইসলামী আন্দোলনের শুরা কাউন্সিল বৈঠকে বসে। সেখানে কেন্দ্রীয় কমিটি, জেলার সভাপতি, সাধারণ সম্পাদকসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা অংশ নেন। রাত ১২টায়ও এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত বৈঠক চলছিল।
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে গতকাল সন্ধ্যায় ইসলামী আন্দোলনের প্রেসিডিয়াম সদস্য আশরাফ আলী আকন ও যুগ্ম মহাসচিব শেখ ফজলে বারী মাসউদের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হয়। দুজনই বৈঠকে আছেন জানিয়ে কথা বলতে অপারগতা প্রকাশ করেন।
এদিকে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের একাধিক নেতা জানিয়েছেন, সোমবার জামায়াতের সঙ্গে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের বৈঠক হয়েছে। তবে দলটি যে পরিমাণ আসন চায়, জামায়াত ততটা আসন তাদের ছাড় দিতে চায় না। এ নিয়ে দলটির সঙ্গে জামায়াতের আবার বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে।
বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের কেন্দ্রীয় কমিটির একজন নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে প্রথম আলোকে বলেন, তাঁদের দল ২৫ থেকে ৩০টি আসন চায়। তবে জামায়াত তাদের সর্বোচ্চ ২০টি আসনে ছাড় দিতে পারে। কাঙ্ক্ষিত আসন না পেলে যে কয়টিতে ছাড় দেওয়া হবে না, সেখানে তাদের দল প্রার্থী উন্মুক্ত রাখতে চায়।
বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের জ্যেষ্ঠ নায়েবে আমির মাওলানা ইউসুফ আশরাফ গতকাল বিকেলে প্রথম আলোকে বলেন, আসন সমঝোতা নিয়ে এখনো আগের অবস্থানেই আছে জামায়াত। জামায়াতের সঙ্গে আবার বৈঠক হবে, সেখানে কত আসনে সমঝোতা হচ্ছে, তা স্পষ্ট হতে পারে।
বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস সূত্রে জানা গেছে, গতকাল সকালে দলটির সঙ্গে জামায়াতের বৈঠক হয়েছে। দলটির প্রচার, প্রকাশনা ও তথ্য সম্পাদক আবদুল হাফিজ খসরু গতকাল সন্ধ্যায় প্রথম আলোকে জানান, জামায়াতের সঙ্গে বৈঠকে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। এরপর রাতে দলের নির্বাহী কমিটির বৈঠক হয়েছে। আজ বেলা ১১টায় দলের শুরা কাউন্সিলের বৈঠক হবে। সেখান থেকে আসন সমঝোতার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
গতকাল বিকেলে নিজ কার্যালয়ে জামায়াতে ইসলামীর প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের প্রধান এহসানুল মাহবুব জুবায়ের সাংবাদিকদের বলেন, ‘গতকাল (সোমবার) রাতে লিয়াজোঁ কমিটির বৈঠকে প্রার্থী তালিকা প্রায় চূড়ান্ত করা হয়েছে। আজ (মঙ্গলবার) রাতে এ বিষয়ে আবার বৈঠক হবে। সেই বৈঠকে আসন সমঝোতার বিষয়টি চূড়ান্ত হতে পারে।’ তিনি বলেন, দু-একটি আসন নিয়ে যে ঝামেলা তৈরি হয়েছে, সেটি শীর্ষ নেতাদের বৈঠকে ঠিক হয়ে যাবে বলে আশা করা যায়।
১১ দলভুক্ত এনসিপি সূত্রে জানা গেছে, জামায়াতের সঙ্গে এনসিপির ৩০ আসনে সমঝোতা হতে পারে। গত রাতে এনসিপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির একজন নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে প্রথম আলোকে বলেন, আজ সংবাদ সম্মেলন করে দলীয় প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করবে। এটি বিকেল বা সন্ধ্যায় হতে পারে।
সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র জানায়, ইসলামী আন্দোলনকে ৪০টি, জাতীয় নাগরিক পার্টিকে (এনসিপি) ৩০টি, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসকে ১৫টি, খেলাফত মজলিসকে ৭টি, লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টিকে (এলডিপি) ৪ থেকে ৭টি, আমার বাংলাদেশ পার্টিকে (এবি পার্টি) ৩টি ও বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টিকে (বিডিপি) ২টি আসনে ছাড় দিতে চায় জামায়াত। এতে ইসলামী আন্দোলন ও বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস ছাড়া অন্য দলগুলো সম্মত হয়েছে বলে জানা গেছে।