
জনগণ ভোট দিয়ে সরকার গঠনের সুযোগ দিলে ভবিষ্যতে নারীদের নির্বাচনে আনা হবে বলে জানিয়েছেন ঢাকা-১২ আসনের জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী সাইফুল আলম খান।
আজ মঙ্গলবার সকালে রাজধানীর চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে ‘জাতীয় নির্বাচন ২০২৬ ও নাগরিক প্রত্যাশা’ শীর্ষক সংলাপে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন। সংলাপের আয়োজন করে নাগরিক প্ল্যাটফর্ম। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
সংলাপে বিশেষ অতিথি ছিলেন ঢাকা-১২ আসনের জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী সাইফুল আলম খান। তাঁর বক্তব্যে জামায়াতে ইসলামীর নির্বাচনী ইশতেহারে গুরুত্ব পাওয়া বিষয়গুলো তুলে ধরেন তিনি। এ সময় নাগরিক প্ল্যাটফর্মের আহ্বায়ক দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য তাঁর কাছে নারীদের নমিনেশনের বিষয়ে জানতে চান। জবাবে মঞ্চে থাকা আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীর দিকে তাকিয়ে তিনি বলেন, ‘এ বিষয়ে আমরা একা পিছিয়ে আছি তা না। আমাদের বড় দলও পিছিয়ে আছে। আমরা একসঙ্গে এগোব ইনশা আল্লাহ।’
এ সময় অতিথিদের মধ্যে থেকে বলা হয়, ‘আপনারা কাউকেই দেননি।’ জবাবে সাইফুল আলম বলেন, ‘আমরা কিন্তু লোকাল নির্বাচনে মেয়েদের অংশগ্রহণ করিয়েছি। তারা নির্বাচিত হয়েছে, তারা কাজ করেছে। আপনারা দোয়া করেন, জাতীয় সংসদেও আমরা নিয়ে আসব।’
এ সময় অতিথি সারি থেকে আবারও প্রশ্ন আসে, সেটা কবে? জবাবে তিনি দুজন হিন্দু প্রার্থীর মনোনয়ন দেওয়ার প্রসঙ্গ আনেন। এ সময় অতিথি সারি থেকে আবারও নারী নমিনেশনের বিষয়ে জানতে চাওয়া হয়। তখন সাইফুল আলম বলেন, ‘আমি আপনাদের সঙ্গে একমত। আমাদের আপনারা সুযোগ দেন ইনশা আল্লাহ নারীরা আসবে সামনে।’ এ সময় দর্শক সারিতে অনেকে হেসে ওঠেন।
আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বক্তব্যে রাজনীতিবিদদের জবাবদিহির বিষয়ে জোর দেন। তিনি বলেন, রাজনীতিবিদ অনেক ভালো ভালো কথা বলবেন। কিন্তু জবাবদিহি থাকা গুরুত্বপূর্ণ। দেশে এত দিন সেটা অনুপস্থিত ছিল, কারণ অনির্বাচিত সরকার ছিল।
এ সময় নাগরিক প্ল্যাটফর্ম বাংলাদেশের আহ্বায়ক ও সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) ফেলো ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীর কাছে জানতে চান, ‘সরকারগুলো তাদের হানিমুন পিরিয়ড শেষে যখন ফেল করতে থাকে, তখন তারা আর ক্রিটিসিজম নিতে পারে না। বিভিন্ন ধরনের নিবর্তনমূলক পদক্ষেপ নেয়। ভবিষ্যতে এই হানিমুন পিরিয়ড সিনড্রোম থাকবে না—এটার নিশ্চয়তা কীভাবে পাওয়া যাবে?’
জবাবে আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, রাজনীতিবিদদের ওপর আস্থা ফেরাতে রাজনীতিবিদদেরই কাজ করতে হবে। তা ছাড়া দেশের মানুষের মনোজগতে যে পরিবর্তন এসেছে, তা যেসব রাজনৈতিক দল ধারণ করতে পারবে না, তাদের রাজনীতিতে কোনো ভবিষ্যৎ নেই।