ভেনেজুয়েলায় মার্কিন হামলার নিন্দা সিপিবি ও বাসদের

ভেনেজুয়েলায় যুক্তরাষ্ট্রের হামলার নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি) ও বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ)। সিপিবি বলেছে, এই আগ্রাসন আন্তর্জাতিক আইনের চরম লঙ্ঘন। বাসদ বলেছে, এ ধরনের সাম্রাজ্যবাদী আগ্রাসন লাতিন আমেরিকা ও ক্যারিবীয় অঞ্চলে শান্তি ও স্থিতিশীলতাকে মারাত্মকভাবে হুমকির মুখে ফেলবে। আজ শনিবার পৃথক দুটি বিবৃতিতে এই নিন্দা জানিয়েছে দল দুটি।

বিবৃতিতে সিপিবির সভাপতি কাজী সাজ্জাদ জহির চন্দন এবং সাধারণ সম্পাদক আবদুল্লাহ ক্বাফী রতন বলেছেন, চলমান মার্কিন আগ্রাসনের বিরুদ্ধে সিপিবি দৃঢ়ভাবে ভেনেজুয়েলার জনগণের পাশে রয়েছে। তাঁরা ভেনেজুয়েলায় হামলা এবং দেশটির প্রেসিডেন্ট নিকোলা মাদুরো ও তাঁর স্ত্রীকে অপহরণের ঘটনাকে চরম আগ্রাসী ও নিন্দনীয় কাজ বলে উল্লেখ করেছেন। এ হামলা ও আগ্রাসন বন্ধে এখনই জাতিসংঘকে পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানান তাঁরা।

ভেনেজুয়েলার তেলসম্পদ দখলের উদ্দেশ্যে যুক্তরাষ্ট্র হামলা চালিয়েছে উল্লেখ করে সিপিবি বিবৃতিতে বলেছে, ভেনেজুয়েলার ওপর চালানো বিমান হামলা মার্কিন সাম্রাজ্যবাদের উদ্ধত আচরণের নগ্ন বহিঃপ্রকাশ। হুমকি ও ব্ল্যাকমেলের মাধ্যমে নিজেদের উদ্দেশ্য বাস্তবায়নে ব্যর্থ হয়ে যুক্তরাষ্ট্র প্রশাসন আবারও নগ্ন শক্তির আশ্রয় নিয়েছে। এই আগ্রাসন জনগণের স্বাধীন ইচ্ছা ও রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের ওপর সরাসরি আঘাত।

বাসদের নিন্দা

বাসদের সাধারণ সম্পাদক বজলুর রশীদ ফিরোজ পৃথক এক বিবৃতিতে বলেছেন, এই হামলায় ভেনেজুয়েলার কারাকাস ও দেশটির অন্যান্য অঞ্চলের বেসামরিক ও সামরিক স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। এই আগ্রাসন জাতিসংঘ সনদ, আন্তর্জাতিক আইন, সার্বভৌমত্ব, আঞ্চলিক অখণ্ডতা ও অভ্যন্তরীণ বিষয়ে স্বাধীনতার সর্বজনস্বীকৃত নীতিমালার চরম লঙ্ঘন। এ ধরনের সাম্রাজ্যবাদী আগ্রাসন লাতিন আমেরিকা ও ক্যারিবীয় অঞ্চলে শান্তি ও স্থিতিশীলতাকে মারাত্মকভাবে হুমকির মুখে ফেলবে। লাখ লাখ ভেনেজুয়েলাবাসীর জীবন বিপন্ন করবে।

এই হামলা মার্কিন সাম্রাজ্যবাদের আগ্রাসী চরিত্র এবং আন্তর্জাতিক নীতিমালার প্রতি তাদের অবজ্ঞাকে উন্মোচিত করেছে উল্লেখ করে বাসদ বলেছে, এ ঘটনা জাতিসংঘসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের অথর্ব চরিত্রকে উন্মোচিত করল।

বাসদ বাংলাদেশসহ বিশ্ববাসীকে ভেনেজুয়েলার জনগণের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়েছে। দলটি মনে করে, মাদকের অজুহাতে এই হামলার প্রকৃত উদ্দেশ্য হলো ভেনেজুয়েলার তেল ও খনিজ সম্পদ দখল করা এবং প্রতিক্রিয়াশীল ধনিক-অলিগার্ক শক্তির সঙ্গে জোট বেঁধে জোরপূর্বক সরকার পরিবর্তন চাপিয়ে দেওয়া। তবে মার্কিন সাম্রাজ্যবাদের এই উদ্দেশ্য সফল হবে না, এমনটাই আশা তাঁদের।