‘জুলাই সনদ: কৃষক বঞ্চনা ও ন্যায্যতার প্রশ্ন’ শীর্ষক আলোচনা সভায় বক্তব্য দেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী
‘জুলাই সনদ: কৃষক বঞ্চনা ও ন্যায্যতার প্রশ্ন’ শীর্ষক আলোচনা সভায় বক্তব্য দেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী

তারেক রহমানের বক্তব্যের সমালোচনায় এনসিপি নেতা নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী

গণভোটের চেয়ে আলুর ন্যায্য মূল্য পাওয়া অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ—বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের এই বক্তব্যের কড়া সমালোচনা করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী।

কারও নাম উল্লেখ না করে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেছেন, ‘একজন রাষ্ট্রনায়ক যিনি ভবিষ্যতে হতে যাচ্ছেন, উনি বলছেন গণভোটের চেয়ে আলুর দামটা বেশি প্রাসঙ্গিক। উনার হয়তো অজ্ঞতা রয়েছে। উনি যদি বুঝতেন যে উনি যাকে এমপি নমিনেশন দিচ্ছেন, সেই লোকটাই কৃষকদের ওপর ছড়ি ঘুরিয়ে আলুর দামটা বাড়াচ্ছে।’

তারেক রহমানের বক্তব্যকে ‘নিজের লোক দিয়ে সবকিছুর মূল্য বাড়িয়ে তারপর কৃষকদের ওপর দায় চাপানো’ হিসেবে উল্লেখ করে নাসীরুদ্দীন বলেন, ‘এটা একটা অপরাজনীতি। এই অপরাজনীতি গত ১৫ বছরে চলেছে। এটা আমাদের বন্ধ করতে হবে। এ জন্য যাঁরা ভবিষ্যতে রাজনীতি করবেন, আমরা তাঁদের কাছে আহ্বান জানাব, আপনারা শালীন হোন, যথেষ্ট সংযমের পরিচয় দিন।’

আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে রাজধানীর বাংলামোটরে এনসিপির অস্থায়ী কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক আলোচনা সভায় নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী এসব কথা বলেন। ‘জুলাই সনদ: কৃষক বঞ্চনা ও ন্যায্যতার প্রশ্ন’ শীর্ষক এই আলোচনা সভার আয়োজন করে এনসিপির সহযোগী সংগঠন জাতীয় কৃষক শক্তি। তবে এই সংগঠনের এখনো আনুষ্ঠানিক আত্মপ্রকাশ হয়নি।

শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে একটি রায়ের তারিখ ঘোষণাকে (১৭ নভেম্বর) ‘বাংলাদেশের বিচার বিভাগের একটি ঐতিহাসিক মাইলফলক’ বলে আখ্যা দেন পাটওয়ারী। তিনি বলেন, এই রায়ের আগে আওয়ামী লীগ অনলাইন থেকে শুরু করে বিভিন্ন জায়গায় ভীতি ছড়িয়েছে। তাদের যে অর্থনৈতিক কাঠামো ছিল, গত ১৫ বছর তারা যে লুট করেছিল, ওই টাকা দিয়ে তারা ককটেল ফুটিয়েছে এবং বাসে আগুন দিয়েছে।

১৭ নভেম্বর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে যে রায় হবে, সেখানে শেখ হাসিনার সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি করেন নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী।

সভায় এনসিপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সদস্যসচিব তাসনিম জারা বলেন, বর্তমান সংবিধানে যে পদ্ধতিগুলো আছে, সেগুলোর মধ্যে প্রধানমন্ত্রী সরকারের প্রতিটি শাখাকে কুক্ষিগত ও রাজনীতিকরণ করতে পারেন। এই প্রতিষ্ঠানগুলো শুধু যাঁরা ক্ষমতার কাছাকাছি আছেন, ক্ষমতায় আছেন, শুধু তাঁদেরই সুবিধা দেয়। যাঁরা ক্ষমতার বলয়ের বাইরে আছেন, তাঁদের দেয় না।

এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক সারোয়ার তুষার বলেন, ‘জুলাই সনদের মাধ্যমে যেটুকুই আমরা অর্জন করতে পারলাম, সেটাকে আমরা হারিয়ে যেতে দিতে চাই না। জুলাই সনদ বাস্তবায়ন আদেশ সরকারকেই জারি করতে হবে।’

সভায় আরও বক্তব্য দেন এনসিপির যুগ্ম সদস্যসচিব প্রীতম দাশ, যুগ্ম সমন্বয়ক খান মুহাম্মদ মুরসালীন, কৃষক উইংয়ের যুগ্ম সমন্বয়কারী হাফসা জাহান ও সাঈদ উজ্জ্বল, সংগঠক সুলতান হোসেন, মো. শাহজাহান, মাসুদ রানা, মো. রাসেল হোসেন, মো. জসীম উদ্দিন প্রমুখ।