ইসলামি ইতিহাসের ক্যালেন্ডারে ২০ রমজান আজ থেকে প্রায় দেড় হাজার বছর আগে মক্কা বিজয় সংঘটিত হয়। একই দিনে ব্যাবিলন দুর্গ জয় হয়, সাইপ্রাস জয় হয় আবার প্রসিদ্ধ তাবেয়ি মালিক ইবে দিনার (রহ.) এই দিনে ইন্তেকাল করেন।
৮ হিজরির ২০ রমজান (৬৩০ খ্রিষ্টাব্দ) ইসলামের ইতিহাসের সবথেকে বড় মাইলফলক হিসেবে চিহ্নিত। দীর্ঘ আট বছরের মদিনায় কাটিয়ে ১০ হাজার সাহাবির এক বিশাল বাহিনী নিয়ে মহানবী (সা.) বিজয়ী বেশে মক্কায় প্রবেশ করেন। (ইবনে হিশাম, আস-সিরাতুন নাবাবিয়্যাহ, ৪/৩২০, ১৯৫৫)
এটি ছিল এক নজিরবিহীন বিজয়, যেখানে কোনো রক্তপাত হয়নি।
মক্কায় প্রবেশ করে মহানবী (সা.) কাবাঘরের ভেতরে থাকা ৩৬০টি মূর্তি অপসারণ করেন এবং নিজ হাতে সেগুলো ভাঙতে ভাঙতে পবিত্র কোরআনের আয়াত পাঠ করছিলেন, “বলো, সত্য এসেছে এবং মিথ্যা বিলুপ্ত হয়েছে; নিশ্চয়ই মিথ্যা বিলুপ্ত হওয়ারই বিষয়।” (সুরা বনি ইসরাইল, আয়াত: ৮১)
বিজয়ের পর মহানবী (সা.) তাঁর চরম শত্রুদের সামনে দাঁড়ালেন, যারা তাঁকে দেশান্তরী করেছিল এবং তাঁর অনুসারীদের ওপর নির্যাতন চালিয়েছিল।
কিন্তু তিনি প্রতিশোধের বদলে ঘোষণা করলেন, “আজ তোমাদের বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ নেই; যাও, তোমরা সবাই মুক্ত।” (ইবনে কাসির, আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া, ৪/৩১০, ১৯৮৮)
২০ হিজরির ২০ রমজান (৬৪১ খ্রিষ্টাব্দ) সেনাপতি আমর ইবনুল আস (রা.)-এর নেতৃত্বে মুসলিম বাহিনী মিসরের বিখ্যাত ব্যাবিলন দুর্গ জয় করে। (ইবনে কাসির, আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া, ৭/১০৩, ১৯৮৮)
এই বিজয়ের মাধ্যমেই মিসরে ইসলামি শাসনের ভিত মজবুত হয়। দীর্ঘ সাত মাস অবরোধের পর রোমানরা এই দুর্গটি ছেড়ে দিতে বাধ্য হয়েছিল। মিসরের ইতিহাসে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড় ছিল, যা পরবর্তীকালে কায়রো শহর ও ফুস্তাত জামে মসজিদ নির্মাণের পথ প্রশস্ত করে।
১৭০ হিজরির ২০ রমজান আমির আব্দুর রহমান আদ-দাখিল কর্ডোভার বিখ্যাত জামে মসজিদের নির্মাণ কাজ সমাপ্ত করেন। (ইবনে আসির, আল-কামিল ফিত তারিখ, ৫/২১০, ১৯৮৭)
এই স্থাপত্যটি কেবল একটি ইবাদতখানা ছিল না, বরং এটি ছিল তৎকালীন ইউরোপের জ্ঞান ও বিজ্ঞানের প্রধান কেন্দ্র। দীর্ঘ কয়েক শতাব্দী ধরে এই মসজিদটি ইসলামি স্থাপত্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ নিদর্শনের মর্যাদা পেয়ে আসছে।
৮২৯ হিজরির ২০ রমজান (১৪২৬ খ্রিষ্টাব্দ) মামলুক সুলতান আল-আশরাফ বার্সবে-র নৌবাহিনী সাইপ্রাস দ্বীপ জয় করে কায়রোতে ফিরে আসে। এটি ছিল ক্রুসেডারদের বিরুদ্ধে মামলুকদের একটি বড় ধরনের সামরিক সফলতা।
সাইপ্রাসের রাজা জিমস (James) বন্দি অবস্থায় সুলতানের সামনে কায়রোতে নীত হন, যা তৎকালীন ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চলে মুসলিমদের আধিপত্য পুনরায় সুসংহত করে। (ইবনে কাসির, আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া, ১৪/৩৫০, ১৯৮৮)
১২৯ হিজরির ২০ রমজান ইন্তেকাল করেন প্রসিদ্ধ তাবেয়ি ও হাদিস বিশারদ ইমাম মালিক ইবনে দিনার (র.)। তিনি ছিলেন একজন প্রখ্যাত সুফি ও সাধক।
আবার ৫৯২ হিজরির একই দিনে বিদায় নেন বিখ্যাত ফকিহ ও মুহাদ্দিস ইবনে আসাকির (র.), যিনি তারিখু দামেস্ক বা দামেস্কের ইতিহাসের বিশাল কোষগ্রন্থ সংকলন করে অমর হয়ে আছেন। (ইমাম জাহাবি, সিয়ারু আলামিন নুবালা, ২০/৫৪০, ১৯৮৫)