ভালো কাজ শুরু করা সহজ, কিন্তু তাতে আমৃত্যু অবিচল থাকা বা ‘ইস্তিকামাহ’ বজায় রাখা বেশ কঠিন। শয়তানের প্ররোচনা আর জাগতিক ব্যস্ততার ভিড়ে অনেক সময় আমাদের নেক আমলের ধারাবাহিকতা নষ্ট হয়ে যায়।
আমলে দৃঢ়তা ও নিষ্ঠা ধরে রাখার জন্য পবিত্র কোরআনের ১০টি শক্তিশালী অনুপ্রেরণা তুলে ধরা হলো:
যারা একবার আল্লাহকে স্বীকার করে আমৃত্যু সেই পথে অবিচল থাকে, ফেরেশতারা তাদের সাহস ও অভয় দিতে জান্নাতের বার্তা নিয়ে অবতীর্ণ হন।
উচ্চারণ: ইন্নাল্লাযিনা কালু রাব্বুনাল্লাহু ছুম্মাস তাকামু তাতানাযযালু আলাইহিমুল মালাইকাহ।
অর্থ: নিশ্চয়ই যারা বলে, আমাদের রব আল্লাহ, অতঃপর তারা অবিচল থাকে, তাদের কাছে ফেরেশতারা অবতীর্ণ হয় এবং বলে, তোমরা ভয় পেয়ো না, দুঃখ করো না এবং সেই জান্নাতের সুসংবাদ গ্রহণ করো যার প্রতিশ্রুতি তোমাদের দেওয়া হয়েছিল। (সুরা ফুসসিলাত, আয়াত: ৩০)
দিনের পর দিন একই আদর্শে অবিচল থাকা একটি বড় পরীক্ষা। রাসুল (সা.)-কেও আল্লাহ এই দৃঢ়তা বজায় রাখার নির্দেশ দিয়েছেন।
উচ্চারণ: ফাস্তাকিম কামা উমিরতা ওয়া মান তাবা মা'আকা।
অর্থ: অতএব তুমি অবিচল থাকো যেভাবে তোমাকে আদেশ করা হয়েছে এবং যারা তোমার সঙ্গে তওবা করেছে তারাও। (সুরা হুদ, আয়াত: ১১২)
ইমানে দৃঢ়তা কেবল পরকালেই নয়, দুনিয়াতেও মানুষকে সব ধরনের মানসিক অস্থিরতা ও ভয় থেকে মুক্ত রাখে।
উচ্চারণ: ইন্নাল্লাযিনা ক–লু রাব্বুনাল্লাহু ছুম্মাস তাকামু ফালা খাওফুন আলাইহিম।
অর্থ: নিশ্চয়ই যারা বলে আমাদের রব আল্লাহ, তারপর অবিচল থাকে, তাদের কোনো ভয় নেই এবং তারা দুঃখিতও হবে না। (সুরা আহকাফ, আয়াত: ১৩)
নেক আমলে টিকে থাকতে হলে আধ্যাত্মিক জ্বালানি প্রয়োজন, যা নামাজ ও ধৈর্যের মাধ্যমে অর্জিত হয়।
উচ্চারণ: ইয়া আইয়্যুহাল্লাযিনা আমানুস তা'ঈনু বিসসাবরি ওয়াসসালাহ।
অর্থ: হে মুমিনগণ! ধৈর্য ও নামাজের মাধ্যমে সাহায্য চাও। নিশ্চয়ই আল্লাহ ধৈর্যশীলদের সঙ্গে আছেন। (সুরা বাকারা, আয়াত: ১৫৩)
বিপদ এলেও যারা নতি স্বীকার করে না এবং আল্লাহর পথে অবিচল থাকে, আল্লাহ তাদেরই ভালোবাসেন।
উচ্চারণ: ফামা ওয়াহানু লিমা আসাবাহুম ফি সাবিলিল্লাহি ওয়ামা দা'উফু।
অর্থ: আল্লাহর পথে তাদের যা কিছু বিপদ আসুক না কেন তারা দুর্বল হয়নি, দমেনি এবং নতি স্বীকার করেনি। (সুরা আলে ইমরান, আয়াত: ১৪৬)
নেক কাজে টিকে থাকতে হলে কেবল ধৈর্য নয়, বরং ধৈর্যের চরম পরাকাষ্ঠা প্রদর্শন করতে হয়।
উচ্চারণ: ইয়া আইয়্যুহাল্লাযিনা আমানুসবিরু ওয়া সাবিরু ওয়া রাবিতু।
অর্থ: হে ইমানদারগণ, ধৈর্য ধরো, ধৈর্যের প্রতিযোগিতা করো, সংযত থাকো এবং আল্লাহকে ভয় করো। (সুরা আলে ইমরান, আয়াত: ২০০)
নেক আমল তখনই নিয়মিত করা সহজ হয়, যখন অন্তরে আল্লাহ ও আখেরাতের ওপর বিশ্বাস থাকে সুদৃঢ়।
উচ্চারণ: ওয়া লাকিন্নাল বিররা মান আমানা বিল্লাহি ওয়াল ইয়াওমিল আখির।
অর্থ: কিন্তু প্রকৃত সৎকর্ম হলো সে-ই, যে ইমান আনে আল্লাহর ওপর এবং শেষ দিবসের ওপর। (সুরা বাকারা, আয়াত: ১৭৭)
মানুষ হিসেবে আমলের ধারাবাহিকতা কখনো ভেঙে যেতে পারে। তখন হতাশ না হয়ে তওবার মাধ্যমে আবার সেই পথে ফিরে আসাই হলো ইস্তিকামাহ।
উচ্চারণ: তুবু ইলাল্লাহি তাওবাতান নাসুহা।
অর্থ: হে ইমানদারগণ, তোমরা আল্লাহর কাছে খাঁটি তওবা করো। (সুরা আত-তাহরিম, আয়াত: ৮)
একা চলা কঠিন, তাই নেক আমলে অবিচল থাকতে হলে একে অপরকে সত্য ও ধৈর্যের উপদেশ দিতে হবে।
উচ্চারণ: ওয়া তাওয়াসাও বিল হাক্কি ওয়া তাওয়াসাও বিসসবর।
অর্থ: (সফল তারা যারা) একে অপরকে সত্যের উপদেশ দেয় এবং একে অপরকে ধৈর্যের উপদেশ দেয়। (সুরা আসর, আয়াত: ৩)
কেউ যদি আন্তরিকভাবে আমলের পথে টিকে থাকার চেষ্টা করে, তবে আল্লাহ নিজেই তার জন্য সহজ পথগুলো খুলে দেন।
উচ্চারণ: ওয়াল্লাযিনা জাহাদু ফিনা লানাহদিয়ান্নাহুম সুবুলানা।
অর্থ: আর যারা আমার পথে সংগ্রাম করে, আমি অবশ্যই তাদের আমার পথসমূহ দেখাবো। (সুরা আনকাবুত, আয়াত: ৬৯)
পরিশেষে, নেক আমলে অবিচল থাকা এক প্রকার নীরব জিহাদ। বড় আমল করে পরে ছেড়ে দেওয়ার চেয়ে অল্প আমল নিয়মিত করাই আল্লাহর কাছে বেশি প্রিয়। আল্লাহ আমাদের সবাইকে তাঁর সন্তুষ্টির পথে অবিচল থাকার তৌফিক দিন। আমিন।
বি: দ্র: সাধারণ পাঠকদের সুবিধার্থে এখানে বাংলা উচ্চারণ দেওয়া হয়েছে। তবে বিশুদ্ধ উচ্চারণের জন্য মূল আরবি আয়াতের সাহায্য নেওয়া বাঞ্ছনীয়।