ইতিহাসে ২৪ রমজান

জ্ঞানতাত্ত্বিক বিপ্লব এবং হারানো মুসলিম ঐতিহ্যের সন্ধিক্ষণ

২৪ রমজান ইসলামি ইতিহাসের এমন এক দিন, যা তরবারির ঝনঝনানির চেয়ে কলমের কালির শক্তি এবং জ্ঞানতাত্ত্বিক বিপ্লবের কথা বেশি মনে করিয়ে দেয়।

এই দিনে একদিকে যেমন মুসলিম বিশ্বের অন্যতম বড় লাইব্রেরির যাত্রা শুরু হয়, তেমনি আধুনিক ইতিহাসের মহান গবেষক ও সংস্কারকদের বিদায় উম্মাহর জ্ঞানজগতকে শোকাতুর করেছে।

ক্ষমতার পালাবদলের চেয়েও এই দিনটি জ্ঞানচর্চার কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে ইতিহাসের পাতায় স্থায়ী আসন করে নিয়েছে।

লাইব্রেরি অব তিউনিসিয়ার যাত্রা

৮৫০ হিজরির ২৪ রমজান হাফসিদ রাজবংশের সুলতান আবু আমর ওসমান তিউনিসের বিখ্যাত জয়তুনা মসজিদের পাশে ‘আল-আব্দালিয়া’ লাইব্রেরি প্রতিষ্ঠা করেন। (ইবনে আসির, আল-কামিল ফিত তারিখ, ১০/৩১০, ১৯৮৭)

এটি ছিল তৎকালীন উত্তর আফ্রিকার অন্যতম বৃহৎ গ্রন্থাগার। হাজারো দুর্লভ পাণ্ডুলিপি সম্বলিত এই লাইব্রেরিটি তিউনিসিয়াকে মুসলিম বিশ্বের একটি প্রধান সাংস্কৃতিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক কেন্দ্রে পরিণত করেছিল।

সাফাভি ও অটোমান দ্বন্দ্ব

৯২০ হিজরির ২৪ রমজান অটোমান ও সাফাভি সাম্রাজ্যের মধ্যকার দ্বন্দ্বে একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড় আসে।

সুলতান সেলিম ইয়াবুজ এই সময়ে তাঁর পূর্বদিকের সীমান্ত সুরক্ষায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করেন, যা মুসলিম বিশ্বের মানচিত্র ও ধর্মীয় ভূ-রাজনীতিতে দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব ফেলে। (ইবনে কাসির, পরবর্তী সংযুক্তি, আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া, ১৫/৩৫০, ১৯৮৮)

এই দিনের গৃহীত সামরিক ও রাজনৈতিক সিদ্ধান্তগুলোই পরবর্তী কয়েক শতাব্দী পর্যন্ত আনাতোলিয়া ও মেসোপটেমিয়ার ভাগ্য নির্ধারণ করে দেয়।

মুহাম্মদ তাকিউদ্দীন হিলালির মৃত্যু

১৪০৭ হিজরির ২৪ রমজান (১৯৮৭ খ্রিষ্টাব্দ) মরক্কোর প্রখ্যাত আলেম ও বহুভাষাবিদ মুহাম্মদ তাকিউদ্দীন হিলালি ইন্তেকাল করেন। তিনি ছিলেন আধুনিক যুগের এক অনন্য মুজাহিদ ও শিক্ষক।

বিশেষ করে ইংরেজি ভাষায় পবিত্র কোরআনের অনুবাদ (দ্য নোবেল কুরআন) এবং ইসলামি আকিদা প্রচারের ক্ষেত্রে তাঁর অবদান বিশ্বজুড়ে স্বীকৃত।

তিনি মদিনা ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ছিলেন এবং তাঁর মাধ্যমেই পশ্চিমা বিশ্বের বহু মানুষের কাছে ইসলামের প্রকৃত রূপ পৌঁছেছে।

নেজিপ ফাজিল কিসাকুরেকের বিদায়

১৪০৩ হিজরির ২৪ রমজান (১৯৮৩ খ্রিষ্টাব্দ) তুরস্কের অন্যতম শ্রেষ্ঠ কবি ও চিন্তাবিদ নেজিপ ফাজিল কিসাকুরেক ইন্তেকাল করেন। তিনি কামালবাদ বা সেক্যুলারিজমের প্রবল জোয়ারের মধ্যে তুরস্কে ইসলামি রেনেসাঁ বা পুনর্জাগরণের ডাক দিয়েছিলেন।

তাঁর ‘বুইউইক দোগু’ বা ‘মহা প্রাচ্য’ আন্দোলন তুরস্কের তরুণ প্রজন্মের মধ্যে ইসলামি আদর্শের বীজ বপন করেছিল। বর্তমান তুরস্কের অনেক রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক নেতার অনুপ্রেরণা ছিলেন এই কবি।