ইতিহাসের এই দিনে (১৮ রমজান) বিদায় নেন মুসলিম সেনাপতি খালিদ ইবনে ওয়ালিদ (রা.)। একই সময় মুসলিম বিশ্বের ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুতে ঘটেছিল বড় বড় পালাবদল।
৪০ হিজরির ১৮ রমজান (৬৬১ খ্রিষ্টাব্দ) মুসলিম উম্মাহ তাঁদের নেতৃত্বের হাল তুলে দেয় আল্লাহর রাসুল (সা.)-এর দৌহিত্র হজরত হাসান (রা.)-এর হাতে। কুফাবাসী তাঁর হাতে খেলাফতের বয়াত গ্রহণ করেন। (ইমাম জাহাবি, সিয়ারু আলামিন নুবালা, ৩/২৪৫, ১৯৮৫)
ঐতিহাসিকদের মতে, হাসান ইবনে আলির এই ছয় মাসের খেলাফত ছিল মূলত খেলাফতে রাশেদার পূর্ণতাদানকারী অংশ।
হাদিস এসেছে, আল্লাহর রাসুল (সা.) বলেছেন, “আমার উম্মতের মধ্যে খেলাফত থাকবে ত্রিশ বছর, এরপর রাজতন্ত্র শুরু হবে।” (সুনানে তিরমিজি, হাদিস: ২২২৬)
হিসাব করলে দেখা যায়, প্রথম চার খলিফার শাসনকাল ছিল ২৯ বছর ৬ মাস। হাসান (রা.)-এর ছয় মাসের খেলাফত যুক্ত হওয়ার মাধ্যমেই নবুয়তের সেই ৩০ বছরের সময়কাল পূর্ণ হয়।
পরে তিনি মুসলিমদের পরস্পরে রক্তপাত বন্ধে মুয়াবিয়া (রা.)-এর কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করেন। (ইবনে কাসির, আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া, ৮/১৬, ১৯৮৮)
২১ হিজরির ১৮ রমজান (৬৪২ খ্রিষ্টাব্দ) সিরিয়ার হিমস শহরে চিরবিদায় নেন ইসলামের ইতিহাসের বীর খালিদ ইবনে ওয়ালিদ (রা.)। (ইবনে কাসির, আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া, ৭/১১৩, ১৯৮৮)
মৃত্যুর আগে তিনি আক্ষেপ করে বলেন, “আমার শরীরে এক ইঞ্চি জায়গাও নেই যেখানে বর্শার আঘাত লাগেনি; অথচ আজ আমাকে বিছানায় শুয়ে উটের মতো মরতে হচ্ছে।” (ইবনে হিশাম, আস-সিরাতুন নাবাবিয়্যাহ, ৪/২৬০, ১৯৫৫)
আন্দালুস বা মুসলিম স্পেনের ছোট ছোট মুসলিম রাজ্যগুলোর শাসকরা (মুলুকুত তাওয়াইফ) অনৈক্যে লিপ্ত ছিলেন, কিন্তু ৪৮৪ হিজরির ১৮ রমজান (১০৯১ খ্রিষ্টাব্দ) উত্তর আফ্রিকার শাসক ইউসুফ ইবনে তাশফিন আন্দালুসকে পুনরায় এক পতাকার নিচে নিয়ে আসেন। (ইবনে আসির, আল-কামিল ফিত তারিখ, ৮/১৮০, ১৯৮৭)
ইমাম গাজ্জালি (র.) সহ তৎকালীন বড় বড় আলেমদের ফতোয়ার ভিত্তিতে তিনি এই পদক্ষেপ নেন যেন খ্রিষ্টানদের অগ্রযাত্রা থামানো যায়।
ঠিক ৫৫ বছর পর ৫৩৯ হিজরির ১৮ রমজান (১১৪৫ খ্রিষ্টাব্দ) মুরাবিতুন সাম্রাজ্যের পতন ঘটে।
এই দিনে মুরাবিতুনদের শেষ বড় শাসক তাশফিন ইবনে আলি ওরান শহরের কাছে নিহত হন, যা মুওয়াহহিদুন সাম্রাজ্যের উত্থান নিশ্চিত করে। (ইবনে আসির, আল-কামিল ফিত তারিখ, ৯/১৪০, ১৯৮৭)
এই যুগের পরেই ইবনে রুশদ ও ইবনে তুফাইলের মতো দার্শনিকদের স্বর্ণালি সময়ের সূচনা হয়।
১২৪ হিজরির ১৮ রমজানে বিদায় নেন ইমাম মুহাম্মদ ইবনে মুসলিম আজ-জুহরি, যিনি ছিলেন হাদিস সংকলনের অন্যতম পথিকৃৎ।
তাঁর অন্তিম আকাঙ্ক্ষা ছিল, যেন তাঁকে ফিলিস্তিনের এক জনাকীর্ণ রাস্তার পাশে দাফন করা হয়, যাতে পথচারীরা তাঁর জন্য দোয়া করতে পারে। (ইমাম জাহাবি, সিয়ারু আলামিন নুবালা, ৫/৩২০, ১৯৮৫)
আবার ৩৯৮ হিজরির একই দিনে ইন্তেকাল করেন মিসরের বিখ্যাত জ্যোতির্বিজ্ঞানী ইবনে ইউনুস আল-মিসরি।
তিনি পেন্ডুলামের নীতির প্রাথমিক উদ্ভাবক হিসেবে পরিচিত এবং তাঁর তৈরি করা ‘জিজ আল-হাকিমি’ গ্রহ-নক্ষত্রের গতিবিধির এক নিখুঁত গাণিতিক ছক হিসেবে আজও স্বীকৃত। (ইবনে কাসির, আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া, ১১/৩৪০, ১৯৮৮)