শেষ ওভারের শেষ তিন বলে স্কোর—১২৭/৭, ১২৭/৮ ও ১২৭/৯!
শেষ তিন বলে রানের চাকা আটকে টানা ৩ উইকেট তুলে নেওয়ার কারিগর নাথান এলিস। নামটা অপরিচিত লাগছে? স্বাভাবিক। অস্ট্রেলিয়ার হয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে আজকের ম্যাচ দিয়েই অভিষিক্ত হলেন এ পেসার।
পেসার রাইলি মেরেডিথের জায়গায় রিজার্ভ দল থেকে উঠে এসে অভিষেক ঘটেছে তাঁর। আর অভিষেকেই দারুণ এক রেকর্ডের দেখা পেলেন এলিস—টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে প্রথম বোলার হিসেবে অভিষেকেই পেলেন হ্যাটট্রিকের দেখা!
১৯.৩ ওভারে বাংলাদেশের স্কোর ৬ উইকেটে ১২৭। শেষ ওভারটি করছিলেন অস্ট্রেলিয়ার ৯৮তম ক্রিকেটার হিসেবে টি-টোয়েন্টিতে অভিষিক্ত এলিস। ৫২ রানে অপরাজিত মাহমুদউল্লাহকে বোল্ড আউট করে আন্তর্জাতিক ময়দানে প্রথম উইকেটের দেখা পান ২৬ বছর বয়সী এ পেসার।
কে জানত, পরের দুই বলেই দেখা পাবেন উইকেটের। পরের বলে মোস্তাফিজুর রহমানকে বানালেন মিচেল মার্শের ক্যাচ। ওভারের শেষ বলেও মেহেদী হাসানকে ক্যাচ বানিয়েছেন ডিপ স্কয়ার লেগে। অথচ ৩.৩ ওভার পর্যন্ত ৩৪ রান খরচায় উইকেটশূন্য ছিলেন এলিস।
নিজের কোটার শেষ ৩ বলে ৩ উইকেট নিয়ে অভিষেকেই হ্যাটট্রিকের ওয়ান্ডারল্যান্ডে ঢুকে গেলেন এলিস। বাংলাদেশের ইনিংসও থেমেছে ৯ উইকেটে ১২৭ রানে।
টি-টোয়েন্টিতে এর আগে কেউ অভিষেকে হ্যাটট্রিকের দেখা পাননি। ওয়ানডেতে অভিষেকে এ পর্যন্ত চারজন অভিষেকে হ্যাটট্রিকের দেখা পেয়েছেন। ২০১৪ সালে ঢাকায় জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে অভিষেকে হ্যাটট্রিক করেছিলেন বাংলাদেশের স্পিনার তাইজুল ইসলাম।
পরের বছর ঢাকায় বাংলাদেশের বিপক্ষে অভিষেকে হ্যাটট্রিক করেন দক্ষিণ আফ্রিকার পেসার কাগিসো রাবাদা। ২০১৭ সালে গলে জিম্বাবুয়ের অভিষেকে হ্যাটট্রিক করেন শ্রীলঙ্কার স্পিনার ওয়ানিন্দু হাসারাঙ্গা। পরের বছর বাংলাদেশের বিপক্ষে অভিষেকে হ্যাটট্রিকের দেখা পান শ্রীলঙ্কারই পেসার শেহান মাধুশঙ্কা।
টেস্টে ১৯৩০ সালে ক্রাইস্টচার্চে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে টেস্ট অভিষেকে হ্যাটট্রিক করেন ইংল্যান্ডের সাবেক পেসার মরিস অ্যালম। ১৯৭৬ সালে পাকিস্তানের বিপক্ষে অভিষেকে একই নজির গড়েন নিউজিল্যান্ডের সাবেক অফ স্পিনার পিটার পেথেরিক। ১৯৯৪ সালে রাওয়ালপিন্ডিতে পাকিস্তানের বিপক্ষে টেস্ট অভিষেকে হ্যাটট্রিক করেন অস্ট্রেলিয়ার সাবেক পেসার ডেমিয়েন ফ্লেমিং।