চোট-বিতর্কের ছায়া নেই দলে

চোটের কারণেই অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে খেলতে পারেননি সাইফউদ্দিন। ছবি: প্রথম আলো
চোটের কারণেই অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে খেলতে পারেননি সাইফউদ্দিন। ছবি: প্রথম আলো

পার্ক প্লাজা হোটেলের পাশেই ‘জ্যাপ’। অথেনটিক থাই রেস্টুরেন্ট। নটিংহামের এই কদিনে ঝাল খাবারের জন্য বাংলাদেশ দলের কয়েকজন খেলোয়াড়ের বেশ প্রিয় হয়ে উঠেছে রেস্টুরেন্টটি।

পরশু রাতে সেই ‘জ্যাপ’ থেকে হোটেলে ফিরে ফিজিও তিহান চন্দ্রমোহনের সঙ্গে দেখা তামিম ইকবালের। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ব্যাটিংয়ের সময় কুঁচকিতে টান পড়েছে। ফিজিও চোটের জায়গাটা দেখে কিছু একটা বললেন। এরপর সামান্য খুঁড়িয়ে টিম রুমের দিকে চলে গেলেন তামিম। সমস্যা বেশি গুরুতর নয় বলেই মনে হলো। তামিম টিম রুমে গিয়ে একটু পরই মোহাম্মদ মিঠুনের সঙ্গে টেবিল টেনিস খেলায় মেতে ওঠেন।

আয়ারল্যান্ড সফর থেকে হিসাব করলে ৫০ দিনের বেশি হয়ে গেছে বাংলাদেশ দল শুধু খেলা আর অনুশীলনের মধ্যে আছে। টুকটাক চোট-আঘাত অনেকেরই সঙ্গী এখন। এর মধ্যে পরশু অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে হারার পর সবচেয়ে বেশি আলোচনায় পেসার মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন আর মোসাদ্দেক হোসেনের চোট। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ম্যাচে ফিল্ডিং করতে গিয়ে মোসাদ্দেক চোট পান বাম কাঁধে আর সাইফউদ্দিন পিঠের দিকে। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে তাঁদের খেলতে না পারার কারণ এই চোটই।

সাইফউদ্দিন আর মোসাদ্দেকের চোটের বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন দলের মধ্যেই। তাঁদের চোট খেলায় বাধা হওয়ার মতো কিছু নয় বলে ধারণা কারও কারও। ম্যাচের আগের রাতেই দলের এক সদস্যের সন্দেহ, অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটসম্যানদের এড়িয়ে যেতে তাঁরা বোধ হয় ইচ্ছা করেই খেলতে চাচ্ছেন না। কিন্তু এ নিয়ে সংশ্লিষ্ট খেলোয়াড় বা ফিজিও কারোরই মন্তব্য পাওয়া যাচ্ছিল না তখন। তবে কাল সকালে বিসিবির ক্রিকেট পরিচালনা প্রধান আকরাম খান টিম হোটেলে বসে যা বললেন, তাতে সাইফউদ্দিনের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ খুব একটা সমর্থন পাচ্ছে না, ‘আমি যতটুকু জেনেছি, সাইফউদ্দিনের কাঁধে সমস্যা আছে। ও বোলিং এবং থ্রো করতে পারছে না। ঠিক হতে সময় লাগবে। পরের ম্যাচে মোসাদ্দেকের খেলা যতটা নিশ্চিত, সাইফউদ্দিনের কিন্তু ততটা নিশ্চিত নয়। ওর সমস্যা আছে বলেই খেলেনি। আর যদি কোনো খেলোয়াড় বলে তার ব্যথা আছে, সেটাকে গুরুত্ব দিতেই হবে।’

নাম প্রকাশ না করার শর্তে দলের এক সিনিয়র ক্রিকেটারও বিষয়টাকে এই দৃষ্টিকোণ থেকে দেখতে চাইলেন, ‘আমার মনে হয় না ক্রিকেট বিশ্বকাপের মতো টুর্নামেন্টে কেউ অকারণে চোটের কথা বলবে। আমরা যখন ভালো করছি, তখন এ ধরনের আলোচনা হওয়া ঠিক নয়। এখানে সবাই খেলতেই এসেছে।’

মোসাদ্দেকের চোট নিয়ে ম্যানেজার খালেদ মাহমুদও মোটামুটি সংশয়হীন, ‘ওর যে কাঁধে চোট আছে, আমরা আগে থেকেই জানি। চোট পেয়ে এসে সে ড্রেসিংরুমে বরফও দিয়েছে। অস্ট্রেলিয়া ম্যাচের আগে সেটা আরও বাড়া অস্বাভাবিক নয়।’ তারপরও দুই ক্রিকেটারের চোটের ব্যাপারে আরও নিশ্চিত হতে সাউদাম্পটনে পৌঁছে ফিজিওর সঙ্গে কথা বলবেন বলে জানিয়েছেন আকরাম খান। কথা বলবেন দুই ক্রিকেটারের সঙ্গেও।

সাইফউদ্দিনের পিঠের চোটটা নতুন হলেও আগে থেকেই তিনি টেনিস এলবোর সমস্যায় ভুগছিলেন। নিউজিল্যান্ড সফর থেকে ফেরার পর ফিজিওর পরামর্শে আরও কয়েকজন ক্রিকেটারের মতো তাঁকেও দুই সপ্তাহের ছুটি দিয়েছিলেন কোচ স্টিভ রোডস। ছুটি কাটাতে সাইফউদ্দিন চলে যান ফেনীর নিজ বাড়িতে। কিন্তু দুই দিন না থাকতেই ঢাকা থেকে জরুরি তলব। আবাহনীর হয়ে প্রিমিয়ার টি-টোয়েন্টি খেলতে ফিরে আসেন ঢাকায়। প্রায় বিরতিহীনভাবে খেলেন প্রিমিয়ার ক্রিকেট লিগেও। মেডিকেল ফিটনেস ছাড়া খেলা যাবে না, ফিজিওর এমন নিষেধের পরও সাইফউদ্দিনকে খেলানোয় কোচও এ নিয়ে বেশ অসন্তোষ প্রকাশ করেছিলেন। আর সাইফউদ্দিন যে আসলেই খেলার মতো ফিট ছিলেন না, সেটি তখন তাঁর কথায়ও পরিষ্কার ফুটে উঠেছিল।

লিগের মাঝে এই প্রতিবেদককে সাইফউদ্দিনই একদিন বলেছিলেন, বোলিং-ব্যাটিংয়ে সমস্যা না হলেও দূর থেকে থ্রো করতে পারছেন না। সে জন্য লিগের খেলায় নিয়মিত ৩০ গজের ভেতরে ফিল্ডিং করে গেছেন তিনি। মজার ব্যাপার হলো, সাইফউদ্দিন যে দলের হয়ে চোট নিয়েও লিগ খেলে গেছেন, সেই দলের কোচ খালেদ মাহমুদ বিশ্বকাপে জাতীয় দলের ম্যানেজার। অধিনায়ক মাশরাফি বিন মুর্তজা ছিলেন আবাহনীতে সাইফউদ্দিনের সতীর্থ।

সাইফউদ্দিন-মোসাদ্দেকের চোট নিয়ে দলের মধ্যে আলোচনা থাকলেও সেটি তেমন নেতিবাচক ছায়া ফেলতে পারছে না দলের মধ্যে। অস্ট্রেলিয়ার কাছে হারের পর এখন বাকি তিন ম্যাচ নিয়েই চিন্তা সবার। চোট-বিতর্ক সেই ম্যাচগুলোতে কোনো কাজেই আসবে না। কাজে লাগবে শুধু অস্ট্রেলিয়ার ৩৮১ রান তাড়া করে ৩৩৩ রান করতে পারার আত্মবিশ্বাস।