
ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে দ্বিতীয় টেস্টেও অনিশ্চিত তামিম ইকবাল। কাঁধের চোটে খেলা হচ্ছে না ইমরুল কায়েসেরও।
এশিয়া কাপে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে উদ্বোধনী ম্যাচটিতে তামিম ইকবাল যা করেছিলেন সেটিকে ‘দুর্জয় সাহস’ বললেও বোধ হয় কম বলা হয়। আহত বাঁ হাতের গ্লাভস থেকে বেরিয়ে থাকা আঙুলের ছবিটা একবার মনে করুন! আজ থেকে বহু সময় সামনে এগিয়ে গিয়ে যদি বাংলাদেশের ক্রিকেটে সাহস নামক অনুষঙ্গটিকে খোঁজা হয় তো চোখে ভাসবে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ওই তামিমের এক হাতে ব্যাটিংয়ে নেমে পড়ার ছবিটিই।
তামিম চোটের কারণে দলের বাইরে গেছেন আগেও, তবু এবার তাঁর ফেরার অপেক্ষাটা দীর্ঘতর মনে হচ্ছে হয়তো এ ঘটনার কারণেই। কিন্তু কোনো কিছু খুব বেশি করে চাইলে যেমন তা পাওয়া যায়, তেমনি সেই আরাধ্য কিছুর জন্য অপেক্ষাটাও মনে হয় দীর্ঘতর। তামিম ইকবালের ফেরাটাও যেন সে রকম হয়ে যাচ্ছে। বারবার কাছে এসে সেটি পিছিয়ে যাচ্ছে।
এশিয়া কাপের পর জিম্বাবুয়ে সিরিজ পেরিয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজ সিরিজে অপেক্ষা ঘুচে যাওয়ারই কথা ছিল। সাকিব আল হাসানও বাইরে ছিলেন সেই এশিয়া কাপ থেকেই। ক্যারিবীয়দের বিপক্ষে টেস্টে ফেরার সম্ভাবনা তাঁর চেয়ে তামিমেরই ছিল বেশি। তামিম ইকবাল নিজেই জানিয়েছিলেন, ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে টেস্ট সিরিজ দিয়ে ফিরতে পারেন আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে। কিন্তু জিম্বাবুয়ে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টের তৃতীয় দিনে আকস্মিক আরেকটি দুঃসংবাদ এসে ভন্ডুল করে দিল সব প্রত্যাশা। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে প্রথম টেস্টে সাকিব আল হাসান ফিরলেন ঠিকই, হঠাৎ পাওয়া শরীরের পাশের পেশির চোটে আর ফেরা হলো না তামিমের।
দ্বিতীয় টেস্টে তাঁকে ফিরে পাওয়ার প্রত্যাশার কথা সাকিব যখন জানালেন প্রথম টেস্ট শেষেই, তখনই আবার আরেক অনিশ্চয়তার খবর। মিরপুরে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টেও বাঁহাতি ওপেনারকে ফিরে পাওয়াটা অনিশ্চিত। কাল মিরপুরে প্রধান নির্বাচক মিনহাজুল আবেদীন সংবাদমাধ্যমকে বলেছেন, ‘এখনো ফিজিওর কাছে থেকে আমরা পুরোপুরি আপডেট পাইনি। যতটুকু জেনেছি ও দ্রুতই চোট কাটিয়ে উঠছে। আশা করছি, ও যদি দ্বিতীয় টেস্ট খেলতে না পারে তাহলে ওয়ানডে সিরিজের প্রথম ম্যাচ থেকেই খেলবে।’
প্রধান নির্বাচকের কথার ধন্দ থেকে তামিমকে দ্বিতীয় টেস্টেও পাওয়ার ব্যাপারে সংশয় জাগে। বিসিবির চিকিৎসকেরা অবশ্য আরেকটু সময় নিয়ে তবেই নিজেদের মত জানাতে চান। স্পষ্ট করে বললে, পেস বলে তামিম ব্যাটিং শুরু করার পর। তামিম ইকবাল নিজেও এ বিষয়ে কিছু বলতে চান না এখনই। কাল প্রথম আলোকে বলেছেন, ‘আজ (কাল) পর্যন্ত স্পিন বোলিংয়ে ব্যাট করেছি। কোনো ব্যথা অনুভব করিনি। পেস বলে ব্যাট করে দেখি কী হয়। কাল (আজ) যদি ব্যথা না থাকে তাহলে পেস বলে ব্যাটিং শুরু করতে পারি।’
মিরপুরে তামিমের ফিরে আসা যেখানে অনিশ্চিত, সেখানে ইমরুল কায়েসেরও খেলার সম্ভাবনা নেই বললেই চলে। চট্টগ্রামে প্রথম টেস্ট খেলার সময় কাঁধে চোট পেয়েছেন এই বাঁহাতি ওপেনার। বিসিবির একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র জানিয়েছে, ইমরুল থাকছেন না ৩০ নভেম্বর শুরু হতে যাওয়া মিরপুর টেস্টে। তাঁর জায়গায় অভিষেক হতে পারে সদ্য সমাপ্ত জাতীয় লিগে সর্বোচ্চ ৬৪৮ রান করা সাদমান ইসলামের। চট্টগ্রামে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে প্রথম টেস্ট শুরুর আগের দিন তাঁকে নেওয়া হয় দলে।
ইমরুল কায়েসের চোট নিয়ে বিসিবির চিকিৎসক দেবাশিস চৌধুরী বলেছেন, ‘ইমরুলের কাঁধে চোট আছে। আমরা এখন ওর বিষয়টি দেখছি। ৭২ ঘণ্টা হলে আমরা বিষয়টি বুঝতে পারব। চোটটা যদি গুরুতর হয় ওর দ্বিতীয় টেস্ট খেলাটা কঠিন হবে। যদি মিরপুরে খেলতে না পারে, ওকে ওয়ানডে সিরিজের জন্য প্রস্তুত করব আমরা।’