৩৮.২ ওভার, বাংলাদেশের রান ৬ উইকেটে ১১৬। স্কোরবোর্ডের এই চেহারাতেই স্পষ্ট, আজ শুরু সিলেট টেস্টের প্রথম কয়েক ঘণ্টায় ছিল পাকিস্তানি বোলারদের দাপট।
তবে সেই দাপুটে পাকিস্তানি বোলিংয়ের বিপরীতে দাঁড়িয়েই ‘একলা চলো রে’ নীতিতে সেঞ্চুরি করেছেন লিটন দাস। তাঁর সেঞ্চুরিতেই বাংলাদেশ প্রথম ইনিংসে পেয়েছে বলার মতো সংগ্রহ, ২৭৮।
টেস্টে লিটনের এটি ষষ্ঠ সেঞ্চুরি, পাকিস্তানের বিপক্ষেই এর আগে করেছেন দুটি। ২০২৪ সালে রাওয়ালপিন্ডিতে এই পাকিস্তানের বিপক্ষেই দ্বিতীয় টেস্টে ২৬ রানে ৬ উইকেট হারানো দলকে সেঞ্চুরি করে পথ দেখিয়েছিলেন লিটন। খেলেছিলেন ১৩৮ রানের ইনিংস।
সেটি অবশ্যই বিশেষ কিছুই হয়ে থাকবে লিটনের ক্যারিয়ারে। তবে আজকেরটিও কম যাবে না নিশ্চিতভাবেই। ২০২৪ সালের সেই সেঞ্চুরিতে ৭৮ রানের ইনিংস খেলে লিটনকে সঙ্গ দিয়েছিলেন মেহেদী হাসান মিরাজ।
কিন্তু আজ সিলেট আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামে পরিস্থিতিটা ছিল ভিন্ন। মিরাজের মতো কেউই ছিলেন না লিটনকে সঙ্গে দিতে। আজ লিটনের সঙ্গী হয়েছেন কখনো তাইজুল ইসলাম, কখনো তাসকিন আহমেদ, কখনোবা শরীফুল ইসলাম। এঁদের সবাইকে আগলে রেখে অন্য প্রান্তে অনেকটা ওয়ানডে মেজাজে খেলেই সেঞ্চুরি করেছেন লিটন, খেলেছেন ১৫৯ বলে ১২৬ রানের ইনিংস।
লিটন ওয়ানডে মেজাজে ব্যাটিং করেছেন ইনিংসের শুরু থেকেই। তিনি যখন উইকেটে আসেন, বাংলাদেশের রান ছিল ৪ উইকেটে ১০৬। অষ্টম ব্যাটসম্যান তাইজুলকে সঙ্গী হিসেবে যখন পেলেন, তখন পর্যন্তও লিটনের ব্যক্তিগত রান মাত্র ২। মানে তিনি নিজেও তখনো থিতু হননি।
কিন্তু এরপরও অনেকটা ‘একলা চলো’ নীতিতেই খেলে গেছেন লিটন। ওভারের বেশির ভাগ বল নিজে খেলেছেন। ওভারের শুরুর দিকে ফিরিয়ে দিয়েছেন সিঙ্গেল। পঞ্চম বা ষষ্ঠ বলে সিঙ্গেল বের করে প্রান্ত বদলেছেন যেন পরের ওভারের শুরুর দিকে নিজে ব্যাটিং প্রান্তে থাকতে পারেন। এই কৌশলে খেলেই করেছেন সেঞ্চুরি, নবম ব্যাটসম্যান হিসেবে আউট হয়েছেন হাসান আলীকে পুল করতে গিয়ে ডিপ স্কয়ার লেগে আবদুল্লাহ ফজলের হাতে ক্যাচ দিয়ে।
কৃতিত্ব লিটনের সঙ্গীদেরও প্রাপ্য। সপ্তম উইকেটে লিটন–তাইজুলের জুটিতে আসে ৬০ রান, যেখানে ৪০ বলে ১৬ রান তাইজুলের। তাসকিনের সঙ্গে জুটিতে ৩৮, এরপর নবম উইকেট জুটিতে লিটন–শরীফুলে যোগ হয় আরও ৬৪ রান। যে যখন উইকেটে এসেছেন, লিটনকে সঙ্গ দেওয়ার চেষ্টাই করে গেছেন। লিটনের আউটের পর শেষ ব্যাটসম্যান নাহিদ রানা টিকেছেন ৩ বল।
লিটনের ১২৬ রানের দুর্দান্ত ইনিংসের দিনে আফসোসে পুড়তে পারেন নাজমুল হোসেন ও মুশফিকুর রহিম। দুজনেই আউট হয়েছেন থিতু হয়ে। মুশফিক করেছেন ২৩, নাজমুল ২৯। আফসোস করতে পারেন মুমিনুল হক আর অভিষিক্ত তানজিদ হাসানও। মুমিনুল করেছেন ২২ রান, তানজিদ ২৬; অর্থাৎ বড় ইনিংসের সম্ভাবনা মাটি হয়েছে দুজনেরই।
পাকিস্তান টসে জিতে ফিল্ডিং নেওয়ার পর ইনিংসের দ্বিতীয় বলেই স্লিপে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন শূন্য রানে মাহমুদুল হাসান। তবে এরপর তানজিদ–মুমিনুল ইতিবাচক ক্রিকেটই খেলছিলেন। তানজিদ যখন ২৬ রানে আউট হন, তখন বাংলাদেশের রান ১০ ওভারে ৪৪।
দুজনকেই অবশ্য ফিরতে হয়েছে প্রথম সেশনে। তানজিদ মোহাম্মদ আব্বাসের বলে ফিরতি ক্যাচ দিয়ে ও মুমিনুল বোল্ড হয়েছেন খুররম শেহজাদের দারুণ এক ডেলিভারিতে। প্রথম সেশনের চেয়ে অবশ্য পাকিস্তানের দাপট দ্বিতীয় সেশনেই বেশি দেখা গেছে। ওই সেশনে প্রথম ১৫ রান তুলতেই নাজমুল, মুশফিক ও মিরাজ ফিরে যান।
বাংলাদেশের ইনিংসের বাকি গল্পটা বলতে গেলে লিটনের একার হাতে লেখা। তাঁর দুর্দান্ত সেঞ্চুরিতে ঢাকা পড়ে গেছে শেহজাদের ৪ উইকেট আর আব্বাসের ৩ উইকেট নেওয়া দুর্দান্ত বোলিং।
আজ শেষবেলায় ব্যাটিংয়ে নেমে শুরুটা পাকিস্তানও ভালোই করেছে। ৬ ওভারে বিনা উইকেটে ২১ রান, দুই ওপেনার আজান আওয়াইস ও আবদুল্লাহ ফজল ছিলেন সাবলীল।
বাংলাদেশ ১ম ইনিংস: ৭৭ ওভারে ২৭৮ (লিটন ১২৬, নাজমুল ২৯, তানজিদ ২৬, মুশফিক ২৩, মুমিনুল ২২; খুররম ৪/৮১, আব্বাস ৩/৪৫, হাসান ২/৪৯)। পাকিস্তান ১ম ইনিংস: ৬ ওভারে ২১/০ (আওয়াইস ১৩*, ফজল ৮*)।