২০২৫ বিসিবি নির্বাচনে পরিচালক পদে জিতে পরে সভাপতি হন আমিনুল ইসলাম
২০২৫ বিসিবি নির্বাচনে পরিচালক পদে জিতে পরে সভাপতি হন আমিনুল ইসলাম

বিসিবির নির্বাচন নিয়ে তদন্ত কমিটির কাজ কত দূর

‘আমরা এখনো কনক্লুসিভ কিছুতে পৌঁছাইনি। কনক্লুসিভ কিছু হলে আপনাদের জানিয়ে দেব।’ মুঠোফোনে দুই বাক্যে কথা শেষ করে দিতে চাইলেন সুপ্রিম কোর্টের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি এ কে এম আসাদুজ্জামান।

গত বছরের ৬ অক্টোবর অনুষ্ঠিত বিসিবির আলোচিত নির্বাচন নিয়ে শুরু থেকেই ‘অনিয়ম’ ও ‘কারসাজি’র অভিযোগ করে আসছে বিভিন্ন ক্লাব এবং জেলা ও বিভাগের সংগঠকদের একটি অংশ। অভিযোগ খতিয়ে দেখতে ১১ মার্চ জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ (এনএসসি) যে পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করে, অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি এ কে এম আসাদুজ্জামান তার প্রধান।

তদন্ত চলমান অবস্থায় বিষয়টি নিয়ে সংবাদমাধ্যমের কৌতূহল এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করাটাই স্বাভাবিক তাঁর জন্য। তবে তদন্ত কমিটির প্রধান বলেছেন, সপ্তাহখানেকের মধ্যে কাজ শেষ করার আশা করছেন তিনি।

কমিটি এরই মধ্যে সংশ্লিষ্ট ২৫–২৬ জনের সঙ্গে কথা বলে ফেললেও সামনের সপ্তাহখানেক সময়টা তাদের জন্য হয়ে উঠতে পারে অতি গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, গতকাল পর্যন্ত হওয়া ছয়টি বৈঠকে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সাক্ষাৎকার নিয়ে কমিটি যে দুটি কেন্দ্রীয় চরিত্রের দিকে এগিয়ে চলেছে, তাঁদের বক্তব্য জানার সময়টাও যে এখন ঘনিয়ে এসেছে! একজন বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলাম, অন্যজন সাবেক ক্রীড়া উপদেষ্টা ও এনএসসির সাবেক চেয়ারম্যান আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া।

আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া

এই দুজনের সঙ্গে কথা বলার বিষয়ে জানতে চাইলে এ কে এম আসাদুজ্জামান ‘সাসপেন্স’ রেখে বললেন, ‘তদন্তের স্বার্থে এ ব্যাপারে এখন কিছু বলতে চাইছি না।’ তবে একটি সূত্র নিশ্চিত করেছে, বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলামকে এরই মধ্যে সাক্ষাৎকারের জন্য চিঠি দিয়েছে কমিটি। আজকালের মধ্যেই সাক্ষাৎকার দেওয়ার কথা তাঁর। অস্ট্রেলিয়ায় ছুটি কাটিয়ে ও জাপানে এসিসির সভায় যোগ দিয়ে পরশু রাতে ঢাকায় ফিরেছেন বোর্ড সভাপতি। অবশ্য সাক্ষাৎকারের জন্য ডাক পেয়েছেন কি না, জানতে চাইলে ‘তদন্তাধীন বিষয়ে’ কিছু বলতে রাজি হননি আমিনুলও।

বিসিবির আলোচিত নির্বাচনে অনেকটা সরাসরিই সম্পৃক্ত ছিলেন তৎকালীন ক্রীড়া উপদেষ্টা ও এনএসসির চেয়ারম্যান আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া। অভিযোগ আছে, জেলা ও বিভাগীয় পর্যায়ের কাউন্সিলর মনোনয়নে হস্তক্ষেপ করেছিলেন তিনি। তদন্তপ্রক্রিয়ায় তাই ব্যাখ্যা চাওয়া হতে পারে তাঁর কাছেও। সূত্র জানিয়েছে, নির্বাচনে অনিয়মের অভিযোগ তদন্তে প্রয়োজনে যে কারও সঙ্গে কথা বলার বা যে কারও ব্যাখ্যা চাওয়ার এখতিয়ার কমিটিকে দিয়েছে এনএসসি।

তদন্ত কমিটি এখন পর্যন্ত কাদের সঙ্গে কথা বলছে, এ ব্যাপারে জানতে চাইলে কমিটির সদস্য ও ক্রীড়া সাংবাদিক এ টি এম সাইদুজ্জামান কারও নাম উল্লেখ না করে বলেন, ‘আমরা মূলত অভিযোগকারী, নির্বাচন কমিশন, বিসিবি ও এনএসসির সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গেই কথা বলছি। বিসিবির আগের নির্বাচনগুলো সম্পর্কে ধারণা পেতে এর বাইরেও কারও কারও সঙ্গে কমিটি কথা বলছে।’

সূত্র জানিয়েছে, নির্বাচন নিয়ে অভিযোগকারীদের কাছে অভিযোগের বিস্তারিত কারণ জানার চেষ্টা করেছে কমিটি। যাঁদের বিরুদ্ধে অভিযোগ, ব্যাখ্যা জানতে চেয়েছে তাঁদের কাছে।

সাইদুজ্জামান বলেন, ‘ঈদের ছুটি ও সাপ্তাহিক ছুটি বাদ দিয়ে তদন্তের জন্য এনএসসি নির্ধারিত ১৫ কর্মদিবসের মধ্যে এখন পর্যন্ত ৬ কর্মদিবসই কেবল গেছে। তদন্ত শেষ করতে হাতে আরও ৯ কর্মদিবস আছে। আশা করি, এনএসসির বেঁধে দেওয়া সময়ের মধ্যেই আমরা রিপোর্ট জমা দিতে পারব।’