তালহা জুবায়ের
তালহা জুবায়ের

নাহিদদের কোচ হয়ে কী ভাবছেন তালহা

মোস্তাফিজুর রহমান আর তাসকিন আহমেদ ছাড়া জাতীয় দলের পেসারদের প্রায় সবার সঙ্গেই বয়সভিত্তিক ও ঘরোয়া ক্রিকেটে কোচ হিসেবে কাজ করেছেন তালহা জুবায়ের। জাতীয় দলের সাবেক এই পেসার এবার ঘরের মাঠে আসন্ন অস্ট্রেলিয়া সিরিজের জন্য বাংলাদেশ দলের ভারপ্রাপ্ত পেস বোলিং কোচের দায়িত্ব নিয়েছেন।

শুধু পেস বোলিং বা বোলিং নয়, বাংলাদেশ দলেরই এখন সবচেয়ে আলোচিত ক্রিকেটার পেসার নাহিদ রানা। জাতীয় দলের পেস বোলিং কোচের দায়িত্ব পাওয়ার দিনে তাঁকে নিয়ে তালহা প্রথম আলোকে বলেছেন, ‘রানাকে ওর ছোটবেলা থেকেই দেখছি, ওর পেস এ রকমই ছিল সব সময়। তখন হয়তো আমরা পেসটা খালি চোখে মাপতে পারতাম না। কিন্তু ফিল করতাম যে ও ১৫০ কিলোমিটার গতিতে করার মতো বোলার। এখন যখন জাতীয় দলে ওকে দেখি, খুব রোমাঞ্চ হয়।’

অস্ট্রেলিয়া সিরিজে নাহিদ রানা ও অন্য পেসারদের কোচ হিসেবে থাকবেন তালহা। জাতীয় দলের হয়ে তাঁর অভিজ্ঞতা ৭ টেস্ট আর ৬ ওয়ানডের। পিঠের চোট তাঁর ক্যারিয়ারটা লম্বা হতে দেয়নি। পরে ভূমিকা বদলে হয়ে গেছেন কোচ।

খেলোয়াড়ি জীবনে অপূর্ণতা এখনকার পেসারদের মাধ্যমে পূরণ হতে দেখার আনন্দ আছে তাঁর, ‘তখন স্বপ্ন ছিল, বাংলাদেশেও একসময় আমরা এমন একটা উইকেট পাব (যেখানে পেসাররা সাহায্য পাবে)। আমরা ওই সময় অনেক জোরে বোলিং করতাম, সুইং ছিল। কিন্তু উইকেটে ওরকম সাহায্য ছিল না, বল হাঁটুর ওপরে উঠত না।’

এখন দিন বদলেছে। বাংলাদেশ দল ঘরের মাঠেও এখন পেস সহায়ক উইকেটে খেলছে। এ নিয়ে তালহার কথা, ‘আসলে এ রকম উইকেট না হলে পেস বোলারদের নিজেদের ধরে রাখা কঠিন, ইনজুরি থাকে, অনেক কিছু থাকে।’

সর্বশেষ কয়েকটি সিরিজে বাংলাদেশ পেস বোলিং সহায়ক উইকেটেই খেলেছে। পাকিস্তানের বিপক্ষে দুটি টেস্টও তারা জিতেছে তেমন উইকেটে। তবে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষেও বাংলাদেশ দল সে পথে হাঁটবে কি না, তা নিয়ে কিছুটা সংশয় আছে।

এখনো ওই পরিকল্পনা চূড়ান্ত হয়নি বলে জানিয়েছেন তালহা, ‘এখনো তো জাতীয় দলের ক্যাম্প শুরু হয়নি। প্রধান কোচ, অন্যান্য কোচিং স্টাফ আর খেলোয়াড়দের সঙ্গে বসে আমরা সিরিজের পরিকল্পনা চূড়ান্ত করব।’

খেলোয়াড়ি জীবনে তালহা চাইতেন, এক প্রান্তে তিনি আর অন্য প্রান্তে বল করবেন মাশরাফি বিন মুর্তজা। তবে দুজনের ক্যারিয়ারই ছিল চোটজর্জর। তালহা তো একটা সময় ছিটকেই গেলেন চোটের কারণে। সে কারণে তা আর সম্ভব হয়নি।

বাংলাদেশের পেসারদের সোনালি সময়ে দায়িত্ব নিয়ে তালহা বলেছেন, ‘রোমাঞ্চ আর চ্যালেঞ্জ দুটিই আছে। এখন হয়তো আমার কারণে খুব আহামরি কোনো বদল হবে না। কারণ, আমি এখন এসে কোনো কিছুতে প্রভাব রাখতে পারব না। একজন কোচের অন্তত ছয় মাস, এক বছর সময় লাগে নতুন কিছু একটা করে দেখাতে। তখন আপনি বিচার করতে পারেন খারাপ কিংবা ভালো হয়েছে। সুতরাং আমার চ্যালেঞ্জটা থাকবে এটাই যে বোলাররা যে জায়গায় আছে, আমি যেন সেটাকে এগিয়ে নিতে পারি।’

আপাতত এক সিরিজের জন্য দায়িত্ব নিলেও তালহা এটাকে দেখছেন অভিজ্ঞতা সঞ্চয়ের সুযোগ হিসেবে। ভবিষ্যতে যখন আবার ঘরোয়া বা বয়সভিত্তিক দলগুলোতে কাজ করবেন, তখন জাতীয় দলে কাজ করার এই অভিজ্ঞতা কাজে আসবে বলে বিশ্বাস তাঁর।

তালহা বলেন, ‘আমরা যখন নিচের দিকে আবার কাজ করব, তখন ওই খেলোয়াড়দের আমরা জাতীয় দলের অভিজ্ঞতাগুলো শেয়ার করতে পারব। আমরা ওভাবে ওদেরকে তৈরি করতে পারব। এই জিনিসটা তাই ভালো।’