
‘হাসান মাহমুদকে নিয়ে কোনো গল্প আছে?’
ঘরের ছেলে জেক ওয়েদারাল্ডকে ফেরানোর পর ততক্ষণে ট্রাভিস হেডও হাসানের বল টেনে স্টাম্পে ঢুকিয়ে বোল্ড। বাংলাদেশের এই পেসারকে নিয়ে অস্ট্রেলিয়ান সাংবাদিকদের কৌতূহলী হয়ে ওঠাটা স্বাভাবিক।
খেলা সবাই দেখছে, এর বাইরে তো পাঠককে কিছু দিতে হবে! কাজেই প্রথম সেশনেই অস্ট্রেলিয়াকে বিপদে ফেলা বোলারকে নিয়ে সাইড স্টোরি খোঁজো।
ডারউইনে আজ যে সকালটা এসেছে, গত ২২ বছরে এখানে এ রকম সকাল আর আসেনি। অস্ট্রেলিয়ার বেশির ভাগ শহরের মতো এখানেও জনবসতি খুব বেশি নয়। তার মধ্যেও সকালে মানুষের স্রোতটা কোন দিকে ছিল, সেটি বুঝে নিতে অসুবিধা হয়নি।
ট্যাক্সি-উবার ডাকলে যেখানে ৫ মিনিটে গাড়ি আসে, সেখানে ২০ মিনিটের অপেক্ষা, ভাড়ার টাকাটাও হঠাৎ বেড়ে যাওয়া সকাল সকালই জানিয়ে দিল—ডারউইনের জন্য আজকের দিনটা বিশেষ।
নর্দান টেরিটরির রাজধানী শহরে ২২ বছর পর টেস্ট ক্রিকেট ফিরেছে উৎসব–মুখরতায়। ৯-১০ হাজার দর্শক ধারণক্ষমতার মারারা স্টেডিয়ামের সব টিকিট বিক্রি হয়ে গেছে আগেই। গ্যালারি, সবুজ ঘাসের ঢিবি—সব কানায় কানায় পরিপূর্ণ।
ট্রাভিস হেডের নান্দনিক কাভার ড্রাইভে হাততালি, হাসান মাহমুদের উইকেট–সংহারী বলে ‘উউউ...’ করে ওঠা; বাংলাদেশ-অস্ট্রেলিয়া সিরিজের প্রথম টেস্টটা যেন টেস্ট ক্রিকেটের হারিয়ে যাওয়া সময়ই ফিরিয়ে আনল ডারউইনে!
এসব দেশে খেলা দেখতে আসা মানে শুধু মাঠের খেলা দেখাই নয়, মাঠের বাইরে শিশুদের খেলাধুলায় মেতে ওঠাও। পরিবার নিয়ে, বন্ধুবান্ধবকে নিয়ে খেলা দেখতে এসেছে মানুষ। কর্মদিবস হলেও টেস্টের প্রথম দিনে কাজ থেকে ছুটি নিয়েছেন অনেকে, চার বন্ধুর একটা দলকে পাওয়া গেল, যারা ব্রিসবেন থেকে এসেছে টেস্টের পুরো পাঁচ দিনই দেখবেন বলে।
তবে দিনের প্রথম সেশনে মাঠের বাইরে যখন ডারউইনবাসীর টেস্ট ক্রিকেটে ফেরার উৎসব চলছে, মাঠের ভেতরে তখন সবুজ উইকেটে বাংলাদেশের তিন পেসার হাসান মাহমুদ, তাসকিন আহমেদ আর ইবাদত হোসেনের আগুনে পুড়ছে অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটিং।
প্রথম সেশনের ২২ ওভার এই তিনজন মিলেই করে দিয়েছেন। হাসানের ২ উইকেটের পর ইবাদতের বলে স্লিপে মারনাস লাবুশেনের দুর্দান্ত ক্যাচ নিয়েছেন অধিনায়ক নাজমুল হোসেন। খালি হাতে লাঞ্চ করতে যাননি তাসকিনও। তাঁর বলে শর্ট মিড উইকেটে ক্যামেরন গ্রিন মুশফিকের হাতে ক্যাচ দেওয়ার পরই শেষ প্রথম সেশনের খেলা।
এক সেশনে ৭৪ রান তুলতে ৪ উইকেট নেই! ইবাদতের করা ১৭ তম ওভারের দ্বিতীয় বলে স্লিপে তানজিদ তামিম স্টিভ স্মিথের ক্যাচটা নিতে আরও কঠিন পরিস্থিতিতে পড়তে পারত স্বাগতিকেরা। ডারউইনে টেস্ট ক্রিকেট ফেরার দিনে এমন শুরু নিশ্চয়ই চায়নি অস্ট্রেলিয়া। কিন্তু চাওয়া আর পাওয়া তো সব সময় মিলবে না!
তা ছাড়া ডারউইনে যেমন ২২ বছর পর টেস্ট ক্রিকেট ফিরেছে, বাংলাদেশ দলও তেমনি অস্ট্রেলিয়ায় টেস্ট খেলতে নেমেছে ২৩ বছর পর। প্রায় দুই যুগের ক্ষুধা তো তাদেরও আছে!
অস্ট্রেলিয়া দল অবশ্য বলতে পারে, ‘শুধু বাংলাদেশ কেন, ডারউইনে তো আমরাও অতিথি!’ আসলেই তাই। যে মাঠে গত ২২ বছর টেস্ট ক্রিকেটই হয়নি, সেটি তো অস্ট্রেলিয়ার জন্যও ‘অ্যাওয়ে’ মাঠের মতোই! যদিও মাঠের বাইরের ছবি তা বলছে না। সেখানে কেবলই টেস্ট ক্রিকেটে ফেরার উৎসব।