আফগান লেগ স্পিনার রশিদ খান
আফগান লেগ স্পিনার রশিদ খান

র‍্যাঙ্কিং বদলালেও টি–টুয়েন্টির রাজত্ব রশিদেরই

আন্তর্জাতিক টি-টুয়েন্টিতে রশিদ খান আর এক নম্বর বোলার নন। আইসিসি টি-টুয়েন্টি র‍্যাঙ্কিং সেটাই বলছে। গতকালই তাঁকে দুইয়ে ঠেলে সাপ্তাহিক র‍্যাঙ্কিংয়ে শীর্ষে উঠেছেন পাকিস্তানের লেগ স্পিনার আবরার আহমেদ। ৭৩৬ রেটিং পয়েন্ট নিয়ে আবরার শীর্ষে, রশিদের ৭৩৫।

র‍্যাঙ্কিং মূলত সাম্প্রতিক সময়ের পারফরম্যান্সের প্রতিফলন। শীর্ষে থাকা ক্রিকেটার দু–তিন ম্যাচে একটু খারাপ করলেই আর আশপাশের কেউ ভালো করলে অবস্থানে পরিবর্তন আসতে পারে। রশিদের ক্ষেত্রেও সেটিই হয়েছে। ভারতের বিপক্ষে সিরিজের শেষ ম্যাচে প্রত্যাশিত পারফরম্যান্স করতে না পারায় এক রেটিং পয়েন্ট হারিয়েছেন।

আর তাতেই ছয় মাস ধরে রাখা এক নম্বর জায়গাটা চলে গেছে আবরারের কাছে। এমনকি আবরারকে এ সময়ে খেলতেও হয়নি। তবু র‍্যাঙ্কিংয়ের হিসাব তাঁকে এক নম্বরে তুলে দিয়েছে।

কিন্তু রশিদকে কি টি-টুয়েন্টি বোলারদের তালিকায় দুইয়ে নামানো সম্ভব? এই তালিকাটা র‍্যাঙ্কিংয়ের নয়, উইকেট নেওয়ার এবং সেটা স্বীকৃত সব ধরনের টি-টুয়েন্টি মিলিয়ে।

আন্তর্জাতিক টি–টুয়েন্টিতে রশিদের উইকেট ১৯৭টি। তালিকার দুইয়েও আরেক লেগ স্পিনার—ইংল্যান্ডের আদিল রশিদ, তাঁর উইকেট ১৭১টি। ২৬ উইকেটে এগিয়ে থাকা রশিদ আদিল রশিদের চেয়ে ৩৫ ম্যাচ কম খেলেছেন। দুজনের বয়সের পার্থক্যও ১০ বছরের। ইংল্যান্ডের রশিদ ৩৮ বছর বয়সেও দারুণ কার্যকর। তবে আর কত বছরই বা খেলতে পারবেন!

দারুণ ছন্দে থাকলেও আদিল রশিদের বয়স এখন ৩৮

অন্যদিকে আফগানিস্তানের ২৮ বছর বয়সী রশিদের ক্যারিয়ার এখনো মধ্যগগনে। এই তালিকার শীর্ষে পাঁচে আছেন যথাক্রমে নিউজিল্যান্ডের ইশ সোধি, টিম সাউদি আর শ্রীলঙ্কার ওয়ানিন্দু হাসারাঙ্গা। সাউদি তো অবসরই নিয়েছেন। অন্য দুজনও উইকেট নেওয়ায় শীর্ষে থাকা রশিদকে কতটা টক্কর দিতে পারবেন সেটা বড় প্রশ্ন।

সব ধরনের টি-টুয়েন্টিতে রশিদের আধিপত্য একচ্ছত্র। ৭৪০ উইকেট নিয়ে তালিকার শীর্ষে। আর কোনো বোলারের ৭০০ উইকেটও নেই। ৬৫৮ উইকেট নিয়ে দুইয়ে সুনীল নারাইন।

২০১১ সালে ক্যারিয়ার শুরু করা নারাইনের বয়স ছাড়িয়েছে ৩৮, আছেন ক্যারিয়ারের শেষ অংশে। ৬৩১ উইকেট নিয়ে তৃতীয় ডোয়াইন ব্রাভো এরই মধ্যে পেশাদার ক্রিকেট ছেড়েছেন।

চার নম্বরে থাকা ইমরান তাহিরের বয়স ৪৭, তিনি অবশ্য এখনো সিপিএলসহ কয়েকটি লিগ খেলছেন। পাঁচে থাকা আন্দ্রে রাসেলও আইপিএল থেকে অবসর নিয়েছেন। সেরা সময়ও পেছনে ফেলে এসেছেন অনেক আগেই। এ সময়ে তাই রশিদকে টক্কর দেওয়ার মতো কাউকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না।