ভারতের বিপক্ষে বিশ্বকাপের ম্যাচ খেলবে না পাকিস্তান
ভারতের বিপক্ষে বিশ্বকাপের ম্যাচ খেলবে না পাকিস্তান

আইসিসিকে ব্যবস্থা নিতে বললেন গাভাস্কার, মদন লাল বললেন পাকিস্তানকে ভুগতে হবে

ভারতের বিপক্ষে পাকিস্তানের বিশ্বকাপ ম্যাচ বয়কটের ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ভারতের সাবেক ক্রিকেটাররা। সাবেক ভারতীয় ক্রিকেটার মদন লাল বলেছেন, বাংলাদেশকে সমর্থন দিয়ে পাকিস্তান সরকার ও পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি) আসলে নিজেদের ক্রিকেটেরই ক্ষতি করছে।

মদন লালের মতে, পাকিস্তান সরকারের সিদ্ধান্ত বর্তমান পরিস্থিতিতে কোনো সমস্যার সমাধান করবে না, বরং বাংলাদেশ ও পাকিস্তান, দুই দেশই এর ফল ভোগ করবে। ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ বর্জনের ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন কিংবদন্তি ভারতীয় ক্রিকেটার সুনীল গাভাস্কারও। আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলকে (আইসিসি) পাকিস্তানের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের কথাও বলেছেন তিনি।

বার্তা সংস্থা এএনআইকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে মদন লাল বলেন, ‘আমার মনে হয়, পাকিস্তান সরকার ও পিসিবি সবাই মিলে নিজেদের ক্রিকেটেরই ক্ষতি করছে। এতে তাদের কোনো সমস্যার সমাধান হবে না। এখানে কারও তো সঠিকভাবে ভাবার দরকার ছিল। কিন্তু তারা এখন ঠিকভাবে ভাবছে না। তারা বাংলাদেশকে সমর্থন দিতে চায়। সেটা তারা দিতেই পারে। সেটা আমাদের বিষয় নয়। কিন্তু শেষ পর্যন্ত ক্ষতিটা হবে বাংলাদেশ ও পাকিস্তানেরই।’

আইসিসি টুর্নামেন্টে ভারত–পাকিস্তান ম্যাচে বিজ্ঞাপনদাতাদের সবচেয়ে বেশি আগ্রহ থাকলেও মদন লালের মতে এখন অন্য দলগুলোর দিকে তাকাবে তারা, ‘বিশ্ব ক্রিকেটে নিউজিল্যান্ড, ইংল্যান্ড, দক্ষিণ আফ্রিকা ও অস্ট্রেলিয়ার মতো দেশগুলোই বড় শক্তি। দর্শক, স্পনসরশিপ—সবই শেষ পর্যন্ত তাদের দিকেই যাবে।’

ভারতের সাবেক ক্রিকেটার ও ধারাভাষ্যকার সুনীল গাভাস্কার।

রোববার রাতে এক বিবৃতিতে বিশ্বকাপে অংশ নিলেও ভারতের বিপক্ষে ১৫ ফেব্রুয়ারির ম্যাচ বয়কট করার কথা জানায় পাকিস্তান সরকার। এই সিদ্ধান্তের সমালোচনায় ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডেকে গাভাস্কার বলেছেন, ‘নিশ্চিতভাবেই শেষ মুহূর্তে সরে দাঁড়ানোটা একটি বড় সমস্যা। আগে থেকেই সরে দাঁড়ালে সেটা ভিন্ন বিষয় হতে পারত। কিন্তু টুর্নামেন্টের ঠিক আগমুহূর্তে এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হলে আইসিসির হস্তক্ষেপ করা উচিত এবং কিছু ব্যবস্থা নেওয়া দরকার। আইসিসি কী ধরনের পদক্ষেপ নেবে, তা আমি জানি না। তবে এমন কিছু করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে কোনো দল এমন সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথা ভাবতেও না পারে।’

গাভাস্কারের মতে, পাকিস্তানের এ অবস্থানের জবাবে আইসিসি আইনি পথও বিবেচনা করতে পারে; যদিও তার ফল কী হবে, তা নিশ্চিত নয়। তিনি বলেন, ‘ভারতের বিপক্ষে খেলতে অস্বীকৃতি জানানোয় আইসিসি সম্ভবত পাকিস্তানের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নিতে পারে। সেই পদক্ষেপের ফল কী হবে, তা বলা মুশকিল। তবে এই সিদ্ধান্তে আইসিসি যে ভীষণভাবে অসন্তুষ্ট, সে বিষয়ে কোনো সন্দেহ নেই।’

ভারতের বিশ্বকাপজয়ী পেসার মদন লাল

একই বিষয়ে ‘আজ তাক’কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে গাভাস্কার পাকিস্তানের সিদ্ধান্ত পাল্টানোর সম্ভাবনার কথাও বলেছেন, ‘বিশ্বজুড়ে যখন এই বয়কটের সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রতিক্রিয়া শুরু হবে, তখন তাদের অবস্থান বদলাতেও পারে। এটা নতুন কিছু নয়। পাকিস্তানি ক্রিকেটাররা অবসর ঘোষণার পর আবার ফিরে আসার নজির আগেও দেখিয়েছেন। ভক্তদের চাওয়ার কথা বলে তাঁরা সিদ্ধান্ত বদলেছেন।’

গাভাস্কার আরও বলেন, ‘পাকিস্তানের সমর্থকেরাও হয়তো তাঁদের সরকারের এই সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন তুলতে পারেন। তাই এখানে আমি বড় কোনো সমস্যা দেখছি না। পাকিস্তানি ক্রিকেটাররাই অবসরের ৮ থেকে ১০ দিনের মধ্যে ফিরে আসার উদাহরণ তৈরি করেছেন। ১৫ ফেব্রুয়ারির আগেও তেমন কিছু ঘটতে পারে।’

ভারত ও শ্রীলঙ্কার যৌথ আয়োজনে দশম টি–টুয়েন্টি বিশ্বকাপ শুরু হবে ৭ ফেব্রুয়ারি। এর আগে বাংলাদেশ নিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে ভারতে খেলতে অস্বীকৃতি জানালে আইসিসি টুর্নামেন্ট থেকে বাংলাদেশকে বাদ দিয়ে স্কটল্যান্ডকে অন্তর্ভুক্ত করে। আইসিসির এমন অবস্থানকে দ্বিচারিতা হিসেবে উল্লেখ করে এর সমালোচনা করে পাকিস্তান, যার জেরে এবার ভারতের বিপক্ষে ম্যাচও বয়কটের সিদ্ধান্ত নিয়েছে তারা।