অ্যাঞ্জেলো ম্যাথুস
অ্যাঞ্জেলো ম্যাথুস

বাংলাদেশ ও শ্রীলঙ্কা সফরে ১ টেস্ট খেলবে ইংল্যান্ড, খেপেছেন ম্যাথুস

শ্রীলঙ্কা ও বাংলাদেশ সফরে মাত্র একটি করে টেস্ট খেলার পরিকল্পনা করছে ইংল্যান্ড অ্যান্ড ওয়েলস ক্রিকেট বোর্ড (ইসিবি)। অন্যান্য সফরগুলোর জন্য বেশি সময় বের করাই মূল উদ্দেশ্য—এমন খবর সামনে আসার পর তীব্র আপত্তি জানিয়েছেন শ্রীলঙ্কান অলরাউন্ডার অ্যাঞ্জেলো ম্যাথুস।

ম্যাথুস বলেন, ‘আমাদের কারোর সঙ্গে একটিমাত্র টেস্ট খেলা উচিত নয়! যদি কোনো দেশ একটার বেশি খেলতে না চায়, তবে তা–ই হোক। বড় দল বলতে কিছু নেই, সব টেস্ট খেলুড়ে দেশের মর্যাদা সমান।’

সম্প্রতি ইংলিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানের খবরে বলা হয়, আইসিসি বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে সমতার নীতি থেকে সরে আসার কথা ভাবছে ইসিবি। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের সামনের চক্র থেকে মাত্র এক টেস্টের সিরিজ যুক্তের কথা ভাবছে বোর্ডটি। অন্যদিকে দক্ষিণ আফ্রিকা ও পাকিস্তানের বিপক্ষে দীর্ঘ কয়েক দশক পর পাঁচ টেস্টের সিরিজ খেলার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করছে তারা।

বড় দলগুলাের বিপক্ষে ৫ ম্যাচের টেস্ট সিরিজ খেলতে চায় ইংল্যান্ড

বর্তমানে টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রতিটি সিরিজের জন্য ১২০ পয়েন্ট করে বরাদ্দ। দুটি দলের সিরিজে সর্বনিম্ন দুটি করে টেস্ট খেলতে হয়। তবে দলগুলো নিজেদের মধ্যে সমঝোতার ভিত্তিতে দুইয়ের বেশি টেস্টও খেলতে পারে। সে ক্ষেত্রে ম্যাচপ্রতি পয়েন্ট ভাগ হয়ে যায়। প্রতি ম্যাচে জয়ের পয়েন্ট কমে গেলেও ইংল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া ও ভারতের মতো দলগুলো নিজেদের মধ্যে চার থেকে পাঁচ টেস্টের সিরিজ খেলে থাকে। ইসিবি এখন পাকিস্তান ও প্রোটিয়াদের সঙ্গেও লম্বা সময় ধরে টেস্ট সিরিজ খেলতে চায়।

বাণিজ্যিকভাবে আরও লাভজনক হওয়ার ভাবনা থেকে শ্রীলঙ্কা, বাংলাদেশের মতো দলগুলোর বিপক্ষে মাত্র এক টেস্টের সিরিজের চিন্তা করায় ম্যাথুস ক্ষুব্ধ।

গত জুনে টেস্ট থেকে অবসর নেওয়া এই সাবেক অধিনায়ক রাজস্ব আয় ও টেস্টের অস্তিত্ব রক্ষার প্রসঙ্গ টেনে বলেন, ‘একই চ্যাম্পিয়নশিপ চক্রে এক দল ২০টি ম্যাচ খেলবে আর অন্য দল ১০টি, এটা হতে পারে না! রাজস্ব তৈরি করা আর টেস্ট ক্রিকেটকে বাঁচিয়ে রাখা—দুটি আলাদা বিষয়, দুটিকে গুলিয়ে ফেলা উচিত নয়।’

আসলে কী হচ্ছে?

দ্য গার্ডিয়ান তাদের প্রতিবেদনে লিখেছে, প্রথমবারের মতো একক টেস্ট ম্যাচগুলোকেও বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে। বর্তমানে চ্যাম্পিয়নশিপ স্ট্যাটাসের জন্য কমপক্ষে দুটি টেস্টের সিরিজের প্রয়োজন।

ইসিবির ভাবনা বাস্তবায়িত হলে ১৯৯৬-৯৭ মৌসুমের পর প্রথমবার জিম্বাবুয়েতে ইংল্যান্ড একটি ম্যাচ খেলার কথা বিবেচনা করছে। আগামী টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ চক্রে একক টেস্টের সিরিজ অন্তর্ভুক্ত করার পাশাপাশি দলসংখ্যা ১২টিও করা হতে পারে। বর্তমানে ৯টি দল খেলছে চ্যাম্পিয়নশিপে।

ইংল্যান্ডে সব বয়সীদের মধ্যে টেস্ট ক্রিকেটই সবচেয়ে জনপ্রিয়

প্রতিবদেনে আরও বলা হয়েছে, ইসিবির অভ্যন্তরীণ গবেষণায় দেখা গেছে, ইংল্যান্ডে সব বয়সীদের মধ্যে টেস্ট ক্রিকেটই সবচেয়ে জনপ্রিয়। তাই তারা অস্ট্রেলিয়া ও ভারতের মতো দেশের বিপক্ষে ৫ ম্যাচের টেস্ট সিরিজের সংখ্যা আরও বাড়াতে চায়।

ইসিবি এরই মধ্যে দক্ষিণ আফ্রিকাকে ২০৩২ সালে একটি পাঁচ টেস্টের সফরের প্রস্তাব দিয়েছে। এটি সফল হলে ২০৩৬ সালেও ৫ ম্যাচের সিরিজ খেলতে চায় ইসিবি। আর যদি তা সম্ভব না হয়, তবে বিকল্প হিসেবে পাকিস্তানের সফরের কথা ভাবা হয়েছে।