এশিয়ান গেমসের আনুষ্ঠানিক পর্দা উঠবে ১৯ সেপ্টেম্বর। তবে তার আগেই মাঠে গড়াচ্ছে ক্রিকেট, যেখানে সোনা জয়ের লড়াইয়ে নামবে এশিয়ার ক্রিকেট শক্তিগুলো। বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কার মতো আইসিসির পূর্ণ সদস্য দলগুলোর সঙ্গে থাকছে স্বাগতিক জাপানসহ আরও কয়েকটি দেশ। ছেলে ও মেয়েরা মাঠে নামছে কবে, কোন ফরম্যাটে খেলা, কয়টি দল অংশ নিচ্ছে, কারা খেলছেন, কোথায় হবে ম্যাচ—এশিয়ান গেমসে ক্রিকেট নিয়ে জানার আছে যা কিছু, থাকছে এই আয়োজনে।
ক্রিকেট কি এই প্রথম
না। এশিয়ান গেমসে ক্রিকেট আগেও হয়েছে। তবে নিয়মিত ছিল না। ২০১০ গুয়াংঝু এবং ২০১৪ ইঁচিয়নের পর তৃতীয়বার হয় ২০২৩ সালে হাংঝুতে। এবার জাপানের আইচি–নাগোয়া আসে ক্রিকেট যুক্ত হয়েছে চতুর্থবার।
কতটি ইভেন্ট, কত দল
ক্রিকেটে মোট দুটি ইভেন্ট—একটি ছেলেদের, আরেকটি মেয়েদের। ছেলেদের ইভেন্টে অংশ নিচ্ছে ১০টি দল, মেয়েদের ইভেন্টে ৮টি।
কোন কোন দেশ খেলছে
মোট ১২টি দেশ ক্রিকেটে অংশ নিচ্ছে। এর মধ্যে ছেলে ও মেয়ে দুই বিভাগেই দল আছে বাংলাদেশ, ভারত, জাপান, মালয়েশিয়া, পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কার। শুধু ছেলেদের বিভাগে দল আছে আফগানিস্তান, হংকং, নেপাল ও ওমানের। আর শুধু নারী বিভাগে আছে চীন ও থাইল্যান্ড।
ইভেন্ট অনুসারে দেখলে, পুরুষ ইভেন্টে অংশ নিচ্ছে: আফগানিস্তান, বাংলাদেশ, হংকং, ভারত, জাপান, মালয়েশিয়া, নেপাল, ওমান, পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কা। আর নারী ইভেন্টে বাংলাদেশ, চীন, ভারত, জাপান, মালয়েশিয়া, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা ও থাইল্যান্ড।
কবে খেলা শুরু
মেয়েদের খেলা শুরু ১৭ সেপ্টেম্বর। ২২ সেপ্টেম্বর সোনা (ফাইনাল) ও ব্রোঞ্জের (তৃতীয় স্থান নির্ধারণী) লড়াই।
ছেলেদের খেলা শুরু হবে ২৪ সেপ্টেম্বর। পদকের লড়াই (ফাইনাল ও তৃতীয় স্থান নির্ধারণী) ৩ অক্টোবর।
খেলা কোথায়
এশিয়ান গেমসে ক্রিকেটের সব খেলাই একই ভেন্যুতে। মাঠের নাম কোরোগি স্পোর্টস পার্ক। এ বছরের শুরুতে ২০২৬ টি–টুয়েন্টি বিশ্বকাপের পূর্ব এশিয়া–প্যাসিফিক সাব রিজিওনাল কোয়ালিফায়ার হয়েছিল এ মাঠে। এশিয়ান গেমসের আগে এ মাঠের স্টান্ডের দর্শক ধারণক্ষমতা ২ হাজার।
কোন ফরম্যাটে খেলা
ছেলে ও মেয়েদের ইভেন্টে ফরম্যাট ভিন্ন।
মেয়েদের ইভেন্টে আটটি দল। আইসিসির পূর্ণ সদস্য হিসেবে বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কা সরাসরি এশিয়ান গেমসে জায়গা করে। জাপানের অংশগ্রহণ নিশ্চিত হয় স্বাগতিক হওয়ায়। আর একটি বাছাই টুর্নামেন্টের মাধ্যমে চূড়ান্ত পর্বে জায়গা করেছে মালয়েশিয়া, থাইল্যান্ড ও চীন।
এই আটটি দল চারটি কোয়ার্টার ফাইনালে মুখোমুখি হবে। জয়ী দল সেমিফাইনালে, দুই সেমিজয়ী ফাইনালে। আগেই হয়ে যাওয়া ড্র অনুসারে কোয়ার্টার ফাইনাল–১–এ বাংলাদেশ–চীন, কোয়ার্টার ফাইনাল–২–এ পাকিস্তান–থাইল্যান্ড, কোয়ার্টার ফাইনাল–৩–এ শ্রীলঙ্কা–মালয়েশিয়া এবং কোয়ার্টার ফাইনাল–৪–এ ভারত–জাপান মুখোমুখি হচ্ছে।
ছেলেদের ইভেন্টে দল মোট ১০টি। আইসিসির পূর্ণ সদস্যদেশ হিসেবে বাংলাদেশ, আফগানিস্তান, ভারত, পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কা এবং স্বাগতিক হিসেবে জাপান সরাসরি জায়গা করেছে। গত মে–জুনে হওয়া বাছাইপর্বের মাধ্যমে যোগ হয়েছে হংকং, মালয়েশিয়া, নেপাল ও ওমান।
দশ দলের মধ্যে র্যাঙ্কিংয়ে এগিয়ে থাকা চার দল ভারত, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা ও বাংলাদেশ সরাসরি কোয়ার্টার ফাইনালে খেলবে। বাকি ছয় দলকে দুটি গ্রুপে ভাগ করা হয়েছে, যাকে বলা হচ্ছে প্রিলিমিনারি স্টেজ। প্রতি গ্রুপের সেরা দুটি দল কোয়ার্টার ফাইনালে উঠে যাবে।
কারা খেলছেন
নারী ইভেন্টে আইসিসির পূর্ণ সদস্যদেশগুলো নিজেদের পূর্ণশক্তির দলই পাঠিয়েছে। পুরুষদের ইভেন্টেও গড়া হয়েছে শক্তিশালী দল।
বাংলাদেশের নারী ক্রিকেট দলে নিগার সুলতানা, মারুফা আক্তার, স্বর্ণা আক্তার; ভারতীয় দলে হারমানপ্রীত কৌর, স্মৃতি মান্ধানা, শেফালি বর্মা; পাকিস্তান দলে ফাতিমা সানা, মুনিবা অলী, আলিয়া রিয়াজ এবং শ্রীলঙ্কা দলে চামারি আতাপাত্তু, নীলাক্ষী দি সিলভা, হাসিনি পেরেরারা আছেন।
ছেলেদের ইভেন্টে বাংলাদেশ অধিনায়ক করেছে লিটন দাসকে। এ ছাড়া ভারতকে শ্রেয়াস আইয়ার, আফগানিস্তানকে দারউইশ রাসুল, পাকিস্তানকে সাহিবজাদা ফারহান ও শ্রীলঙ্কাকে সাহান আরাচিগে নেতৃত্ব দেবেন।
ফেবারিট কারা
ছেলে ও মেয়ে দুই বিভাগেই সোনার দৌড়ে ভারতই ফেবারিট। সদ্য সমাপ্ত এশিয়া কাপজয়ী দলটিকে নিয়ে এশিয়ান গেমসে নামছে ভারত। আর ছেলেদের টি–টুয়েন্টি বিশ্বকাপজয়ী দেশটি গেমসে দল পাঠিয়েছে যশপ্রীত বুমরা, বৈভব সূর্যবংশী, অক্ষর প্যাটেল, অভিষেক শর্মা, সঞ্জু স্যামসনসহ নিয়মিত আন্তর্জাতিক টি–টুয়েন্টি খেলা দলটিকেই।