অস্ট্রেলিয়ার দ্বিতীয় ইনিংসে বোল্ড হন হেড
অস্ট্রেলিয়ার দ্বিতীয় ইনিংসে বোল্ড হন হেড

ডারউইনে বাংলাদেশকে হারানো অস্ট্রেলিয়ার জন্য কতটা কঠিন

ডারউইন টেস্টে নিশ্চয়ই চোখ রাখছেন? এতক্ষণে অবশ্য হিসাব-নিকাশ শুরু হয়ে যাওয়ার কথা। বাংলাদেশের বিপক্ষে আজ তৃতীয় দিনে প্রথম ইনিংসেই ২২৮ রানে পিছিয়ে পড়েছে অস্ট্রেলিয়া। এখান থেকে কি টেস্ট র‍্যাঙ্কিংয়ে শীর্ষ দলটির পক্ষে ম্যাচ বাঁচানো সম্ভব?

উত্তরে সেই ক্লিশে হয়ে আসা পুরোনো কথাই বলতে হয় সবার আগে। ক্রিকেট গৌরবময় অনিশ্চয়তার খেলা। যেকোনো কিছুই ঘটতে পারে। ডারউইন টেস্টের কাছাকাছি ছোট্ট একটা উদাহরণ দেওয়া যায়। ২০০৬ সালে ফতুল্লা টেস্ট। নিজেদের প্রথম ইনিংসে ৪২৭ তুলে অস্ট্রেলিয়াকে ২৬৯ রানে অলআউট করে ১৫৮ রানের লিড পেয়েছিল বাংলাদেশ। শেষ পর্যন্ত ৩ উইকেটে জিতেছিল অস্ট্রেলিয়াই।

কিন্তু এবার বাংলাদেশের লিড ২২৮ রানের। অস্ট্রেলিয়ার টেস্ট ইতিহাস বলছে, এ ম্যাচ জিততে হলে স্বাগতিকদের ঘরের মাঠে প্রথম ইনিংসে সবচেয়ে বেশি রানের ঘাটতি কাটিয়ে ওঠার রেকর্ড গড়তে হবে। ২০১০ সালে সিডনিতে পাকিস্তানের বিপক্ষে প্রথম ইনিংসে ২০৬ রানের ঘাটতি পেরিয়ে জেতাই তাদের সর্বোচ্চ। অর্থাৎ প্রথম ইনিংসে ২০৬ রানের বেশি ঘাটতি পেরিয়ে কখনোই জিততে পারেনি অস্ট্রেলিয়া।

তবে ঘরের বাইরে প্রথম ইনিংসে এর চেয়ে বেশি রানের ঘাটতি পেরিয়ে অস্ট্রেলিয়ার জয়ের নজির আছে। ১৯৯২ সালে কলম্বো টেস্টে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে প্রথম ইনিংসে ২৯১ রানের ঘাটতি পেরিয়ে শেষ পর্যন্ত ১৬ রানে জিতেছিল অ্যালান বোর্ডারের অস্ট্রেলিয়া।

হেডকে আউট করে সতীর্থদের সঙ্গে হাসানের উদ্‌যাপন

বাংলাদেশের সমর্থকদের জন্য আশাব্যঞ্জক পরিসংখ্যান রয়েছে আরও। অস্ট্রেলিয়ার সংবাদমাধ্যম ‘এবিসি’র ক্রিকেট বিশ্লেষক রিক ফিনলে জানিয়েছেন, টেস্ট ইতিহাসে ২০০‍+ রানের লিড নিয়ে ৮০.৬ শতাংশ ম্যাচ জিতেছে লিড নেওয়া দলই। ১৮.৩ শতাংশ ম্যাচ ড্র হয়েছে এবং ১.১ শতাংশ ম্যাচ জিতেছে পিছিয়ে পড়া দল। আর ২০০ ‍+ রানে পিছিয়ে পড়ে অস্ট্রেলিয়া জিতেছে ৩.৬৫ শতাংশ ম্যাচ। ম্যাচসংখ্যার হিসাবে ৮২ বার ২০০‍+ রানে পিছিয়ে পড়ে অস্ট্রেলিয়া জিতেছে মাত্র তিনবার।

প্রশ্ন হলো, নিজেদের দ্বিতীয় ইনিংসে অস্ট্রেলিয়া তাহলে কী লক্ষ্যে ব্যাট করবে? সেটা চ্যানেল সেভেনকে বলেন সাবেক অস্ট্রেলিয়ান ওপেনার ও এই ম্যাচের ধারাভাষ্যকার ম্যাথু হেইডেন, ‘দল ২২০ রানে (২২৮) পিছিয়ে পড়লে ব্যাটিং ইউনিটের মানসিকতা পুরোপুরি বদলে যায়। শুধু টিকে থাকার লড়াই, অন্য কিছু নয়। জেতার কথা আর মাথায় থাকে না, কেবল টিকে থাকার লড়াই করতে হয়। অস্ট্রেলিয়ান ক্রিকেটের জন্য এটা সত্যিই এক বড় সংকট। আমরা কখনোই এমন পরিস্থিতিতে পড়তে পছন্দ করি না।’

অস্ট্রেলিয়ার আরেক সাবেক ওপেনার ডেভিড ওয়ার্নার মনে করেন, ডারউইন টেস্টে হার এড়াতে অস্ট্রেলিয়াকে কমপক্ষে ১২৫ ওভার ব্যাট করতে হবে এবং স্কোরবোর্ডে থাকতে হবে অন্তত ৫০০ রান। কায়ো স্পোর্টসকে ওয়ার্নার বলেন, ‘ড্র-ই একমাত্র পথ হতে পারে, তবে তারা ড্রয়ের জন্য খেলবে না। ম্যাচে ফিরতে অস্ট্রেলিয়াকে অন্তত ১২৫ থেকে ১৫০ ওভার ব্যাট করতে হবে এবং স্কোরবোর্ডে ৫০০ থেকে ৫৫০ রান তুলতে হবে।’

ওয়ার্নার ব্যাখ্যা করেন, ‘আমার মনে হয় না ২০০ (২২৮) রানের লিড তাদের অলআউট করতে যথেষ্ট হবে।’ আজ খেলা শেষ হওয়ার আগে অস্ট্রেলিয়া ৩টি উইকেট হারিয়ে ফেললে ফল একপ্রকার নিশ্চিত হয়ে যাবে বলে মনে করেন ওয়ার্নার। সেই ফলটা যে বাংলাদেশের পক্ষে যাবে, তা বলাই বাহুল্য।

অস্ট্রেলিয়ার দ্বিতীয় ইনিংসে বাংলাদেশের জন্য দুটি নামকে বড় হুমকি বলে মনে করেন ওয়ার্নার, ‘বাংলাদেশের জন্য সবচেয়ে বড় হুমকি স্টিভ স্মিথ ও ট্রাভিস হেড। দুজনকে আউট করতে পারলে (অস্ট্রেলিয়া) কঠিন বিপদে পড়বে।’

গ্যালারিতে দারুণ সময় কাটছে বাংলাদেশের সমর্থকদের

এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত ১১ ওভারে ২ উইকেটে ৩৮ রান তুলেছে অস্ট্রেলিয়া। বাংলাদেশ এখনো ১৯০ রানে এগিয়ে। আউট হয়েছেন জেক ওয়েদারাল্ড ও ট্রাভিস হেড। ক্রিজে আছেন স্টিভ স্মিথ ও মারনাস লাবুশেন।

খুব ভালোভাবেই বোঝা যাচ্ছে, অস্ট্রেলিয়াকে একদম কায়দামতো পেয়ে গেছে বাংলাদেশ। এখন বাকি কাজগুলো ঠিকঠাক করতে পারলেই টেস্ট ক্রিকেটে অন্যতম চমকপ্রদ ফলটাই উপহার দিতে পারে নাজমুল হোসেনের দল। পারবে?