টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপে ‘সি’ গ্রুপে ইংল্যান্ড-ওয়েস্ট ইন্ডিজ ম্যাচের সরাসরি ধারা বিবরণীতে সবাইকে স্বাগত।
দুই দলই আগে একটা করে ম্যাচ খেলেছে এবং জিতেছে। ওয়েস্ট ইন্ডিজ প্রথম ম্যাচে স্কটল্যান্ডকে হারিয়েছে ৩৫ রানে। ইংল্যান্ড ৪ রানে জিতেছে নেপালের বিপক্ষে।
টস জিতেই ফিল্ডিংয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন ইংলিশ অধিনায়ক হ্যারি ব্রুক। রাতের ম্যাচে শিশির একটা বড় ফ্যাক্টর হতে পারে, তাই পরে ব্যাটিং করাটাকেই নিরাপদ মনে করছেন তিনি।
টস জেতার পর হ্যারি ব্রুক বললেন, ‘আমরা পরিসংখ্যান দেখে সিদ্ধান্ত নিয়েছি। এখানে যারা পরে ব্যাটিং করে, তারাই বেশি সুবিধা পায়। তাই আমরা রান তাড়াকেই বেছে নিয়েছি।’
নেপালের বিপক্ষে চার রানের জয় পাওয়া একাদশে একটি পরিবর্তন এনেছে ইংল্যান্ড। বাঁহাতি পেসার লুক উডের জায়গায় খেলছেন ডানহাতি ফাস্ট বোলার জেমি ওভারটন। শেষ দিকে তাঁর ব্যাটিং ঝড় কাজে লাগতে পারে বলেই এই সিদ্ধান্ত।
ওয়েস্ট ইন্ডিজও করেছে একটি পরিবর্তন। অধিনায়ক শাই হোপ এটিকে বলেছেন ‘ট্যাকটিক্যাল’। ম্যাথু ফোর্ডকে বাদ দিয়ে জায়গা পেয়েছেন রোস্টন চেজ। ইংল্যান্ডের বাঁহাতি ব্যাটারদের মোকাবিলা করতেই এই পরিকল্পনা। হোপ বলেন, ‘আমরাও প্রথমে বোলিং করতে চাইতাম। তবে এখন ব্যাট হাতে ছন্দ তৈরি করতে হবে। একই প্রতিপক্ষের সঙ্গে বারবার খেললে সেটা আশীর্বাদও হতে পারে, আবার অভিশাপও। আমাদের সেরা খেলাটা খেলতে হবে।’
ওয়েস্ট ইন্ডিজ : ১.৩ ওভারে ১০/২
ইংল্যান্ডের বিপক্ষে আগে ব্যাট করতে নেমে শুরুতেই জোড়া উইকেট হারাল ওয়েস্ট ইন্ডিজ। প্রথম ওভারের পঞ্চম বলে কোনো রান না করেই ফেরেন শাই হোপ। উইন্ডিজ অধিনায়ককে ফেরান জোফরা আর্চার। এরপর দ্বিতীয় ওভারের প্রথম বলে ১ রান করা ব্র্যান্ডন কিংকে ফেরান স্যাম কারান।
ওয়েস্ট ইন্ডিজ : ৬ ওভারে ৫৫/৩
শুরুর ধাক্কা সামলে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে এগিয়ে নিচ্ছিলেন শিমরন হেটমায়ার ও রোস্টন চেজ। তবে ৫.৫ ওভারের মাথায় ফের ধাক্কা খায় ওয়েস্ট ইন্ডিজ। জেমি ওভারটনের বলে তুলে মারতে গিয়ে স্যাম কারানের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফিরেছেন ১২ বলে ২৩ রান করা হেটমায়ার।
ওয়েস্ট ইন্ডিজ : ১০ ওভারে ৭৯/৪
ওয়েস্ট ইন্ডিজের হয়ে প্রান্ত আগলে রাখা রোস্টন চেজকে ফিরিয়েছেন আদিল রশিদ। আম্পায়ারের এলবিডব্লিউর সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে রিভিউ নিয়েছিলেন চেজ। যদিও শেষ পর্যন্ত বাঁচতে পারেননি। ফিরেছেন ২৯ বলে ৩৩ রান করে।
ওয়েস্ট ইন্ডিজ : ১৩ ওভারে ১১৪/৪
রাদারফোর্ড–পাওয়েল জুটিতে দলীয় ১০০ রান পেরিয়েছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। রাদারফোর্ড ৩০ রানে ও পাওয়েল ১৪ রানে অপরাজিত আছেন।
ওয়েস্ট ইন্ডিজ : ১৫.৪ ওভারে ১৪২/৫
দলীয় ১২৮ রানে ওয়েস্ট ইন্ডিজ হারিয়েছে ৫ম উইকেট। ১৩ বলে ১৪ রান করা রোভম্যান পাওয়েলকে ফিরিয়েছেন আদিল রশিদ। পাওয়েল ফিরলেও ফিফটি করেছেন রাদারফোর্ড।
শেরফান রাদারফোর্ড ও জেসন হোল্ডারের ঝড়ে শেষ ৫ ওভারে ৬৬ রান তুলেছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। ১৫ ওভার শেষে ওয়েস্ট ইন্ডিজের রান ছিল ৫ উইকেটে ১৩০। সেই দল ইনিংস শেষ করেছে ৬ উইকেটে ১৯৬ রান তুলে।
ষষ্ঠ উইকেটে হোল্ডার ও রাদারফোর্ড ৩২ বলে যোগ করেন ৬১ রান। হোল্ডার ১৭ বলে ৪ ছক্কায় ৩৩ রান করে আউট হয়েছেন। তবে রাদাফোর্ড আন্তর্জাতিক টি–টুয়েন্টি ক্যারিয়ারের সর্বোচ্চ ৭৬ রান করে অপরাজিত ছিলেন। ৪২ বলের ইনিংসে ৭টি ছক্কা মেরেছেন পাঁচে নামা রাদারফোর্ড।
৫৬ রানের মাথায় অবশ্য একবার জীবন পেয়েছিলেন রাদারফোর্ড। আদিল রশিদ ছেড়েছেন ক্যাচটি। ওয়েস্ট ইন্ডিজ ইনিংসে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৩৪ রান করেছেন রোস্টন চেজ।
ওয়েস্ট ইন্ডিজ: ২০ ওভারে ১৯৬/৬ (রাদারফোর্ড ৭৬*, চেজ ৩৪, হোল্ডার ৩৩, হেটমায়ার ২৩; রশিদ ২/১৬, ওভারটন ২/৩৩)।
রান তাড়ায় ঝোড়ো সূচনাই করেছে ইংল্যান্ড। প্রথম ২ ওভারে বিনা উইকেটে ৩১ রান তুলে ফেলেছে দলটি। জেসন হোল্ডারের করা দ্বিতীয় ওভারেই এসেছে ২৪ রান। ফিল সল্ট ১১ বলে ২৯ ও জস বাটলার ১ রানে ব্যাট করছিলেন।
১ উইকেট ৬৭ রান তুলে পাওয়ার প্লে শেষ করেছে ইংল্যান্ড। ১৪ বলে ৩০ রান করে দলীয় ৩৮ রানে আউট হয়েছেন ফিল সল্ট। রোমারিও শেফার্ডের বলে কাভারে শেরফান রাদারফোর্ডের হাতে ক্যাচ দিয়েছেন ইংলিশ ওপেনার।
রাদারফোর্ডের বিদায়ের পর উইকেটে এসেছেন জ্যাকব বেথেল।
ইংল্যান্ড: ৮ ওভারে ৮৫/৩
১১ রানের ব্যবধানে ২ উইকেট হারিয়ে চাপে পড়েছে ইংল্যান্ড। সপ্তম ওভারে জস বাটলারকে ফেরানোর পর অষ্টম ওভারে টম ব্যান্টমকেও তুলে নেয় ওয়েস্ট ইন্ডিজ। ১৪ বলে ২১ রান করেছেন বাটলার। ব্যান্টম ৪ বলে করেছেন ২ রান
১৪তম ওভারের পঞ্চম বলে ডান দিকে ঝাঁপিয়ে দারুণ এক ফিরতি ক্যাচ নিয়ে হ্যারি ব্রুককে ফিরিয়েছেন গুড়াকেশ মোতি। ১৩১ রানে ৫ উইকেট হারাল ইংল্যান্ড। ম্যাচ জিততে শেষ ৩৭ বলে ৬৬ রান দরকার ইংল্যান্ডের।
ইংল্যান্ড: ১৭.২ ওভারে ১৫১/৮
১৪১ রানে ৭ উইকেট হারিয়ে ফেলেছে ইংল্যান্ড। টানা তিন ওভারে উইকেট হারিয়েছে দলটি। গুড়াকেশ মোতি হ্যারি ব্রুকের ফিরতি ক্যাচ নেওয়ার পর রোস্টন চেজ উইল জ্যাকসকে ও আকিল হোসেন জেমি ওভারটনকে ফিরিয়েছেন। এরপর রানআউট হয়েছেন জফরা আর্চার।
১৯৭ রানের লক্ষ্যটাকে বড়ই বলতে হয়। সেই লক্ষ্য ছুঁতে নেমে ১৬৬ রানে থেমেছে ইংল্যান্ড। ইংলিশদের ১৯ ওভারে অলআউট করে ৩০ রানে জিতেছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। দুই ম্যাচের দুটিতেই জিতে ‘সি’ গ্রুপের শীর্ষে ক্যারিবীয়রা। সমান ম্যাচে ২ পয়েন্ট নিয়ে ইংল্যান্ড আছে তিনে। নেট রান রেটে এগিয়ে থাকায় সমান ২ পয়েন্ট নিয়ে স্কটল্যান্ড আছে দুইয়ে।
রান তাড়ায় শুরুটা খারাপ ছিল না ইংল্যান্ডের। ৬.৩ ওভারে ১ উইকেটেই ৭৪ রান তুলে ফেলেছিল দলটি। রোস্টন চেজ জস বাটলারকে ফেরাতেই বদলে যায় ছবি। ১৬ রানের মধ্যে ৩ উইকেট হারিয়ে রান তোলার গতি হারায়। এরপর গতি বাড়াতে গিয়ে নিয়মিত উইকেট হারিয়েছে ইংলিশরা।
ওয়েস্ট ইন্ডিজের তিন স্পিনার আকিল হোসেন, রোস্টন চেজ ও গুড়াকেশ মোতি মিলে নিয়েছেন ৬ উইকেট। মোতি পেয়েছেন ৩ উইকেট। দুই পেসার রোমারিও শেফার্ড ও শামার জোসেফ নিয়েছেন ১টি করে উইকেট। ইংল্যান্ডের হয়ে সর্বোচ্চ ৪৩ রান করে অপরাজিত ছিলেন স্যাম কারেন।
এর আগে শেরফান রাদারফোর্ড ও জেসন হোল্ডারের ঝড়ে ১৯৬ রান করে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। ৪২ বলে ৭৬ রান করে অপরাজিত রাদারফোর্ড। হোল্ডার করেন ১৭ বলে ৩৩। শেষ ১০ ওভারে ১১৭ রান তোলে ওয়েস্ট ইন্ডিজ।
ওয়েস্ট ইন্ডিজ: ২০ ওভারে ১৯৬/৬ (রাদারফোর্ড ৭৬*, চেজ ৩৪, হোল্ডার ৩৩, হেটমায়ার ২৩; রশিদ ২/১৬, ওভারটন ২/৩৩)।
ইংল্যান্ড: ১৯ ওভারে ১৬৬ (কারেন ৪৩*, বেথেল ৩৩, সল্ট ৩০; মোতি ৩/৩৩, চেজ ২/২৯)।
ফল: ওয়েস্ট ইন্ডিজ ৩০ রানে জয়ী।
ম্যান অব দ্য ম্যাচ: শেরফান রাদারফোর্ড।