বিসিবি সভাপতি তামিম ইকবাল
বিসিবি সভাপতি তামিম ইকবাল

‘এ বছর বিপিএল হবে না’, বললেন বিসিবি সভাপতি

এ বছর বিপিএল (বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ) হচ্ছে না বলে জানিয়েছেন বিসিবি সভাপতি তামিম ইকবাল। টুর্নামেন্ট আয়োজনের জন্য বোর্ডের হাতে যথেষ্ট সময় নেই বলেই তাঁর এমন সিদ্ধান্ত।

আজ মিরপুরে বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৭, অনূর্ধ্ব-১৯ ও অনূর্ধ্ব-২৩ দলকে নিয়ে গেম ডেভেলপমেন্ট ট্রফির আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিতে এসে বিপিএল নিয়েও কথা বলেন তামিম। একটা প্রশ্ন ছিল এমন, এ বছর বিপিএল করার জন্য বোর্ডের হাতে যথেষ্ট সময় আছে কি না?

উত্তরে তামিম বলেন: ‘আই ডোন্ট থিংক সো। এ বছর বিপিএল হবে না।’

বাংলাদেশের ক্রিকেটারদের আয়ের সবচেয়ে বড় উৎস বিপিএল। ২০২৪ সালে ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের পর আগস্টে বিসিবি সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব নেন ফারুক আহমেদ। দায়িত্ব নেওয়ার পর সময় স্বল্পতার কারণে বিপিএল আয়োজন নিয়ে প্রথমে অনাগ্রহী ছিলেন তিনি। তবে তামিমসহ কয়েকজন ক্রিকেটার ফারুকের সঙ্গে কথা বলার পর শেষ পর্যন্ত বিপিএল আয়োজনের সিদ্ধান্ত নেয় বিসিবি। সেই তামিমই এখন বোর্ড সভাপতি।

এবার বিপিএল না হলে খেলোয়াড়েরা যে আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবেন, সেটিও মাথায় আছে তামিমের, ‘আমি খেলোয়াড় থাকলে নিজেও হতাশ হতাম। তাদের আর্থিক ক্ষতি হবে এটা আমি অস্বীকার করি না। কিন্তু তারাও বোঝে যে এই টুর্নামেন্টটা এমন হওয়া উচিত, যা নিয়ে বিসিবি গর্ব করতে পারে। গত কয়েক বছরে যা হয়েছে তা নিয়ে কি আমরা গর্বিত? হয়তো না।’

বিপিএল আয়োজনের ক্ষেত্রে তাঁর সঙ্গে খেলোয়াড়দের সঙ্গে মতের মিল আছে বলে মনে করেন তামিম। তাঁর ভাষায়, ‘খেলোয়াড়রাও একমত যে জিনিসটা সুন্দরভাবে হওয়া উচিত। যুক্তি আলাদা হতে পারে, কিন্তু আমার কাছে মূল বিষয় হলো টুর্নামেন্টটা ঠিকঠাক চালানো। বিপিএল একটা গ্রেট প্রোডাক্ট আর এটা নিয়ে প্রচুর আগ্রহ আছে। এটাকে ঠিকঠাক করতে পারলে আগ্রহ আরও বাড়বে।’

বিপিএলের শুরু থেকেই পারিশ্রমিক নিয়ে জটিলতা, ফ্র্যাঞ্চাইজি ফি পরিশোধে অনিয়ম, সম্প্রচার সংক্রান্ত সমস্যাসহ নানা কারণে টুর্নামেন্টটি সমালোচিত হয়েছে। গত দুই আসরের বিপিএল আয়োজন করে বিসিবির প্রায় ৪০ কোটি টাকা ক্ষতি হয়েছে বলেও জানিয়েছেন তামিম। সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই সবকিছু গুছিয়ে নেওয়ার আগে বিপিএল আয়োজন করতে চান না বলে জানিয়ে আসছেন তিনি।

সেই প্রস্তুতির জন্য যত সময় প্রয়োজন, তত সময় নিতেও প্রস্তুত তিনি। তামিম বলেছেন, ‘আমাদের ইনটেনশন ১০০০ শতাংশ আছে বিপিএল করার। কিন্তু আমি তাড়াহুড়ো করতে চাই না। আমি ঠিকঠাক মতো করতে চাই, তাতে যদি ৬ মাস বা ১২ মাস সময় লাগে, আমি নেব।’

সাধারণত ডিসেম্বর-জানুয়ারিতে মাঠে গড়ায় বিপিএল। এবার ওই সময়ে টুর্নামেন্টটি না হলে বিকল্প কোনো প্রতিযোগিতা হবে কি না জানতে চাইলে তামিম বলেন, ‘আমরা একটা ফর্মুলা নিয়ে কাজ করছি। যখন ৬০-৭০ শতাংশ কাজ হয়ে যাবে তখন আমি ঘোষণা দেব আমাদের ঘরোয়া ক্যালেন্ডারটা আমরা কীভাবে সাজাচ্ছি। এটা বেশ আলাদা ও ইন্টারেস্টিং হবে।’