ক্রিকেট মানচিত্রের সবচেয়ে বড় লড়াই এটা। ২২ গজের সেই ধ্রুপদি লড়াইয়ের আগে স্নায়ুর চাপ সামলানোই যেখানে বড় চ্যালেঞ্জ, সেখানে মাঠের বাইরের কথার লড়াই তো আরও চাপ বাড়িয়ে দিতে পারে। কথার লড়াই অবশ্য এরই মধ্যে শুরু করে দিয়েছেন ভারত-পাকিস্তানের সাবেকরা। এবার তাতে যোগ দিলেন সাবেক ভারতীয় ওপেনার কৃষ্ণমাচারি শ্রীকান্তও। একসময় ভারতের এই বিধ্বংসী ওপেনারের মতে, পাকিস্তানের ব্যাটিং লাইনআপ মোটেই ভরসা জাগানোর মতো নয়। এমনকি বাবর আজম ও অধিনায়ক সালমান আলী আগাকে সরাসরি ‘টেস্ট ব্যাটসম্যান’ বলে খোঁচা দিতেও ছাড়েননি তিনি।
এবারের টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপে নিজেদের তৃতীয় ম্যাচে আজ কলম্বোর প্রেমাদাসা স্টেডিয়ামে মুখোমুখি হচ্ছে দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ভারত ও পাকিস্তান। হাইভোল্টেজ এই ম্যাচের আগে নিজের ইউটিউব চ্যানেলে পাকিস্তানের ব্যাটিং সামর্থ্য নিয়ে কথা বলেছেন শ্রীকান্ত।
গত বছর টি-টুয়েন্টি এশিয়া কাপে ভারতের বিপক্ষে তিন ম্যাচে ৫১.৬৬ গড় ও ১২২.০৪ স্ট্রাইক রেটে মোট ১৫৫ রান করেছিলেন সাহিবজাদা ফারহান। তাঁকে ঘিরেই স্বপ্ন বুনছে পাকিস্তান। কিন্তু শ্রীকান্তের কথা উল্টো। তিনি বলেছেন, ‘সবাই ফারহানকে নিয়ে খুব মাতামাতি করছে, কিন্তু কাল (আজ) ও ব্যর্থ হবে। হয় বুমরা ওকে গুঁড়িয়ে দেবে, নয়তো বরুণ চক্রবর্তীর সোজা বলে আড়াআড়ি ব্যাট চালাতে গিয়ে স্টাম্প হারাবে। আর সে আউট হওয়া মানেই পাকিস্তানের গল্প শেষ।’
ব্যাটিংয়ে পাকিস্তানের আরও দুই আস্থা বাবর আজম ও অধিনায়ক সালমান আগাকে নিয়ে শ্রীকান্তের মন্তব্য বেশ কড়া। তাঁর ভাষায়, ‘পাকিস্তান দলে ব্যাটসম্যান বলতে শুধু ওই একজন ফারহান। একজনে নিয়ে কি বিশ্বকাপ জেতা যায়? বাবর আজম এসে টি-টুয়েন্টিতে টেস্ট ম্যাচ খেলবে। আর সালমান আগা তো বাবরেরই ২.০ সংস্করণ! এ ছাড়া ওদের আছে শুধু শাদাব খান, যে কিনা মিডল অর্ডারে কিছুটা ভয়ংকর হতে পারে।’
ব্যাটিং নিয়ে সমালোচনা করলেও পাকিস্তানের স্পিন বিভাগকে ‘গান লাইনআপ’ বা মারণাস্ত্র হিসেবে মানছেন শ্রীকান্ত। যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষে ম্যাচে পাকিস্তান পাঁচজন স্পিনার খেলিয়েছিল। ভারতের মিডল অর্ডার ইদানীং স্পিনের বিপক্ষে কিছুটা ভুগছে, যা শ্রীকান্তের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে। তিনি সতর্ক করে দিয়ে বলেন, ‘ওদের স্পিনাররা বেশ ভালো। আর আমাদের মিডল অর্ডারও স্পিনের সামনে খুব একটা স্বস্তিতে নেই।’
পরিসংখ্যান অবশ্য ভারতের পক্ষেই কথা বলছে। টি-টুয়েন্টিতে সর্বশেষ পাঁচবারের মুখোমুখিতে প্রতিবারই হেরেছে পাকিস্তান।