একটা দলকে আলাদা করা যাবে খুব সহজেই। তাদের সবার গায়ে বেগুনি রঙের জার্সি। অন্য দলটার দিকে তাকালে কিছুটা বিভ্রান্ত হতে হবে—পুরো মাঠে ছড়িয়ে থাকা দলের একেকজনের গায়ে একেক রঙের জার্সি!
কারণটা অবশ্য আগেই জানিয়ে রেখেছিল বিসিবি। আজ মিরপুরে জাতীয় দলের ক্রিকেটারদের ‘বিসিবি একাদশের’ বিপক্ষে ওই দলটা খেলছিল ‘বিসিএল ওয়ানডে অল স্টারস একাদশ’ নামে; বিসিএলে ভালো করার পুরস্কার হিসেবেই ম্যাচটা খেলার সুযোগ পেয়েছিলেন ওই ক্রিকেটাররা। বিসিবি প্র্যাকটিস ম্যাচের জন্য নতুন জার্সি দেয়নি, তাই ওই দলের ক্রিকেটাররা খেলেছের বিসিএলে নিজ নিজ দলের জার্সি পরে।
‘নানা রঙের’ জার্সির সেই ম্যাচে বিসিবি একাদশের ছদ্মাবরণে জাতীয় দল ভালোই খেলেছে। বিশেষ করে ব্যাটসম্যানদের পারফরম্যান্সটাই বেশি স্বস্তির—আগে ব্যাট করে ২৯৫ রান করেছে তারা। ওপেনার তানজিদ হাসান তো করেছেন সেঞ্চুরিও!
এ বছর সব মিলিয়ে ২২টা ওয়ানডে খেলবে বাংলাদেশ। র্যাঙ্কিংয়ে অন্তত সেরা নয়ে থেকে আগামী বছর বিশ্বকাপ খেলার চ্যালেঞ্জও আছে তাদের সামনে। ওয়ানডেতে তাই একরকম নতুন একটা ব্যাটিং অর্ডার নিয়েই কাল নেমেছিল জাতীয় দলের ক্রিকেটারদের নিয়ে গড়া বিসিবি একাদশ।
ওপেনিংয়ে তানজিদের সঙ্গী হয়েছিলেন সাইফ হাসান। তিনি কিছুটা ধীরগতির ইনিংস খেলে ৪৭ বলে ২২ রান করে ক্যাচ তুলে বিদায় নেন সাইফ। আরেক প্রান্তে তানজিদ ছিলেন বেশ সাবলীল, ৫৮ বলে ফিফটি পান তিনি। সেঞ্চুরি ছুঁয়েছেন ১০১ বল খেলে। তিন ও চারে নেমে তেমন সুবিধা করতে পারেননি সৌম্য সরকার ও নাজমুল হোসেন।
দল ঘোষণার সময় জানানো হয়েছিল, লিটন দাসকে খেলানো হবে মিডল অর্ডারে। ওয়ানডেতে টপ অর্ডারে নেমে সর্বশেষ ৬ ইনিংসের চারটিতেই শূন্য রানে আউট হয়েছিলেন লিটন। নতুন ভূমিকায় প্রস্তুতি ম্যাচে ভালো করেছেন তিনি—আজ তাঁর ব্যাট থেকে ৪ চার ও ১ ছক্কায় এসেছে ৪৪ রান। ৩৮ বল খেলেছেন বাংলাদেশের টি–টুয়েন্টি অধিনায়ক।
জাতীয় দলে ফেরা আফিফ হোসেনও ভালোই শুরু করেছিলেন। ২৮ বলে ২৯ রান করে ফিরেছেন রানআউট হয়ে। শেষ দিকে ১৫ বলে অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজ করেছেন ২৪ রান।
বোলাররা অবশ্য সেই তুলনায় তেমন দাপট দেখানো কিছু করতে পারেননি। বিসিএল অল স্টারস একাদশের ব্যাটসম্যানদের অলআউট করতে পারেননি তাঁরা। সেই সম্ভাবনাটা অবশ্য একসময় জেগেছিল। ৩৪তম ওভারেই অল স্টারসের ৮ উইকেট তুলে নেন জাতীয় দলের বোলাররা। সে সময়ে অল স্টারসের রান ছিল ১৫৭। লেগ স্পিনার রিশাদ হোসেনই তাদের ব্যাটিং ধসিয়ে দেওয়ার মূল কারিগর। ১০ ওভারের স্পেলে ৪০ রান দিয়ে এই লেগ স্পিনার ৫ উইকেট পান।
কিন্তু রিশাদ ছাড়া বাকি বোলারদের ভালোভাবে সামলে নিয়ে নবম উইকেটে ৮০ রানের জুটি গড়ে ফেলেন রিপন মণ্ডল (৪৮ বলে ৩৯ রান) ও আবদুল গাফফার সাকলাইন (৪৮ বলে ৪৯ রান)। শেষ পর্যন্ত ৯ উইকেটে ২৫৫ রান তুলে ৪০ রানে হারে দলটি।