জশ হ্যাজলউড
জশ হ্যাজলউড

বাংলাদেশের বিপক্ষে টেস্ট সামনে রেখে যা বললেন হ্যাজলউড

জশ হ্যাজলউডের দরকার আর মাত্র ৫টি উইকেট। তাহলেই তিনি নাম লেখাবেন অস্ট্রেলিয়ার পেসারদের এক অভিজাত তালিকায়।

সুযোগ রয়েছে হ্যাজলউডের সামনেই। দুই টেস্ট ম্যাচের সিরিজ খেলতে আগামী মাসে অস্ট্রেলিয়া সফরে যাবে বাংলাদেশ দল। ডারউইনে প্রথম টেস্ট শুরু হবে আগামী ১৩ আগস্ট। সুযোগটা লুফে নিতে হ্যাজলউডকে সবার আগে ডারউইন টেস্টের জন্য অস্ট্রেলিয়ার একাদশে জায়গা পেতে হবে।

টেস্টে অস্ট্রেলিয়া দলের পেস আক্রমণে অন্যতম এ কান্ডারির দলে জায়গা পাওয়া নিয়ে দোলাচল থাকার কথা নয়। কিন্তু পরিস্থিতির কারণে ভাবনাটা আসলে চলে আসে। ৩৫ বছর বয়সী হ্যাজলউড ২০২৫ সালের জুলাইয়ের পর থেকে আর টেস্ট খেলেননি। হ্যামস্ট্রিং ও পেশির চোটে সর্বশেষ অ্যাশেজ সিরিজে বাইরে থাকতে হয় তাঁকে।

ডারউইন টেস্টে একাদশে জায়গা পেলে দীর্ঘ ১৩ মাস পর অস্ট্রেলিয়ার হয়ে সাদা পোশাকে দেখা যাবে ৩৫ বছর বয়সী এ পেসারকে। ২০১৪ সালে অভিষেকের পর এত দীর্ঘ সময় বাইরে টেস্ট দলের বাইরে আর কখনো থাকেননি হ্যাজলউড।

দীর্ঘদিন পর টেস্ট ক্রিকেটে ফেরার অপেক্ষায় হ্যাজলউড

ডারউইন টেস্টের আগে নিজেকে ঝালিয়ে নিতে কয়েক সপ্তাহ ধরে ব্রিসবেনের ন্যাশনাল ক্রিকেট সেন্টারে অনুশীলন করছেন হ্যাজলউড। লক্ষ্য এখন দলে ফিরে ডেনিস লিলিদের পাশে নাম লেখানো।

১৯৮১ সালের নভেম্বরে অস্ট্রেলিয়ার প্রথম বোলার হিসেবে টেস্টে ৩০০ উইকেটের দেখা পান কিংবদন্তি পেসার লিলি। তারপর এই মাইলফলকের দেখা পেয়েছেন অস্ট্রেলিয়ার পাঁচজন পেসার—গ্লেন ম্যাকগ্রা, ব্রেট লি, মিচেল জনসন, মিচেল স্টার্ক ও প্যাট কামিন্স। ৭৬ টেস্টে ২৯৫ উইকেট নেওয়া হ্যাজলউড এখন এই তালিকায় নাম লেখানোর অপেক্ষায়।

ডারউইন টেস্টে খেলতে মুখিয়ে থাকা হ্যাজলউড সরাসরি বাংলাদেশ দল নিয়ে কিছু বলেননি। আগামী ১২ মাসে ২০ থেকে ২১টি টেস্ট সামনে রেখে দলীয় সাফল্য পেতে একাধিক ভালো পেসার নিয়ে আক্রমণভাগ গড়ার ওপর গুরুত্ব দিলেন হ্যাজলউড।

ব্রিসবেনের অনুশীলন ক্যাম্পে আজ হ্যাজলউড বলেন, ‘আমাদের স্কোয়াডে মাইকেল নেসার ও ব্রেন্ডন ডগেটও রয়েছে। আমার মনে হয় পরবর্তী ১৮ মাসে আমাদের ছয়জন পেসারকেই কোনো না কোনো সময়ে দরকার পড়বে। গত বছর অ্যাশেজেই যেমন প্যাট কামিন্স খেলেছিল মাত্র একটি টেস্ট, আমি একটিও খেলতে পারিনি, অথচ যখন প্রয়োজন পড়েছে নেসার ও ডগেট এসে নিজেদের সেরাটা দিয়েছে এবং আমরা সিরিজ জিতেছি।’

টেস্টে ৩০০ উইকেট হাতছানি দিয়ে ডাকছে হ্যাজলউডকে

ডারউইন টেস্টের জন্য প্রস্তুতির অংশ হিসেবে হ্যাজলউড এবং তাঁর সতীর্থ ফাস্ট বোলাররা টেস্ট ম্যাচের মতো বোলিংয়ের মহড়া চালিয়ে যাচ্ছেন। সকাল ও বিকেলের দীর্ঘ বোলিং সেশন পার করে তাঁরা পাঁচ দিনের লাল বলের ক্রিকেটের কঠিন লড়াইয়ের জন্য নিজেদের শরীরকে মানিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছেন।

হ্যাজলউড বলেন, ‘ম্যাচ না খেলে স্রেফ মহড়া দিয়ে টেস্ট সিরিজের প্রস্তুতি নেওয়া আমাদের জন্য সম্ভবত এবারই প্রথম। এর ফলে নিজেদের পছন্দ অনুযায়ী অনুশীলনের সূচি তৈরি করার সুযোগ পেয়েছি। মঙ্গলবার ও বৃহস্পতিবার বেশ দীর্ঘ বোলিং সেশন রাখা হচ্ছে, পাশাপাশি অন্যান্য কাজও চলছে। গত সপ্তাহে মঙ্গল ও বুধবার পরপর দুই দিন বল করেছি, আগামী সপ্তাহেও হয়তো এমন টানা বোলিং সেশন থাকবে।’

তবে ডারউইন টেস্ট নিয়ে এখনো কিছুই ভাবেননি হ্যাজলউড। আপাতত নিজেকে ঠিক করায়ই তাঁর মনোযোগ, ‘কয়েক সপ্তাহ ধরে আমি দিনভিত্তিক লক্ষ্য বাস্তবায়নেই নজর দিয়েছি—প্রতিদিনের কাজ শেষ করা এবং প্রয়োজনীয় ওয়ার্কলোড বজায় রাখা। আগামী সপ্তাহেও সেই ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে চাই, আর সব ঠিকঠাক শেষ করার পরই মূলত ডারউইন টেস্ট নিয়ে ভাবব।’