পিসিবির সাবেক চেয়ারম্যান নাজাম শেঠি
পিসিবির সাবেক চেয়ারম্যান নাজাম শেঠি

‘পাকিস্তান নয়, আইসিসিই পিছু হটেছে’

অচলাবস্থা শেষ পর্যন্ত কেটেছে। লাহোরে গত রোববার বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলামের উপস্থিতিতে আইসিসির প্রতিনিধিদলের সঙ্গে পিসিবির মিটিংয়ের পর টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপে ভারতের সঙ্গে খেলতে রাজি হয় পাকিস্তান। পিসিবির সাবেক চেয়ারম্যান নাজাম শেঠির দাবি, এই সিদ্ধান্তে পাকিস্তান নয়, বরং আইসিসিই পিছিয়েছে। ভারতের সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডেকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে এই দাবি করেন শেঠি।

পাকিস্তান বয়কটের সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের পর কলম্বোয় ১৫ ফেব্রুয়ারি ভারতের বিপক্ষে ম্যাচটি নির্ধারিত সূচিতেই অনুষ্ঠিত হবে। এর মধ্য দিয়ে টুর্নামেন্টটিকে ঘিরে তৈরি হওয়া টান টান অচলাবস্থারও অবসান ঘটল।

সংবাদমাধ্যমটিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে শেঠি বলেন, ‘আসলে আইসিসিই পিছু হটেছে। আমার মনে হয়, বাংলাদেশকে কিছুটা সুযোগ দিতে আইসিসি একটু সরে দাঁড়িয়েছে। পাকিস্তানের দিক থেকে এটি ছিল খুব ভেবেচিন্তে নেওয়া একটি সিদ্ধান্ত। তারা সবদিক খতিয়ে দেখেছে। তারা জানত, ভারত–ম্যাচ বয়কট করলে কোনো নিষেধাজ্ঞা আসবে না। এ বিষয়ে তারা দেশ ও বিদেশের শীর্ষ আইনজীবীদের সঙ্গে পরামর্শও করেছে।’

শেঠি যোগ করেন, ‘আর অতীতে এমন অনেক নজির ছিল, যা স্পষ্ট করে দিয়েছিল যে তারা (পিসিবি) খুব শক্ত অবস্থানে আছে। সর্বোচ্চ যা হতে পারত, তারা হয়তো একটি পয়েন্ট হারাত, এর বেশি নয়। আমার মনে হয়, আইসিসিও এটা বুঝতে পেরেছিল। সে কারণেই আইসিসি উদ্যোগ নেয় এবং (আইসিসির) ডেপুটি চেয়ারম্যান ইমরান খাজা সক্রিয় হন। বাংলাদেশিরাও সক্রিয় হয়। এভাবেই তারা পাকিস্তানে আসে আলোচনা করতে, যাতে পাকিস্তান এই ম্যাচটি খেলতে পারে।’

পিসিবি চেয়ারম্যান মহসিন নাকভি

তবে পিসিবি চেয়ারম্যান মহসিন নাকভি গতকাল পেশোয়ারে সাংবাদিকদের জানান, বাংলাদেশের সঙ্গে অন্যায় আইসিসি স্বীকার করার পরই খেলতে রাজি হয় পাকিস্তান। তাঁর ভাষায়, ‘আমরা (আমাদের আলোচনায়) বাংলাদেশের প্রসঙ্গ ছাড়া অন্য কোনো শর্ত রাখিনি। আমাদের একমাত্র লক্ষ্য ছিল বাংলাদেশের জন্য কিছু সম্মান আদায় করা এবং তাদের সঙ্গে হওয়া অন্যায়ের প্রতিকার করা।’

লাহোরে মিটিংয়ের পর আইসিসি জানায়, বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডকে (বিসিবি) কোনো শাস্তির মুখোমুখি হতে হবে না। বরং ২০২৮-২০৩১ চক্রের আইসিসি ইভেন্টে তাদের একটি বৈশ্বিক টুর্নামেন্ট আয়োজনের সুযোগ দেওয়া হবে, ইন্ডিয়া টুডে জানিয়েছে সেটা সম্ভবত ছেলেদের অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ। পাশাপাশি ২০৩১ সালে ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের যৌথভাবে ওয়ানডে বিশ্বকাপ আয়োজনের বিষয়টি আগেই নির্ধারিত।

শেঠি মনে করেন, বাংলাদেশের কোনো শাস্তির মুখোমুখি না হওয়া এবং আইসিসি থেকে তাদের রাজস্ব পাওয়ার বিষয়টি সুরক্ষিত থাকা এই মিটিংয়ের গুরুত্বপূর্ণ ফল। পাশাপাশি পাকিস্তানের পক্ষ থেকে ১৫ দিনের নোটিশ দেওয়া তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া ছিল না, বরং সেটি ছিল কৌশলগত হিসাব-নিকাশ।

লাহোরে আইসিসি ডেপুটি চেয়ারম্যান ইমরান খাজার সঙ্গে সাক্ষাৎ হয় বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলামের। মাঝে পিসিবি চেয়ারম্যান মহসিন নাকভি

শেঠির ভাষায়, ‘পাকিস্তানের ১৫ দিনের নোটিশ দেওয়ার একটি কারণ হলো তারা আইসিসি ও বাংলাদেশকে সঙ্গে কথা বলার জন্য কিছু সময় চাইছিল। আর তাদের বিশ্বাস ছিল যে এতে ফল হতে পারে। তাই আমার মনে হয়, আইসিসি কিছুটা পিছু হটেছে এবং বাংলাদেশকে সুযোগ দিয়েছে। আর আমার মনে হয়, পাকিস্তান তাদের লক্ষ্য আংশিকভাবে পূরণ করেছে, যা ছিল—কোনোভাবে বাংলাদেশকে আবার খেলায় ফিরিয়ে আনা, কারণ আইসিসি তাদের বিরুদ্ধে নানা ধরনের শাস্তির হুমকি দিচ্ছিল।’

ঘটনার সূত্রপাত, ভারতে উগ্রপন্থীদের বিরোধিতায় আইপিএলে কলকাতা নাইট রাইডার্স (কেকেআর) থেকে বাংলাদেশের পেসার মোস্তাফিজুর রহমানকে বাদ দেওয়া নিয়ে। বাংলাদেশ এরপর নিরাপত্তাশঙ্কায় ভারতে টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপের ম্যাচ সরিয়ে নিতে অনুরোধ করে আইসিসিকে।

কিন্তু আইসিসি তা শোনেনি এবং বাংলাদেশও নিজেদের দাবিতে অনড় থাকে। এরপর টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশকে বাদ দিয়ে তাদের জায়গায় স্কটল্যান্ডকে অন্তর্ভুক্ত করে আইসিসি। এই সিদ্ধান্তের পরিপ্রেক্ষিতে পাকিস্তান সরকার জানিয়ে দেয়, টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপে তাঁদের জাতীয় দল ভারতের বিপক্ষে ম্যাচটি খেলবে না।