টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপে পাকিস্তানের ভারত ম্যাচ বয়কট ইস্যুতে দুই দেশের সাবেক ক্রিকেটাররা একে অন্যের সমালোচনায় মেতে উঠেছিলেন। ম্যাচ নিয়ে শঙ্কা কেটে গেলেও কথার লড়াইটা এখনো থামেনি।
গতকাল পাকিস্তানের কিংবদন্তি স্পিনার সাকলায়েন মুশতাক অভিযোগ করেছেন ভারতের সাবেক ক্রিকেটাররা নিজেদের মন্তব্যের মাধ্যমে ঘৃণা ছড়াচ্ছেন।
পাকিস্তানের হয়ে ৪৯ টেস্ট ও ১৬৯ ওয়ানডে খেলা সাকলায়েন কথা বলেন ‘গেম অন হ্যায়’ অনুষ্ঠানে। সেখানে তিনি বলেছেন, ‘সম্প্রতি একজন সাবেক ক্রিকেটার, তাঁর নাম বলাটা আমি শোভন মনে করছি না, তাঁকে পাকিস্তানের সততা ও সম্মান নিয়ে প্রশ্ন করা হয়েছিল। জবাবে তিনি বলেছিলেন, “দেখুন, আমি কথা বলার আগে বলব, যাদের শুরু থেকেই কোনো সম্মান নেই, তারা সম্মান নিয়ে কথা বলে কীভাবে?” আমি বলি, সাধারণ বুদ্ধি খাটান! আপনারা কী ধরনের সংকীর্ণমনা কথা বলছেন? আপনি একজন সাবেক ক্রিকেটার। খেলোয়াড়দের নায়ক ও তারকা হওয়ার কথা, আর তারকারা সবার জন্যই আলো ছড়ায়। নায়কেরা সবার জন্য। অন্তত বীরের মতো আচরণ করার চেষ্টা তো করুন!’
রাজনীতিবিদদের সঙ্গে তাল মিলিয়ে ক্রিকেটারদের কথা বলা উচিত নয় বলে মনে করেন মুশতাক। তিনি বলেছেন এভাবে, ‘রাজনীতিবিদেরা যা করার তা-ই করছেন, তাঁরা তাঁদের রাজনীতির খেলা খেলছেন। কিন্তু আপনাদের (সাবেক ক্রিকেটারদের) এমন কথা বলা উচিত নয়। আপনারা কি বোঝেন না? যখন আপনারা বাউন্ডারি মারেন বা উইকেট নেন, দুই পারের মানুষই তালি দেয়। আপনারা বিষয়টাই বুঝতে পারছেন না। আমি বলব, সীমান্তের ওই পারে কাণ্ডজ্ঞানের প্রয়োজন, তাদের আরও বুদ্ধিমত্তার সঙ্গে কথা বলা উচিত।’
সাকলায়েন যোগ করেন, ‘এমনকি (ভারতে) ওখানকার বড় বড় সাবেক ক্রিকেটারও অদ্ভুত সব কথা বলছেন এবং ঘৃণা ছড়াচ্ছেন। তাঁরা এই খেলার মূল উদ্দেশ্যই বোঝেন না। ক্রিকেট শান্তি ও ঐক্যের বার্তা দেয়। আমার মনে আছে, যখন আমরা আমেরিকায় ক্রিকেট অল-স্টারস খেলতে গিয়েছিলাম, ভক্তরা দুই দেশের পতাকা একসঙ্গে সেলাই করে একটি বিশাল পতাকা বানিয়েছিলেন। মাঝখানে ভারত ও পাকিস্তানের পতাকা জোড়া লাগানো ছিল এবং দুই দেশের মানুষ সেখানে একসঙ্গে দাঁড়িয়ে ছিল।’
মাঠের বাইরে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যকার সেই পুরোনো হৃদ্যতা কেন হারিয়ে গেছে, মুশতাক তারও ব্যাখ্যা দিয়েছেন।
তারা (ভারত) এমন ভাব করে যেন অন্যদের কিছুই নেই। তাদের ঔদ্ধত্য অনেক বেড়েছে।সাকলায়েন মুশতাক
মুশতাকের ভাষায়, ‘আমার মনে হয় না সেই পুরোনো ভ্রাতৃত্ববোধ আর ফিরে আসবে। কারণ, পরিস্থিতি অনেক দূর গড়িয়েছে। ওদিকের মানুষ চায় না এটি ফিরে আসুক, তারা নিজেদের রাজনীতিকে চাঙা রাখতেই সচেতনভাবে বিষয়টিকে এমন পর্যায়ে রেখেছে এবং ভবিষ্যতেও রাখবে।’
বিশ্ব ক্রিকেটে ভারতই আয়ের মূল উৎস—এমন দাবির পরিপ্রেক্ষিতেও সাকলায়েন ক্ষোভ উগরে দেন।
সাবেক এই অফ স্পিনারের ভাষায়, ‘দেখুন, অর্থের প্রবাহ থাকে এবং তা বণ্টন হয়। কিন্তু তারা প্রায় প্রতিদিনই বলছে, “আমরা এত আয় করেছি এবং আইসিসিকে দিয়েছি, আমরা আয় করছি বলেই আপনারা খাচ্ছেন।” তারা এমন ভাব করে যেন অন্যদের কিছুই নেই। প্রায়ই তারা এমন সব কথা বলছে এবং তাদের ঔদ্ধত্য অনেক বেড়েছে।’