পাকিস্তান ক্রিকেট দল
পাকিস্তান ক্রিকেট দল

টি২০ বিশ্বকাপ

পাকিস্তানের সবচেয়ে বড় ‘প্রতিপক্ষ’ পাকিস্তানই

বিশ্বকাপের দল

• বাবর আজম (অধিনায়ক) • শাদাব খান • শাহিন আফ্রিদি • ইফতিখার আহমেদ • আসিফ আলী • হায়দার আলী • মোহাম্মদ হাসনাইন • শান মাসুদ • মোহাম্মদ নেওয়াজ • ফখর জামান • হারিস রউফ • মোহাম্মদ রিজওয়ান • খুশদিল শাহ • নাসিম শাহ • মোহাম্মদ ওয়াসিম

অনিশ্চয়তা! পাকিস্তান ক্রিকেট নিয়ে এ কথাটাই আসে সবার আগে। আজ দুর্দান্ত তো কাল যা তা। পাকিস্তানকে নিয়ে সব দলের ভীতির কারণও বোধ হয় এই অনিশ্চয়তা।

বাবর আজম-মোহাম্মদ রিজওয়ানরা নিজেদের খেলাটা খেলতে পারলে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ১৩ বছরের শিরোপা–খরা ঘুচতে পারে পাকিস্তানের। ২০০৯ সালে প্রথম চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পর মাঝে পাঁচ দফায় তিনবার সেমিফাইনাল খেলেছে। সর্বশেষ গত বছর ডুবিয়েছে খুব গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে একটা ক্যাচ মিস। অস্ট্রেলিয়ায় হাসান আলী-আসিফ আলীরা নিজেরাই নিজেদের বিপদ ডেকে না আনলে পাকিস্তানের এই দলটা নিয়ে আশা করাই যায়।

অধিনায়ক বাবর আজম

অস্ট্রেলিয়ার কন্ডিশনে পাকিস্তানের চার পেসারকে পেতে চাইবে যে কেউ। চোট কাটিয়ে ওঠা শাহিন আফ্রিদি টুর্নামেন্ট শুরুর আগে পুরো ফিট হয়ে উঠবেন বলে আশা। হারিস রউফ, মোহাম্মদ হাসনাইন ও নাসিম শাহ আছেন খেলার মধ্যেই। শাদাব খান ও মোহাম্মদ নওয়াজের স্পিনের সঙ্গে এই বোলিং আক্রমণ ভয় পাইয়ে দেওয়ার মতোই। শেষ দিকে শাদাব ও নওয়াজের দ্রুত রান তোলার সামর্থ্য পাকিস্তানের জন্য ‘বোনাস’।

ব্যাটিংয়ে পাকিস্তানের বড় শক্তি টপ অর্ডার। অধিনায়ক বাবর আজম ও মোহাম্মদ রিজওয়ানের ওপেনিং জুটি পাকিস্তানের রান তোলার ভিত। গত মাসেই ইংল্যান্ডের বিপক্ষে দুই শর বেশি তাড়া করে জিতেছেন দুজন। তাঁদের জন্য মিডল অর্ডারকে কমই পরীক্ষা দিতে হয়। আবার দুশ্চিন্তার কিছু থাকলে সেটা মিডল অর্ডার নিয়েই। আসিফ আলী-খুশদিলরা কেউ ধারাবাহিক নন। গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে টপ অর্ডার ব্যর্থ হলে বিপদ হতে পারে। ভোগাতে পারে টপ অর্ডারে ফখর জামান আর মিড অর্ডারে শোয়েব মালিকের অনুপস্থিতি। কিন্তু মিডল অর্ডারও জ্বলে উঠলে এই পাকিস্তান ভয়ংকর।

টি-টোয়েন্টি র‌্যাঙ্কিংয়ে চতুর্থ পাকিস্তান নিউজিল্যান্ডে ত্রিদেশীয় সিরিজ খেলে বিশ্বকাপের প্রস্তুতি সারবে। তার আগে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজ ও এশিয়া কাপেও দল নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা হয়েছে। এশিয়া কাপের ফাইনালের মতো বড় ম্যাচে শ্রীলঙ্কাকে (৫৮/৫) বাগে পেয়েও হার পাকিস্তান ক্রিকেটের পুরোনো ব্যাধিকেই মনে করিয়ে দেয়। বিশ্বকাপে এমন ম্যাচে বুদ্ধিমত্তার পরীক্ষা দিতে হবে অধিনায়ক বাবরকে। টি-টোয়েন্টিতে তাঁর অধিনায়কত্বে সবচেয়ে বেশি ম্যাচ জিতেছে পাকিস্তান। এখন সময় বিশ্বকাপ জেতার। তাহলে সময়ের সেরাদের দৌড়ে বাবরেরও বেশ বড় একটা ধাপ এগিয়ে যাওয়া হয়।

পাকিস্তানের কোচিং স্টাফে আছেন ম্যাথু হেইডেন ও শন টেইটের মতো সাবেক অস্ট্রেলিয়ানরা। অস্ট্রেলিয়ার কন্ডিশনে কীভাবে ভালো করতে হয়, হেইডেন-টেইটের কাছ থেকে নিশ্চয়ই শেখা হয়ে গেছে বাবর-নাসিমদের। শাদাব-নওয়াজদের জন্য প্রধান কোচ সাকলায়েন মুশতাকের মতো কিংবদন্তি স্পিনার আর বাবর-রিজওয়ানদের জন্য আছেন মোহাম্মদ ইউসুফের মতো কিংবদন্তি। বড় টুর্নামেন্টে দুজনই পরীক্ষিত—অভিজ্ঞতার ভান্ডারও সমৃদ্ধ। এখন প্রশ্ন একটাই। বাবর-রিজওয়ানরা অনিশ্চয়তার পুরোনো ব্যাধি ঝেড়ে কত দূর যেতে চান?

সূচি

সুপার টুয়েলভ

২৩ অক্টোবর  বেলা ২টা       মেলবোর্ন       ভারত

২৭ অক্টোবর   বিকেল ৫টা    পার্থ              বি ১

৩০ অক্টোবর  বেলা ১টা       পার্থ              এ ২

০৩ নভেম্বর    বেলা ২টা       সিডনি          দক্ষিণ আফ্রিকা

০৬ নভেম্বর    সকাল ১০টা   অ্যাডিলেড     বাংলাদেশ

সবচেয়ে বেশিবার সেমিফাইনালে উঠেছে পাকিস্তান।
৩০
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে পাকিস্তানের তিন বোলার ৩৫ বা এর বেশি উইকেট পেয়েছেন। সর্বোচ্চ ৩৯ উইকেট শহীদ আফ্রিদির।
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে তিনবার ৪ বা ততোধিক উইকেট পেয়েছেন পাকিস্তানের সাঈদ আজমল।