মোহাম্মদ রিজওয়ান
মোহাম্মদ রিজওয়ান

ঘরোয়া ক্রিকেট খেলতে দেওয়া হচ্ছে না, ফোন এখনো জব্দ—কী আছে রিজওয়ানের কপালে

মোহাম্মদ রিজওয়ানকে নিয়ে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের (পিসিবি) তদন্ত যেন শেষ হচ্ছে না। পাকিস্তানের ন্যাশনাল সাইবার ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন (এনসিসিআইএ) এজেন্সি তাঁর বিরুদ্ধে অনলাইন বেটিং ও জুয়াসংক্রান্ত তদন্ত করছে চলতি মাসের মাঝামাঝিতে শেষ হওয়া ইংল্যান্ড সফর থেকে। এর পর থেকেই পাকিস্তানের ক্রিকেটে রিজওয়ানের দরজা বন্ধ।

জব্দ হওয়া ফোন পাননি, তাঁকে দূরে রাখা হয়েছে ঘরোয়া ক্রিকেট থেকে, এমনকি সংবাদমাধ্যমের সঙ্গেও কথা বলতে দেওয়া হচ্ছে না। রিজওয়ানের কপালে কী আছে কে জানে!

পিসিবি কী বলছে

পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের (পিসিবি) অবস্থান স্পষ্ট নয়। তারা শুধু জানিয়েছে, অভ্যন্তরীণ তদন্ত চলছে। সম্প্রতি এক বিবৃতিতে পিসিবি বলেছে, ‘এ ধরনের বিষয়গুলো বোর্ডের নিয়মিত প্রক্রিয়া অনুযায়ী পরিচালিত হয়। পিসিবির বিধিমালা অনুসরণ করেই প্রক্রিয়াটি চলছে এবং সংশ্লিষ্ট সবার বিষয়টি যথাযথভাবে বিবেচনা করা হচ্ছে।’

রিজওয়ান আদালতের কাছে গেলেও আদালতও তাঁকে ফিরিয়ে দিয়েছেন। এমনকি আইসিসির কাছেও বিষয়টি নিয়ে গেছেন। আইসিসির অ্যান্টি-করাপশন ইউনিটের কাছে জানতে চেয়েছেন, তাঁর মুঠোফোন জব্দ করা, সেটি ইংল্যান্ড থেকে পাকিস্তানে নেওয়া এবং ফরেনসিক পরীক্ষা করার বিষয়ে আইসিসি বা ইংল্যান্ড অ্যান্ড ওয়েলস ক্রিকেট বোর্ড (ইসিবি) কিছু জানত কি না, কিংবা তারা এতে জড়িত ছিল কি না। আইসিসির কাছ থেকেও এখনো কোনো জবাব পাননি এই উইকেটকিপার–ব্যাটসম্যান।

রিজওয়ান সঠিক, নাকি তদন্ত সংস্থা?

পিসিবির আইন বিভাগের সাবেক প্রধান তাফাজ্জুল রিজভির সঙ্গে কথা বলেছে ক্রিকেট পোর্টাল ক্রিকবাজ। সেখানে রিজভি বলেছেন, ‘এ মুহূর্তে রিজওয়ানের কাছে শুধু একটি নোটিশ পাঠানো হয়েছে এবং তাঁকে একটি প্রশ্নমালার উত্তর দিতে বলা হয়েছে।’

২০১০ সালের বহুল আলোচিত স্পট ফিক্সিং কেলেঙ্কারিতে পিসিবির হয়ে আইনি লড়াই করা রিজভি আরও বলেন, ‘শুধু নোটিশ দেওয়া বা কোনো সংস্থার সামনে হাজির হতে বলা মানেই কারও বিরুদ্ধে অভিযোগ বা অপরাধ স্বীকার করে নেওয়া নয়। এর উদ্দেশ্য কেবল তথ্য সংগ্রহ করা। এ মুহূর্তে রিজওয়ানের বিরুদ্ধে কোনো নেতিবাচক সিদ্ধান্তে যাওয়া উচিত নয়, তাঁর সুনাম বা সততা নিয়েও প্রশ্ন তোলা উচিত নয়।’

রিজওয়ানকে প্রথম শ্রেণির টুর্নামেন্টেও খেলতে দেওয়া হচ্ছে না

রিজভির ব্যাখ্যা, পাকিস্তানে অনলাইন বেটিং ও জুয়া অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হওয়ায় সাইবার ক্রাইম তদন্তকারী সংস্থার কোনো ব্যক্তিকে নোটিশ দেওয়ার বা তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ ও তথ্য সংগ্রহের জন্য হাজির হতে বলার আইনগত ক্ষমতা রয়েছে।

এমনকি সেই ব্যক্তি দেশের বাইরে থাকলেও কিংবা পাকিস্তানের ভেতরে অবস্থান করলে তাঁর কাছে তদন্তসংশ্লিষ্ট তথ্য বা উপকরণ আছে বলে মনে হলে সংস্থা তা চাইতে পারে। রিজভির ভাষায়, ‘এটাই দেশের আইন এবং সবাইকে সেই আইন মেনে চলতে হবে।’ এ ছাড়া রিজওয়ানের আইসিসিতে যাওয়া ঠিক হয়নি বলেও রিজভি মনে করেন।

ভবিষ্যৎ কী

ক্রিকবাজ জানিয়েছে, রিজওয়ানকে এখন পর্যন্ত দুবার মিডিয়ার সঙ্গে কথা বলতে দেওয়া হয়নি। এমনকি তিনি কোনো ব্যক্তি, পিসিবি, এফআইএ, এনসিসিআইএ কিংবা পাকিস্তানের বিরুদ্ধে অভিযোগ করবেন না বলার পরও মিডিয়ায় কথা বলতে দেওয়া হয়নি। তাঁর বিরুদ্ধে তদন্তের এই প্রক্রিয়া সঠিক কি না, সেটা নিয়ে প্রশ্ন আছে রিজওয়ানের।

রিজওয়ানের সঙ্গে ইমাম–উল–হককেও একই অভিযোগে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছিল। তাঁর ফোনও নেওয়া হয়েছিল এবং তাঁকেও এনসিসিআইএ জিজ্ঞাসাবাদ করেছে। কিন্তু রিজওয়ানের মতো প্রকাশ্যে এ নিয়ে কোনো অবস্থান নেননি ইমাম।

এদিকে রিজওয়ানকে প্রেসিডেন্টস ট্রফি গ্রেড-১ প্রথম শ্রেণির টুর্নামেন্টেও খেলতে দেওয়া হয়নি। ইংল্যান্ড সফর থেকে ফিরে আসা বেশির ভাগ ক্রিকেটার এই প্রতিযোগিতায় অংশ নিচ্ছেন। রিজওয়ানকে নর্দার্ন গ্যাস পাইপলাইনস লিমিটেডের সহ-অধিনায়ক করা হলেও মাঠে নামার অনুমতি পাননি তিনি।