
প্রথম ইনিংস শেষেই কি ফাইনালের ভাগ্য লেখা হয়েছে?
আজ হারারেতে অনূর্ধ্ব–১৯ বিশ্বকাপ ফাইনালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ভারত আগে ব্যাটিং করে তুলেছে ৪১১ রান। যা জাতীয় দল ও ছেলে–মেয়ে নির্বিশেষে আইসিসি বিশ্বকাপ ফাইনাল ইতিহাসে সর্বোচ্চ। এমন কিছুর পর ইংল্যান্ড যুবাদের শিরোপা জিততে হলে আরেকটি রেকর্ডই গড়তে হতো। তবে সেটা তারা পারেনি।
ইংল্যান্ডকে ৩১১ রানে অলআউট করে ১০০ রানের জয়ে ২০২৬ আইসিসি অনূর্ধ্ব–১৯ বিশ্বকাপ জিতেছে ভারত। বয়সভিত্তিক ক্রিকেটের সবচেয়ে বড় এই প্রতিযোগিতায় ভারত অনূর্ধ্ব–১৯ দলের এটি ষষ্ঠ শিরোপা।
জিম্বাবুয়ের মাটিতে ভারতের যুবাদের এই জয়ের মূল নায়ক বৈভব সূর্যবংশী। ১৪ বছর বয়সী এই ওপেনার ৮০ বলে খেলেছেন ১৭৫ রানের মহাকাব্যিক ইনিংস। যা যুব ওয়ানডের কোনো ফাইনাল বা নকআউট ম্যাচে সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত। আগের রেকর্ড ছিল ২০২৫ এশিয়া কাপ ফাইনালে ভারতের বিপক্ষে সামির মিনহাসের ১৭২ রান।
ছেলে ও মেয়েদের সিনিয়র ও জুনিয়র এবং যে কোনো আইসিসি টুর্নামেন্টের ফাইনাল মিলিয়ে সূর্যবংশীর ইনিংসটি ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ।
যদি সূর্যবংশীর ইনিংসের শুরুটা ছিল তুলনামূলকভাবে ধীর গতির। প্রথম ২৪ বলে করেছিলেন ২৪ রান। তবে পরের ১৫১ রান তুলতে তিনি খরচ করেছেন মাত্র ৫৬ বল। চার ও ছক্কা মেরেছেন ১৫টি করে। যুব ওয়ানডেতে এক ইনিংসে বাউন্ডারি থেকে সবচেয়ে বেশি রানেরও রেকর্ড এটি।
১২৬ মিনিটের এই মহাকাব্যিক ইনিংসের অবসান ঘটে ২৬তম ওভারে। ইংল্যান্ডের পেসার ম্যানি লামসডেনের গতি কমিয়ে দেওয়া একটি বলে শ্লগ সুইপ করতে গিয়ে উইকেটরক্ষক ও অধিনায়ক টমাস রোর হাতে ধরা পড়েন তিনি। সূর্যবংশী যখন মাঠ ছাড়ছিলেন, তখন ভারতের স্কোর ছিল ৩ উইকেটে ২৫১ রান। এরপর ভারত যোগ করতে পেরেছে ১৬০ রান।
রান তাড়ায় ইংল্যান্ডের হয়ে সেঞ্চুরি করেছেন কালেব ফালকনোর। ৬৭ বলে ১১৫ রান করে ইংল্যান্ডের শেষ ব্যাটসম্যান হিসেবে আউট হন তিনি। তাঁর সেঞ্চুরির কারণেই ১৭৭ রানে ৭ উইকেট হারানো ইংল্যান্ড ৩১১ রান পর্যন্ত যেতে পেরেছে।
ভারত: ৫০ ওভারে ৪১১/৯ (সূর্যবংশী ১৭৫, আয়ুশ ৫৩; মিন্টো ৩/৬৩, গ্রিন ২/৪৯) ইংল্যান্ড: ৪০.২ ওভারে ৩১১ (ফালকনোর ১১৫, ডকিন্স ৬৬; অ্যামব্রিশ ৩/৫৬, চৌহান ২/৬৩) ফল: ভারত ১০০ রানে জয়ী। ম্যান অব দ্য ম্যাচ: বৈভব সূর্যবংশী। টুর্নামেন্টসেরা: বৈভব সূর্যবংশী