
মিরপুরে আজ নাহিদ রানার গতির ঝড়ে রীতিমতো উড়ে গেছে পাকিস্তানের ব্যাটিং লাইনআপ। সিরিজের প্রথম ওয়ানডেতে ২০৯ বল বাকি রেখেই ৮ উইকেটে জিতেছে বাংলাদেশ। ২৪ রান দিয়ে ৫ উইকেট নিয়ে ওয়ানডেতে পাকিস্তানের বিপক্ষে বাংলাদেশের সেরা বোলিংয়ের রেকর্ড গড়েছেন নাহিদ রানা।
তাড়া করতে নেমে তানজিদ হাসান করেছেন ৪২ বলে ৬৭ রান। বাংলাদেশের এমন দাপুটে পারফরম্যান্সের উচ্ছ্বসিত প্রশংসা করেছেন সাবেক পাকিস্তানি পেসার মোহাম্মদ আমির, তবে একই সঙ্গে পাকিস্তান দলের তীব্র সমালোচনাও। আমির মনে করছেন, বাংলাদেশের ‘আউট অব সিলেবাস’ কৌশলের কাছে ধরাশায়ী হয়েছে পাকিস্তান।
ম্যাচ শেষে নিজের ইউটিউব চ্যানেলে পাকিস্তানের এই ভরাডুবি নিয়ে বিশ্লেষণ করেছেন মোহাম্মদ আমির। তাঁর মতে, পাকিস্তান ভেবেছিল মিরপুরে হয়তো স্পিন উইকেট হবে; কিন্তু বাংলাদেশ ঘাসে ঢাকা বাউন্সি উইকেট বানিয়ে চমকে দিয়েছে।
আমির বলেন, ‘বাংলাদেশ খুব স্মার্টলি খেলেছে। আমরা টার্নিং উইকেটের কথা ভাবছিলাম; কিন্তু ওরা বানিয়ে দিল গতির উইকেট। ঠিক যেন ‘‘আউট অব সিলেবাস’’ প্রশ্ন চলে এসেছে। ১৪০ প্লাস গতির বোলার দেখলেই আমাদের ব্যাটসম্যানরা লাফালাফি শুরু করে দেয়।’
পাকিস্তানের ব্যাটিং–ধসের পেছনে অনুশীলনের ত্রুটি দেখছেন আমির। নেটে শুধু বল ছুড়ে প্র্যাকটিস করার সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘পাওয়ার হিটিং বা ডিফেন্স মানে এই নয় যে কেউ ওপর থেকে বল ছুড়ে দিচ্ছে আর আপনি খেলছেন। আসল পেসের বিপক্ষে খেলার সামর্থ্য থাকতে হবে। মাজ সাদাকাত বা শামিল হোসেনদের মতো তরুণদের টেকনিকে অনেক ভুল আছে। তারা শুধু মিড-উইকেটে খেলতে চায়, অফ স্টাম্পের বল বোঝে না।’
পাকিস্তানের এই দলটাকে একেবারেই ভারসাম্যহীন মনে করেন আমির। এ জন্য পিসিবির নির্বাচকদেরও একহাত নিয়েছেন এই সাবেক পেসার। কামরান গোলাম বা ইরফান খান নিয়াজির মতো পারফমারদের সুযোগ না দিয়ে অপরিপক্ব খেলোয়াড়দের দলে নেওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করে আমির বলেছেন, ‘আমরা এখন বাংলাদেশের কাছেও হারতে শুরু করেছি। আমার ভয় লাগছে, শেষ পর্যন্ত আমরা অ্যাসোসিয়েট দল না হয়ে যাই। ৫-৬ জন সিনিয়রকে বাদ দিয়ে শুধু তরুণদের দিয়ে দল হয় না। দলে সিনিয়র-জুনিয়রদের ভারসাম্য থাকতে হবে।’
বাংলাদেশের ব্যাটিংয়ের প্রশংসা করে আমির বলেছেন, ‘তারা আমাদের এমনভাবে মেরেছে যেন মনে হচ্ছিল অনেক মজা পাচ্ছে। যে উইকেটে আমরা ১১৪ রান করলাম, সেই উইকেটে তারা ১০-১২ ওভারে রান তাড়া করে ফেলেছে।’
আমির তাঁর উত্তরসূরিদের সতর্ক করে বলেছেন, ‘আমি আপনাদের বলে দিই, বাংলাদেশ আপনাদের কোনো স্পিন ট্র্যাক দেবে না। তারা এমন উইকেটই দেবে। তাদের তিনজন ফাস্ট বোলারই শক্তিশালী, যারা ১৩৫-১৪০ গতিতে বল করে, বিশেষ করে নাহিদ রানা। তারা সিরিজ জেতার জন্য এই সুযোগটাই নেবে।’