দলের সঙ্গে অনুশীলনে পিটার বাটলার
দলের সঙ্গে অনুশীলনে পিটার বাটলার

সাফ নারী ফুটবল

ভারতের বিপক্ষে প্ল্যান ‘এ’ ও ‘বি’ নিয়ে নামবে বাংলাদেশ

সাফ নারী চ্যাম্পিয়নশিপে গ্রুপসেরা হওয়ার লক্ষ্যে ভারতের বিপক্ষে বড় ম্যাচে মাঠে নামছে বাংলাদেশ। ৮ মে মালদ্বীপকে ৪-২ গোলে হারালেও বর্তমান চ্যাম্পিয়নদের পারফরম্যান্স ছিল কিছুটা অনুজ্জ্বল। তবে আগামীকাল গোয়ার মারগাঁওয়ের জওহরলাল নেহেরু স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ সময় রাত আটটায় স্বাগতিকদের মুখোমুখি হওয়ার আগে ভিন্ন কৌশলে এগোচ্ছে লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা।

টুর্নামেন্টের সমীকরণ বলছে, সেমিফাইনালে অন্যতম ফেবারিট নেপালকে এড়াতে হলে এই ম্যাচে ভারতকে হারানো চাই বাংলাদেশের। ড্র বা হারলে রানার্সআপ হিসেবে সেমিতে যেতে হবে। অবশ্য অতীত ইতিহাস অনুপ্রেরণা দিচ্ছে; কারণ, গত দুটি সাফেই ভারতকে হারিয়েছিল বাংলাদেশ। সেই ধারা ধরে রাখতে ভারতের বিপক্ষে প্ল্যান ‘এ’ ও ‘বি’ দুটোই নিয়ে নামবে বাংলাদেশ।

আজ সকালে জওহরলাল নেহেরু স্টেডিয়াম লাগোয়া ডন বক্সো কলেজ মাঠে অনুশীলন করেছে বাংলাদেশ। অনুশীলনে সব রকমের প্রস্তুতিই নিয়েছেন কোচ পিটার বাটলার। মালদ্বীপের বিপক্ষে দুটি গোল খাওয়ায় রক্ষণ নিয়ে কাজ হয়েছে। সুখবর হলো, রক্ষণে শিউলি আজিম ফিরছেন এ ম্যাচে। কোচ মাঝমাঠ, আক্রমণের ছক, শুটিং, কর্নার, ফ্রিকিক—সব ধরনের অনুশীলন করিয়েছেন। মাঝমাঠে মনিকা চাকমা ফিরছেন।

অনুশীলন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন কোচ পিটার বাটলার। ম্যাচে রক্ষণভাগ থেকে কী চান—এমন প্রশ্নে পিটার বাটলার বলেন, ‘এই ম্যাচটি আমাদের কয়েকজন খেলোয়াড়কে মাঠে খেলার সময় দেওয়ার একটি সুযোগ তৈরি করে দেবে। মনিকা দলে ফিরছে। আমি আজ সকালে কয়েকটি বিষয় নিয়ে কাজ করেছি।

সেটিকে অপশন ১, অপশন ২ বা প্ল্যান ‘এ’, প্ল্যান ‘বি’, যাই বলুন না কেন। আমাদের সামনে কিছু সুনির্দিষ্ট কাজ করার সুযোগ আছে। আমরা জানি আমরা একটি শক্তিশালী দলের বিপক্ষে খেলতে যাচ্ছি। আমরা আমাদের কাজ করব এবং গত ম্যাচের ভিডিও অ্যানালাইসিস করে সে অনুযায়ী প্রস্তুতি নেব।’

অনুশীলন শেষে কোচ পিটার বাটলার

এটি একটি বড় ম্যাচ এবং বড় মঞ্চে খেলোয়াড়দের চাপ কমাতে ও অনুপ্রাণিত করতে কোচ কী করছেন? বিশেষ করে যখন ভারতকে সাম্প্রতিক সময়ে দুবার হারানো গেছে...এমন প্রসঙ্গে পিটার বাটলার বলেন, ‘আমার মতে এটি এমন একটি ম্যাচ যা খেলোয়াড়রা খেলতে চাইবে। মালদ্বীপের মতো দলের চেয়ে এই অঞ্চলের বড় দলগুলোর বিপক্ষে খেলা নিজেদের পরীক্ষা করার একটি দারুণ সুযোগ। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, আমাদের দলে উমেলাহ, প্রীতি, সাগরিকা, মৌমিতা এবং অর্পিতার মতো একঝাঁক তরুণ খেলোয়াড় উঠে আসছে যারা দলের অন্যদের ওপর চাপ তৈরি করছে। এটি আমরা কোন অবস্থানে আছি, তা দেখানোর এবং ভালো ফুটবল খেলার একটি বড় সুযোগ।’

মালদ্বীপ ম্যাচের পর মেয়েদের খুব বিষণ্ন দেখালেও আজ অনুশীলনে তারা বেশ হাসিখুশি ছিল, তাঁদের কীভাবে অনুপ্রাণিত করলেন? এমন প্রশ্নের জবাবে পিটার বাটলারের উত্তর, ‘আমি মনে করি না তারা বিষণ্ন ছিল। তারা কিছুটা হতাশ ছিল; কারণ, যে ম্যাচে আমাদের অনায়াসে জেতা উচিত ছিল এবং যেখানে আমাদের ৮০ শতাংশ বল পজিশন ছিল, সেখানে আমরা সুযোগগুলো কাজে লাগাতে পারিনি।’
গত ম্যাচের তুলনায় শুরুর একাদশে কোনো পরিবর্তন আসবে কি না, তা নিশ্চিত করে পিটার বাটলার বলেন, ‘হ্যাঁ, একাদশে কিছু পরিবর্তন আসবে।’

ভারতের কাছে হেরে গেলে সেমিফাইনালে নেপালের মুখোমুখি হতে হতে পারে, তাই জয়ের বিকল্প কোনো চিন্তা আছে কি না—জানতে চাইলে পিটার বাটলার বলেন, ‘দেখুন, আপনি নেপাল না ভারত কার সঙ্গে খেলছেন সেটা বড় বিষয় নয়, বড় বিষয় হলো আপনি সেমিফাইনালে আছেন। আমি প্রতিটি ম্যাচকে আলাদাভাবে দেখি। আমি নেপাল অন্য অন্য দল—কাকে প্রতিপক্ষ হিসেবে পাব তা নিয়ে বিচলিত নই। আমি কোনো দলকে ভয় পাই না। আমি বরং বড় দলের মুখোমুখি হতে পছন্দ করি; কারণ, এটি আমাদের সামর্থ্য পরীক্ষা করে। টুর্নামেন্ট জিততে হলে আপনাকে কোনো না কোনো পর্যায়ে সেরা দলের মুখোমুখি হতেই হবে।’

ভারতের বিপক্ষে ম্যাচের আগে অনুশীলনে বাংলাদেশের মেয়েরা

দল সেমিফাইনালে উঠে গেলেও এই ম্যাচটি কতটা গুরুত্বপূর্ণ এবং কেন, তা ব্যাখ্যা করে পিটার বাটলার বলেন, ‘মানসিকভাবে এটি আমাদের আত্মবিশ্বাস জোগাবে, তবে এটাই সব নয়। আমাদের মূল লক্ষ্য ছিল সেমিফাইনালে যাওয়া। আমি কোনো দলকে এড়িয়ে যাওয়ার কথা বলে তাদের অসম্মান করতে চাই না। টুর্নামেন্ট জিততে হলে সেরা দলের সঙ্গেই লড়তে হবে। আমরা প্রতিযোগিতামূলক ফুটবল খেলব এবং আমাদের সেরাটা দেব।’

গতকাল ডিফেন্ডার শাসসুন্নাহার সিনিয়র বলেছিলেন ভারত-বাংলাদেশ ম্যাচ ৫০-৫০ লড়াই হবে, সেই মন্তব্যের সঙ্গে একমত পোষণ করে পিটার বাটলার বলেন, ‘আমি তার সঙ্গে একমত। এটি একটি ৫০-৫০ লড়াই। সবকিছু নির্ভর করবে আপনি মাঠে কীভাবে আপনার পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছেন এবং প্রতিপক্ষকে কতটা সম্মান দিচ্ছেন তার ওপর।’