আজ রাতে ডিসি ইউনাইটেডের বিপক্ষে খেলবে মেসির দল
আজ রাতে ডিসি ইউনাইটেডের বিপক্ষে খেলবে মেসির দল

মেসিদের বিপক্ষে ম্যাচ থাকলেই কেন মাঠ বদলাচ্ছে দলগুলো

লিওনেল মেসি কি জানতেন, ইন্টার মায়ামিতে যোগ দেওয়ার পর তাঁকে এনএফএল, মানে আমেরিকান ফুটবলের অলিগলিও মুখস্থ করতে হবে? কিন্তু ভাগ্য কত কিছুই তো করায়!

মায়ামির এই মহাতারকা বাংলাদেশ সময় আজ রাত সাড়ে তিনটায় খেলবেন ডিসি ইউনাইটেডের বিপক্ষে, বাল্টিমোরের এম অ্যান্ড টি ব্যাঙ্ক স্টেডিয়ামে। সাধারণত এই মাঠ এনএফএল জায়ান্ট বাল্টিমোর রেভেনসের দুর্গ। কিন্তু এই সপ্তাহের জন্য এটি হয়ে উঠছে ডিসি ইউনাইটেডের সাময়িক ডেরা। মায়ামিকে আতিথ্য দিতে নিজেদের ঘরের মাঠ অডি ফিল্ড ছেড়ে প্রায় ৪০ মাইল দূরে চলে গেছে তারা।

২০ হাজারি অডি ফিল্ড বাদ দিয়ে ৭১ হাজারি এ বিশাল স্টেডিয়ামে ম্যাচ সরিয়ে নেওয়ার নেপথ্যে রহস্যময় কিছু নেই। কারণটা স্রেফ নিরেট পেশাদারি এবং অবশ্যই অর্থনৈতিক। গত বছর কলম্বাস ক্রু-ও ঠিক একই কাজ করেছিল। ওহাইওর রাজধানী ছেড়ে তারা ১৪০ মাইল দূরে ক্লিভল্যান্ডের হান্টিংটন ব্যাঙ্ক ফিল্ডে ম্যাচ নিয়ে গিয়েছিল। কারণ একটাই—মেসি–ম্যানিয়া।

এমএলএসের কট্টর সমর্থকেরা হয়তো একে ঐতিহ্যের বিচ্যুতি বলে গালমন্দ করছেন। কিন্তু দিন শেষে বাজারের সেরা পণ্যটিকে নতুন গ্রাহকের কাছে পৌঁছে দেওয়ার এর চেয়ে ভালো উপায় আর কী হতে পারে!

ইন্টার মায়ামির ম্যাচের মাধ্যমে নতুন দর্শকের কাছে পৌঁছাতে চায় এমএলএস

লুকোছাপার কিছু নেই, এই মাঠ বদলের মূল লক্ষ্য হলো অর্থ। কলম্বাস ক্রু তাদের ২০ হাজারি গ্যালারি এমনিতে ভর্তি করতে পারে। কিন্তু ক্লিভল্যান্ডে ম্যাচ নিতেই দর্শক হয়েছিল ৬০ হাজার। টিকিটের দাম না বাড়ালেও তিন গুণ দর্শক মানেই তিন গুণ মুনাফা।

আর মুদ্রার উল্টো পিঠ হলো, এনএফএল স্টেডিয়ামে খেলা মানেই টিকিটের দাম চড়চড় করে বেড়ে যাওয়া। বাল্টিমোরের এই ম্যাচের জন্য পুনঃবিক্রয় বাজারে সর্বনিম্ন টিকিটের দাম ঠেকেছে ৭১ ডলারে, আর নিচতলার গ্যালারিতে বসে মেসিকে দেখার শখ মেটাতে গুনতে হচ্ছে ৫০০ ডলারের বেশি!

আসলে ফুটবলের দুনিয়ায় এখনো মেসির চেয়ে বড় আকর্ষণ আর কেউ নেই। ফুটবলপ্রেমীদের কাছে এখনো মেসিকে সরাসরি দেখাটা এখন জীবন-খাতার ‘বাকেট লিস্টের’ শীর্ষে। এ বছরই ৩৯-এ পা দেবেন আর্জেন্টাইন জাদুকর। সময় ফুরিয়ে আসছে, তাই এ সুযোগ কেউ হারাতে চাইছে না।

মাঠ পরিবর্তনের সুফল কি কেবল মালিকদের পকেটেই যাচ্ছে? তা নয়। আমেরিকার ফুটবলের প্রসারেও এর একটা ভূমিকা আছে। বাল্টিমোর এমন এক শহর, যেখানে বড় কোনো পেশাদার ফুটবল দল নেই। ডিসি ইউনাইটেড এ সুযোগে সেই নতুন বাজারটা ধরতে চাইছে। যাঁরা মেসিকে দেখতে আসবেন, তাঁরা হয়তো ফেরার পথে অ্যাপল টিভিতে এমএলএসের সাবস্ক্রিপশনটাও নিয়ে নিতে পারেন।

কেউ যাবেন শুধু মেসিকে দেখতে, কেউ স্রেফ কৌতূহল মেটাতে। কিন্তু এর মধ্যে যদি অল্প কিছু মানুষও ফুটবলের প্রেমে পড়ে যান, তবেই এমএলএসের সার্থকতা। এমএলএসের মালিকেরা জানেন, এ সুযোগ বারবার আসবে না। তাই মেসি ও ইন্টার মায়ামির এই এনএফএল স্টেডিয়ামে সফর হয়তো চলতেই থাকবে।