লিগে ৬ পয়েন্টের লিড, মৌসুম প্রায় শেষের দিকে। তবু আর্সেনালের ঘুম নেই, মিকেল আরতেতার ঘুম নেই!
এপ্রিলের শেষ ভাগে এসে লিগ টেবিলে এমন ব্যবধানে এগিয়ে থেকেও এত অস্বস্তি, সেটা কি শুধু ১ নম্বরে থাকা দলটার নাম আর্সেনাল বলেই, নাকি পেছনের সেই ছায়াটার কারণে? যে ছায়া ম্যানচেস্টার সিটির। আর নীল রঙের সেই ছায়া ক্রমে দীর্ঘ হচ্ছে।
তাই ইতিহাদ স্টেডিয়ামে আজ রাতের লড়াইটা স্রেফ ৩ পয়েন্টের নয়, এই ম্যাচই হয়তো ঠিক করে দেবে ২০২৫-২৬ মৌসুমে ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের ট্রফির গন্তব্য। সেই অর্থে এই ম্যাচই হতে পারে লিগের অলিখিত ‘ফাইনাল’।
পয়েন্ট তালিকা বলছে, ৩২ ম্যাচে ৭০ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে আর্সেনাল। সিটির পয়েন্ট ৬৪, কিন্তু তারা ম্যাচ খেলেছে আর্সেনালের চেয়ে একটা কম। আজ সিটি জিতে গেলে দুই দলের ব্যবধান নেমে আসবে ৩ পয়েন্টে, সিটির হাতে থাকবে একটা বাড়তি ম্যাচ। মানে কার্যত তখন দুই দল থাকবে একই অবস্থানে। কেন আর্সেনালের ঘুম নেই, বুঝতে পারছেন তো!
অথচ একটা সময় মনে হচ্ছিল, আর্সেনাল বুঝি ধরাছোঁয়ার বাইরে চলে গেছে, কিন্তু গত সপ্তাহের ফল চিত্রনাট্য বদলে দিয়েছে। বোর্নমাউথের কাছে হেরে আর্সেনালের সেই পুরোনো ‘নার্ভাসনেস’ যেন আবার ফিরে এসেছে। ওদিকে স্টামফোর্ড ব্রিজে চেলসিকে ৩-০ গোলে উড়িয়ে দিয়ে পেপ গার্দিওলার দল জানান দিয়েছে, প্রিমিয়ার লিগে সর্বশেষ আট মৌসুমে ছয়বার চ্যাম্পিয়ন হয়ে কায়েম করা রাজত্বের অবসান এত সহজ হবে না।
এ ম্যাচে তাহলে ফেবারিট কোন দল? এমনকি অপ্টার সুপারকম্পিউটারও যেন দোলাচলে। তাদের ১০ হাজার সিমুলেশনে ম্যান সিটির জয়ের সম্ভাবনা ৩৭.৭ শতাংশ, আর্সেনালের ৩৫.৮।
এই যে সিটি সম্ভাবনায় একটু হলেও এগিয়ে, এর একটা বড় কারণ অবশ্যই রায়ান শেরকি। চেলসির বিপক্ষে সর্বশেষ ম্যাচেও দুটি গোল করিয়েছেন, পুরো মৌসুমে এখন তাঁর অ্যাসিস্ট ১০টি। ২২ বছর বয়সী এই ফরাসি প্লেমেকারকে পেপ গার্দিওলা মাঠে প্রায় অবাধ স্বাধীনতা দিয়ে রেখেছেন। যিনি পাশে পাচ্ছেন জানুয়ারিতে দলে যোগ দিয়ে এরই মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠা ঘানাইয়ান উইঙ্গার আন্তোয়ান সেমেনিওকে। দুজন মিলে সিটির আক্রমণভাগকে দিয়েছেন নতুন মাত্রা।
আর সামনে তো আর্লিং হলান্ড আছেনই। যদিও সর্বশেষ আট ম্যাচের মধ্যে ছয়টিতেই গোল পাননি নরওয়েজিয়ান এই স্ট্রাইকার। কিন্তু প্রিমিয়ার লিগে এখন তিনি প্রতিপক্ষ দলগুলোর জন্য চিরস্থায়ী আতঙ্ক। লিগে এই মৌসুমে সিটি গড়ে প্রতি ম্যাচে ২টির বেশি গোল করেছে, অন্য যেকোনো দলের চেয়ে বেশি।
অন্যদিকে আর্সেনালের ভরসা ভিক্টর ইয়োকেরেস। স্পোর্টিং থেকে এমিরেটসে যাওয়ার পর শুরুটা ম্যাড়মেড়ে হলেও সর্বশেষ পাঁচ ম্যাচে ৪ গোল করে নিজেকে চেনাচ্ছেন এই সুইডিশ স্ট্রাইকার। লিগে তাঁর গোল এখন ১২। কিন্তু আরতেতার দুশ্চিন্তা অন্য জায়গায়। বুকায়ো সাকা চোটের কারণে মাঠের বাইরে। মার্টিন ওডেগার্ড বা কালফিওরি খেলতে পারবেন কি না, সেই নিশ্চয়তা নেই।
অপ্টার সুপারকম্পিউটার বলছে, এই ম্যাচে ড্র করলেও আর্সেনালের শিরোপা জয়ের সম্ভাবনা ৮৯ শতাংশ। তবে মিকেল আরতেতা সেই পথে হাঁটতে রাজি নন। তার পরিষ্কার কথা, ‘আমরা জিততে নামব। একমুহূর্তের জন্যও ড্রয়ের কথা ভাবিনি।’
দুই বছর আগে (২০২৩-২৪) এই মাঠেই আর্সেনাল ডিফেন্সে গুটিয়ে খেলেছিল। ম্যাচ শেষ হয়েছিল গোলশূন্য ড্রয়ে। পরে রদ্রি বলেছিলেন, ‘ওরা আমাদের হারাতে চায়নি, শুধু ড্র চেয়েছিল।’
ওই কথাটা হয়তো এখনো কাঁটার মতো বিঁধে আছে আরতেতার মনে। সেবার আর্সেনাল লিগের শেষ ৯ ম্যাচের ৮টি জিতলেও শিরোপা পায়নি। ব্যবধান ছিল সিটির সঙ্গে ড্র করে হারানো সেই ২ পয়েন্ট! আক্ষেপ নিয়ে দেখতে হয়েছিল সিটির শিরোপা উৎসব।
আরতেতা জানেন, এবার সেই ভুলের পুনরাবৃত্তি চলবে না। লিগ শিরোপার জন্য ২২ বছরের অপেক্ষা এবার শেষ করতে চায় আর্সেনাল। অন্যদিকে ৯ বছরে সাতটি শিরোপা জিতে নতুন ইতিহাস লিখতে চায় সিটি।
ইতিহাদে আজ রাতে হয়তো গল্পের শেষটা লেখা হবে না। তবে এই গল্প কীভাবে শেষ হবে, সেটার একটা বড় ইঙ্গিত তো মিলবেই। আর সে জন্যই সিটি কোচ পেপ গার্দিওলা কয়েক দিন ধরে বারবার বলে যাচ্ছেন, ‘এই ম্যাচ হারলেই আমাদের সব শেষ!’
কথাটা প্রায় একই রকম সত্য তো আর্সেনালের জন্যও।