রিয়াল মাদ্রিদ সভাপতি ফ্লোরেন্তিনো পেরেজ। গতকাল সংবাদ সম্মেলনে
রিয়াল মাদ্রিদ সভাপতি ফ্লোরেন্তিনো পেরেজ। গতকাল সংবাদ সম্মেলনে

রিয়াল মাদ্রিদকে ধ্বংস করতে চায় একটি চক্র: ফ্লোরেন্তিনো পেরেজ

সংবাদমাধ্যমে তাঁকে সাধারণত দেখা যায় না। গতকাল হঠাৎই সংবাদ সম্মেলনের ডাক দেওয়ার পর তাই অনেকে ভেবেছিলেন, পদত্যাগ করবেন নাকি! যেহেতু ট্রফিহীন দুটি মৌসুম পার করল রিয়াল মাদ্রিদ, ড্রেসিংরুমেও মারামারির ঘটনা ঘটছে এবং তাঁর নিজেরও ক্যানসারে ভোগার গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে।

কিন্তু কিসের কী! গতকাল সংবাদ সম্মেলনে তাঁর বলা প্রথম কথাটি ছিল, ‘দুঃখের সঙ্গে জানাচ্ছি, আমি পদত্যাগ করছি না।’

ওহ, ৭৯ বছর বয়সী এই ভদ্রলোকের নামটাই বলা হয়নি। ফ্লোরেন্তিনো পেরেজ। রিয়াল মাদ্রিদ সভাপতি। রিয়ালের বোর্ড পরিচালকের সঙ্গে সভা শেষে সংবাদ সম্মেলনে এসেছিলেন পেরেজ। সেখানে বেশ কিছু শক্ত প্রশ্নের মুখে পড়েন এবং মেজাজও হারান দ্বিতীয় মেয়াদে ২০০৯ থেকে রিয়াল সভাপতির দায়িত্ব পালন করা পেরেজ।

টানা দুটি বাজে মৌসুমের পর প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে পেরেজের নেতৃত্ব। এবার কোপা দেল রে থেকে আগেভাগে বিদায়, সুপার কোপার ফাইনালে হার, চ্যাম্পিয়নস লিগের কোয়ার্টার ফাইনাল থেকে বিদায় ও লা লিগা জিততে ব্যর্থ হওয়া—এসবের পাশাপাশি কোচ ছাঁটাই, ড্রেসিংরুমে অঁরেলিয়ে চুয়ামেনি ও ফেদে ভালভের্দের মারামারির পর অনেকেই পেরেজের প্রতি অভিযোগের আঙুল তোলেন।

সংবাদ সম্মেলনে কড়া ভাষায় কথা বলেন পেরেজ

কিন্তু পেরেজের দাবি, চলতি মৌসুমে দলের খারাপ ফলের সুযোগ নিয়ে তাঁকে ব্যক্তিগতভাবে নিশানা করা হচ্ছে। তাঁর ভাষায়, ‘রিয়াল মাদ্রিদকে ধ্বংস করতে চায় এমন একটি চক্র সক্রিয় রয়েছে। আমি এই “রিয়ালবিরোধী” তৎপরতা বন্ধ করতে চাই।’

কীভাবে, সেটাও বলেছেন পেরেজ, ‘ক্লাবের সম্পদ সদস্যদের হাতে ফিরিয়ে দিতেই আমি পুনর্নির্বাচনে লড়ব। কেউ যদি নির্বাচন করতে চায়, তবে শুধু লোকদেখানো কথা না বলে মাঠে নামুক। তারা ক্লাবের জন্য কী করবে এবং অর্থায়নের উৎস কী হবে—সেটা পরিষ্কার করে বলুক। বাইরে অনেকে বলেন যে রিয়াল মাদ্রিদ সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু বাস্তবে এটিই বিশ্বের সবচেয়ে প্রভাবশালী ও মর্যাদাপূর্ণ ক্লাব।’

রিয়ালে যে সংকট চলছে না, তা নয়। কয়েক দিন আগে এল ক্লাসিকোতেও হেরে বার্সার হাতে শিরোপা তুলে দেয় তারা। তবে ড্রেসিংরুমে মারামারি নিয়ে বিতর্কই ছড়িয়েছে সবচেয়ে বেশি। পেরেজের মতে, এই ঘটনার চেয়েও খারাপ বিষয় হলো এটা বাইরে আসা। রিয়াল সভাপতির ভাষায়, ‘দুই খেলোয়াড়ের মধ্যে ঝামেলা হওয়ার ঘটনা এই প্রথম নয়। এমন অনেক মৌসুম গেছে যখন খেলোয়াড়েরা প্রতিনিয়ত নিজেদের মধ্যে তর্কে জড়িয়েছে। এসব হয়েই থাকে। এটা খারাপ, কিন্তু কিন্তু বিষয়টি জনসমক্ষে চলে আসা তার চেয়েও খারাপ...আগে কখনো তা সংবাদমাধ্যমে আসেনি।’ পেরেজ যোগ করেন, ‘তথ্য ফাঁস হওয়ার বিষয়টি ভয়াবহ। মারামারির তথ্য কারা সংবাদমাধ্যমে পাঠিয়েছে, ক্লাব ভালোভাবেই জানে।’

ক্যানসারে আক্রান্ত হওয়ার গুঞ্জন নিয়ে পেরেজ বলেন, ‘কেউ কেউ বলছেন আমার নাকি প্রাণঘাতী ক্যানসার হয়েছে। অথচ আমি এখনো রিয়াল মাদ্রিদ ও আমার নিজস্ব প্রতিষ্ঠানের সভাপতির দায়িত্ব পালন করছি। জানি না কেন এই গুজব ছড়ানো হচ্ছে। আমার যদি ক্যানসারই হতো, তবে তো আমাকে ক্যানসার সেন্টারে যেতে হতো। আপনারা কি মনে করেন আমি সেখানে গেলে সেটা জানাজানি হতো না? এ খবরের কোনো ভিত্তি নেই। তারা এটি সাজিয়েছে এবং পরে তা ডালপালা মেলেছে।’

আবার নির্বাচনে দাঁড়াতে চান পেরেজ

গুঞ্জন চলছে, জোসে মরিনিওকে নতুন কোচ হিসেবে ফিরিয়ে আনতে পারে রিয়াল। পেরেজ এ বিষয়ে কিছু বলেননি। তবে স্প্যানিশ ফুটবলে রেফারিং নিয়ে দুর্নীতির অভিযোগ তুলে পেরেজ জানান, তিনি এবং তাঁর সমর্থকেরা উয়েফার কাছে পাঠানোর জন্য ৫০০ পৃষ্ঠার একটি নথি তৈরি করছেন। এ ঘটনাকে ফুটবলের ইতিহাসে সবচেয়ে ভয়াবহ দুর্নীতি হিসেবে উল্লেখ করে পেরেজ বলেন, ‘এটি ফুটবলের সবচেয়ে গুরুতর দুর্নীতির ঘটনা। আমি মাত্র ৭টি চ্যাম্পিয়নস লিগ ও ৭টি লিগ শিরোপা জিতেছি; অথচ আমি ১৪টি করে জিততে পারতাম। বাকিগুলো আমার কাছ থেকে চুরি করা হয়েছে।’

স্পেনের রেফারি কমিটির সাবেক সহসভাপতি হোসে মারিয়া নেগ্রেইরাকে বছরের পর বছর ধরে প্রায় ৭০ লাখ ইউরো দেওয়ার অভিযোগে বার্সেলোনার বিরুদ্ধে তদন্ত করছে স্প্যানিশ কর্তৃপক্ষ। তবে বার্সেলোনা শুরু থেকেই কোনো ধরনের অনিয়মের কথা অস্বীকার করে আসছে।

পেরেজের এই বক্তব্যের কড়া জবাব দিয়েছে বার্সেলোনাও। মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে ক্লাবটি জানায়, ‘রিয়াল মাদ্রিদ সভাপতি ফ্লোরেন্তিনো পেরেজের ডাকা সংবাদ সম্মেলন এবং সেখানে তাঁর করা মন্তব্য ও অভিযোগগুলো আমাদের আইন বিভাগ খতিয়ে দেখছে। আপাতত পুরো বিষয়টি বিশ্লেষণ করা হচ্ছে এবং এর প্রেক্ষিতে পরবর্তী পদক্ষেপ কী হবে, তা বিবেচনাধীন রয়েছে।’