
পরশু রাতে ফুটবল দুনিয়ার মাতোয়ারা হওয়ার কথা ছিল এক অনবদ্য শিল্পকর্মে, ভিনিসিয়ুসের অসাধারণ এক গোলে। এই গোলটিই হতে পারত খবরের শিরোনাম। কিন্তু গোল ও খেলা ছাপিয়ে আবারও ম্যাচটি আটকে গেল নোংরা এক পুরোনো চক্রে—বর্ণবাদী আক্রমণের থাবায়।
বর্ণবাদী আক্রমণ ভিনিসিয়ুসের জন্য নতুন কিছু নয়। বিবিসির প্রতিবেদন অনুযায়ী, রিয়াল মাদ্রিদে যোগ দেওয়ার পর ৮ বছরে ইতিমধ্যে ২০টি এমন ঘটনার মুখোমুখি হয়েছেন বলে দাবি ভিনির। সর্বশেষ ঘটনাটি পরশু রাতের। চ্যাম্পিয়নস লিগে প্লে অফ ম্যাচের প্রথম লেগে ৫০ মিনিটের সময় ঘটেছে এই ঘটনা।
গোল করার পর উদ্যাপন করতে গিয়ে বেনফিকার আর্জেন্টাইন মিডফিল্ডার গিয়ানলুকা প্রেস্তিয়ান্নির সঙ্গে বিরোধে জড়ান ভিনি। আর তখনই ভিনির উদ্দেশে বর্ণবাদী মন্তব্য ছোড়েন প্রেস্তিয়ান্নি। ভিনিসিয়ুসের পাশে থাকা অঁরেলিয়ে চুয়ামেনি জানান, ভিনি তাঁর সতীর্থদের বলেছেন প্রেস্তিয়ান্নি তাঁকে ‘বানর’ বলেছেন। এমবাপ্পের দাবি, প্রেস্তিয়ান্নি ভিনিকে পাঁচবার বানর বলেছেন।
বর্ণবাদী আক্রমণের এই অভিযোগকে ঘিরেই গতকাল থেকে তোলপাড় ফুটবল দুনিয়া। এর মধ্যে বিষয়টি নিয়ে মুখ খুলেছেন ফিফা প্রেসিডেন্ট জিয়ান্নি ইনফান্তিনো। এক বিবৃতিতে ফিফা সভাপতি জানান, এই ঘটনায় তিনি ‘স্তম্ভিত ও মর্মাহত’।
ইনফান্তিনো ম্যাচের রেফারি ফ্রাঁসোয়া লেতেক্সিয়েরকে বর্ণবাদবিরোধী প্রোটোকল সক্রিয় করার জন্য অভিনন্দনও জানান। একই সঙ্গে তিনি সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া ও দায়ীদের জবাবদিহির আওতায় আনার আহ্বান জানান।
বিবৃতিতে ইনফান্তিনো বলেছেন, ‘উয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগে বেনফিকা ও রিয়াল মাদ্রিদ ম্যাচে ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের ওপর যে বর্ণবাদী আক্রমণের অভিযোগ উঠেছে, তা দেখে আমি স্তম্ভিত ও মর্মাহত। আমাদের খেলাধুলা কিংবা সমাজে বর্ণবাদের কোনো স্থান নেই। সংশ্লিষ্ট সবাইকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে এবং দায়ীদের জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে।’
ফিফা বর্ণবাদ নিরসনে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ জানিয়ে বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ‘ফিফা গ্লোবাল ইনিশিয়েটিভ অ্যাগেইনস্ট রেসিজম এবং প্লেয়ার্স’ ভয়েস প্যানেলের মাধ্যমে খেলোয়াড়, রেফারি এবং ভক্তদের সম্মান ও সুরক্ষা দেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করছে। যেকোনো বর্ণবাদী বা বৈষম্যমূলক ঘটনার সময় যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
এ সময় রেফারিকেও ধন্যবাদ দেন ইনফান্তিনো, ‘আমি রেফারি ফ্রাঁসোয়া লেতেক্সিয়েরকে অভিনন্দন জানাই, যিনি নিয়ম অনুসরণ করে ম্যাচ থামিয়ে বর্ণবাদের বিরুদ্ধে প্রোটোকল সক্রিয় করেছেন এবং পরিস্থিতি যথাযথভাবে মোকাবিলা করেছেন। ফিফা এবং পুরো ফুটবল বিশ্ব বর্ণবাদ ও সব ধরনের বৈষম্যের শিকার ব্যক্তিদের প্রতি দৃঢ় সহমর্মিতা প্রকাশ করে। আমরা বারবার বলব: বর্ণবাদ নয়, কোনো ধরনের বৈষম্য নয়।’