২০২৬–২৭ উয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগের ড্র অনুষ্ঠিত হয়েছে শুক্রবার
২০২৬–২৭ উয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগের ড্র অনুষ্ঠিত হয়েছে শুক্রবার

চ্যাম্পিয়নস লিগ: লিগ পর্বে চোখ রাখুন এই ৬ ম্যাচে

২০২৬–২৭ মৌসুমের চ্যাম্পিয়নস লিগের লিগ পর্বের ড্র হয়েছে গতকাল। ৩৬ দলের এই পর্বে প্রতিটি দল খেলবে আটটি করে ম্যাচ। ড্রয়ের পর থেকেই আলোচনায় চলে এসেছে বেশ কিছু বড় ম্যাচ। বর্তমান চ্যাম্পিয়ন পিএসজি, বার্সেলোনা, ম্যানচেস্টার সিটি, রিয়াল মাদ্রিদ, বায়ার্ন মিউনিখ ও ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড—সব বড় দলের সূচিতে থাকছে অন্তত একটি করে আকর্ষণীয় লড়াই।

এর মধ্যে ছয়টি ম্যাচে চোখ রাখতেই পারেন।

১. বার্সেলোনা–ম্যানচেস্টার সিটি: রদ্রির প্রত্যাবর্তন

ম্যানচেস্টার সিটির বিপক্ষে বার্সেলোনার ম্যাচটির আকর্ষণ শুধু দুই দলের তারকায় নয়, রদ্রির কারণেও। গত মৌসুম শেষে সিটি ছেড়ে বার্সেলোনায় যোগ দিয়েছেন স্প্যানিশ মিডফিল্ডার। এবার চ্যাম্পিয়নস লিগেই সদ্য সাবেক ক্লাবের মুখোমুখি হবেন তিনি।

রদ্রির কারণে চোখ রাখতে হবে বার্সা–সিটি ম্যাচে

সিটিতে রদ্রি ছিলেন মাঝমাঠের অন্যতম ভরসা। ২০২৪ সালে ব্যালন ডি’অরজয়ী এই ফুটবলার ২০২৩–২৪ মৌসুমে দলের চ্যাম্পিয়নস লিগ জয়ের অন্যতম নায়ক ছিলেন। বার্সেলোনায় যোগ দেওয়ার পর তাঁর সাবেক দলের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচটি তাই বাড়তি আগ্রহ তৈরি করছে।

আর সিটির নতুন কোচ এনজো মারেসকার জন্যও এটি বড় পরীক্ষা। পেপ গার্দিওলার উত্তরসূরি হিসেবে দায়িত্ব নেওয়া মারেসকার সামনে ইউরোপের অন্যতম শক্তিশালী দল বার্সেলোনা। তার ওপর ম্যাচটি হবে বার্সেলোনার মাঠে। সিটিকে এবার পিএসজি ও বার্সেলোনা দুই পরাশক্তির বিপক্ষেই খেলতে হবে।

২. বার্সেলোনা–কোমো: চেনা মাঠে ফাব্রেগাস

বার্সেলোনার এই ম্যাচও আলাদা করে নজর কাড়ার কথা। প্রতিপক্ষ কোমো। ইতালিয়ান ক্লাবটির চ্যাম্পিয়নস লিগে এটাই প্রথম অংশগ্রহণ।

কোমোর ডাগআউটে আছেন বার্সেলোনারই সাবেক খেলোয়াড় সেস্ক ফাব্রেগাস। ২০১১ থেকে ২০১৪ পর্যন্ত বার্সেলোনায় ছিলেন এই স্প্যানিশ ফুটবলার। এবার কোচ হিসেবে ফিরবেন সেই ক্যাম্প ন্যুতে, যেখানে খেলোয়াড় হিসেবে তিন মৌসুম কাটিয়েছেন। তাঁর জন্য ম্যাচটি তাই শুধু চ্যাম্পিয়নস লিগে কোমোর অভিষেক নয়, পুরোনো ঠিকানায় ফেরারও গল্প।

কোমো কোচ হয়ে ক্যাম্প ন্যুতে ফিরবেন বার্সার সাবেক খেলোয়াড় ফ্যাব্রেগাস

গত মৌসুমে সিরি আতে চতুর্থ হয়ে চ্যাম্পিয়নস লিগে জায়গা করে নিয়েছে কোমো। ইউরোপের অভিজাত প্রতিযোগিতায় প্রথমবার নেমেই বার্সেলোনার মতো দলের বিপক্ষে ইতিবাচক ফল পেলে সেটি ফাব্রেগাসের দলের জন্য বড় অর্জন হয়ে উঠবে। কোমোকে লিগ পর্বে পিএসজি ও ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের মতো দলের বিপক্ষেও খেলতে হবে।

বার্সেলোনা অবশ্য পরিষ্কার ফেবারিট। কিন্তু কোমোর কোচ হিসেবে ফাব্রেগাস গত মৌসুমে যে প্রশংসা কুড়িয়েছেন, তাতে এই ম্যাচকে পুরোপুরি একতরফা ধরে নেওয়ার সুযোগও নেই।

৩. ম্যান ইউনাইটেড–বায়ার্ন: ১৯৯৯-এর স্মৃতি

চ্যাম্পিয়নস লিগের সবচেয়ে স্মরণীয় ফাইনালগুলোর একটি ছিল ১৯৯৯ সালের ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড–বায়ার্ন মিউনিখ ফাইনাল। ন্যু ক্যাম্পে ম্যাচের শেষ মুহূর্তে টেডি শেরিংহাম ও ওলে গুনার সুলশারের দুই গোলে ২–১ ব্যবধানে জিতেছিল ইউনাইটেড।

দুই দল আবারও মুখোমুখি হচ্ছে। ২০২৩ সালেও অবশ্য মুখোমুখি হয়েছিল দুই দল। সেবার গ্রুপ পর্বে বায়ার্নের কাছে দুই ম্যাচেই হেরেছিল ইউনাইটেড। মিউনিখে ৪–৩ হারের পর ওল্ড ট্র্যাফোর্ডে ফিরতি ম্যাচেও ১–০ গোলে হেরেছিল ইংলিশ ক্লাবটি। সেই হারে গ্রুপের তলানিতে থেকে বিদায় নিতে হয়েছিল ইউনাইটেডকে।

ইউরোপিয়ান কাপে সবচেয়ে বেশি ম্যাচ খেলা দলগুলোর তালিকায় বায়ার্ন দ্বিতীয় ও ইউনাইটেড ষষ্ঠ। ফলে এই দুই দলের ম্যাচ যেন চ্যাম্পিয়নস লিগেরই স্বাভাবিক দৃশ্য। ২০২৩ সালের পর আবার ওল্ড ট্র্যাফোর্ডে বায়ার্নের বিপক্ষে ইউরোপের বড় ম্যাচ—মাইকেল ক্যারিকের দলের জন্যও তাই এটি বড় পরীক্ষা।

৪. পিএসজি–বার্সেলোনা: রেমোন্তাদা থেকে নতুন মহারণ

সাম্প্রতিক বছরগুলোর চ্যাম্পিয়নস লিগের সবচেয়ে আলোচিত দ্বৈরথগুলোর একটি পিএসজি–বার্সেলোনা। ২০১৭ সালের সেই অবিশ্বাস্য ‘রেমোন্তাদা’ এখনো দুই দলের লড়াইয়ের সবচেয়ে বড় গল্প। শেষ ষোলোতে প্যারিসে প্রথম লেগে পিএসজির কাছে ৪–০ গোলে হেরেছিল বার্সেলোনা। ফিরতি লেগে ঘরের মাঠে ৬–১ জিতে অসম্ভবকে সম্ভব করে কোয়ার্টার ফাইনালে উঠেছিল কাতালুনিয়ার ক্লাবটি। চ্যাম্পিয়নস লিগের ইতিহাসে সেটিই হয়ে আছে অন্যতম নাটকীয় প্রত্যাবর্তন।

চ্যাম্পিয়নস লিগে আবারও মুখোমুখি হবে বার্সেলোনা ও পিএসজি

দুই দলের সাম্প্রতিক লড়াইও কম আকর্ষণীয় নয়। মুখোমুখি ১৬ ম্যাচে দু দলই জিতেছে ছয়টি করে, চারটি হয়েছে ড্র। আর গোলের নিশ্চয়তাও যেন এই ম্যাচের অংশ। সর্বশেষ ছয় দেখায় কোনো দলই ক্লিনশিট রাখতে পারেনি, আর সর্বশেষ তিন ম্যাচেই হয়েছে অন্তত তিন গোল।

এবার অবশ্য দুই দলই ইউরোপের সেরাদের কাতারে। পিএসজি টানা দুই মৌসুমের চ্যাম্পিয়ন, আর বার্সেলোনা গত দুই মৌসুমে যথাক্রমে সেমিফাইনাল ও কোয়ার্টার ফাইনাল থেকে বিদায় নিয়েছে। ফলে নকআউট পর্ব নয়, লিগ পর্বেই এমন ম্যাচ পাওয়া যেন সম্ভাব্য আরেকটি বড় লড়াইয়ের মহড়া।

মাঠে তারকার অভাবও নেই। বার্সেলোনার লামিনে ইয়ামাল ও রাফিনিয়ার বিপরীতে পিএসজির উসমান দেম্বেলে ও খিচা কাভারেস্কাইয়া। মাঝমাঠেও লড়াই জমবে ভিতিনিয়ার বিপক্ষে রদ্রির। এই ম্যাচই আবার ফেরান তোরেসের জন্য আবেগের। কিছুদিন আগে বার্সা ছেড়ে পিএসজিতে নাম লিখিয়েছেন তিনি। প্রথম মৌসুমেই ইউরোপীয় মঞ্চে বার্সেলোনার মুখোমুখি হচ্ছেন বিশ্বকাপ ফাইনালে গোল করা এই ফরোয়ার্ড।

৫. ভিয়ারিয়াল–ম্যান ইউনাইটেড: যেখানে শুরু, সেখানেই ফিরবেন ক্যারিক

২০২১ সালের নভেম্বরে ওলে গুনার সুলশারের বিদায়ের পর অন্তর্বর্তী কোচ হিসেবে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের দায়িত্ব নিয়েছিলেন মাইকেল ক্যারিক। তাঁর প্রথম ম্যাচই ছিল চ্যাম্পিয়নস লিগে ভিয়ারিয়ালের বিপক্ষে।

স্পেনে সেদিন ইউনাইটেড জিতেছিল ২–০ গোলে। এবার পাঁচ বছর পর একই মাঠে ফিরবেন ক্যারিক, তবে এবার অন্তর্বর্তী কোচ হিসেবে নয়, স্থায়ী কোচ হিসেবে। একই প্রতিপক্ষ, একই প্রতিযোগিতা—শুধু বদলে গেছে তাঁর পরিচয়।

ইউনাইটেডও এবার চ্যাম্পিয়নস লিগে ফিরছে দুই বছর পর। তাই ক্যারিকের জন্য পুরোনো স্মৃতির সঙ্গে নতুন দায়িত্বের এই যোগসূত্র ম্যাচটিকে বাড়তি আকর্ষণ দিচ্ছে।

ইউনাইটেড কোচ হিসেবে আবার ভিয়ারিয়ালে যাবেন মাইকেল ক্যারিক

৬. আর্সেনাল–রিয়াল মাদ্রিদ: মরিনিওর সামনে পুরোনো প্রতিদ্বন্দ্বী

রিয়ালের ডাগআউটে এবার হোসে মরিনিও। ইংলিশ ফুটবলে চেলসির কোচ থাকাকালে আর্সেনাল ও আর্সেন ওয়েঙ্গারের সঙ্গে তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বিতা ছিল আলোচিত। এবার প্রতিপক্ষ হিসেবে আর্সেনালের মাঠে ফিরছেন তিনি। ইংল্যান্ডে আর্সেনালের বিপক্ষে মাত্র তিনবার হেরেছেন এই পর্তুগিজ কোচ।

ম্যাচটি তাই মরিনিওর পুরোনো ইংলিশ প্রতিদ্বন্দ্বিতারও নতুন অধ্যায়।

লিগ পর্বের ম্যাচগুলো শুরু হবে ৮ সেপ্টেম্বর থেকে। তবে কোন ম্যাচ কোন তারিখে এবং কখন হবে, সেটি ইউরোপীয় ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা উয়েফা ২৯ আগস্টের মধ্যে প্রকাশ করার কথা জানিয়েছে।