লন্ডনের প্যালাডিয়াম থিয়েটার তারায় তারায় খচিত। ব্যালন ডি’অরের রাত বলে কথা!
কে জিতবেন এবার? উত্তরটি আগেভাগে আন্দাজ করতে ক্লিক করুন নিচের লিংকে।
হ্যারি কেইনের হাতেই কি তাহলে এবারের ব্যালন ডি’অর
এতদিন প্যারিসেই দেওয়া হয়েছে ব্যালন ডি’অর। এবার কেন লন্ডনে জানতে ক্লিক করুন নিচের লিংকে।
কেন এবার প্যারিসে হচ্ছে না ব্যালন ডি’অর, কোথায় হবে এবং কবে
জেনে নিতে পারেন ব্যালন ডি’অরে কীভাবে বিজয়ী বেছে নেওয়া হয়।
অভিমান কাটিয়ে এবার ব্যালন ডি’অর গালায় প্রতিনিধি দল পাঠিয়েছে রিয়াল মাদ্রিদ।
কিলিয়ান এমবাপ্পেকে দেখা গেল এক ঝলক। লামিনে ইয়ামালও এসেছেন। দুজনেই এবার ব্যালন ডি’অর জয়ে ফেবারিট।
ইয়ামাল মনোনয়ন পাওয়াদের মধ্যে সর্বকনিষ্ঠ। লিওনেল মেসি সবচেয়ে বয়স্ক।
সাবেকদের মধ্যে রোনালদো নাজারিও ও লুইস ফিগোকে দেখা গেল। দুজনেই সাবেক ব্যালন ডি’অর জয়ী।
মেসি, এমবাপ্পে ও ইয়ামালের পরে এলেন হ্যারি কেইন। সঙ্গে তাঁর স্ত্রী। জটলা থেকে কেউ একজন বায়ার্ন মিউনিখ তারকাকে দেখে বলে উঠলেন, ‘ব্যালন ডি’অর’!
আসলেই কি এটাই হতে যাচ্ছে? বাতাসে জোর গুঞ্জন!
ভালো কথা, এবার ব্যালন ডি’অর গালায় সঞ্চালক ফরাসি কিংবদন্তি থিয়েরি অঁরি ও ব্রিটিশ সম্প্রচারক কেট স্কট।
গত বছর ব্যালন ডি’অর জয়ী ফরাসি তারকা ওসমান দেম্বেলেও লাল গালিচায় পা রাখলেন। স্যুট ও সানগ্লাসে দারুণ লাগছে!
লাল গালিচায় দাঁড়িয়ে বললেন কেইন, ‘একটু নার্ভাস। মিথ্যে বলব না। এটা ম্যাচের থেকে আলাদা কারণ আমার নিয়ন্ত্রণের বাইরে।’
সে তো বটেই! ব্যালন ডি’অর বিজয়ী নির্ধারিত হয় ভোটে। আর কেইন মাঠে ম্যাচের ভাগ্য ঠিক করেন নিজে।
ব্যালন ডি’অরে লাল গালিচা পর্ব এখনো চলছে। মূল অনুষ্ঠান শুরু হওয়ার কথা ছিল বাংলাদেশ সময় রাত ২টায়। কিন্তু এখনো মূল অনুষ্ঠান শুরু হয়নি।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য টেলিগ্রাফ জানিয়েছে, ‘তৃতীয়বারের মতো আমাদের বলা হলো, কিছুক্ষণের মধ্যেই আমরা (অনুষ্ঠান) শুরু করব।’
দুবার বিশ্বকাপজয়ী ব্রাজিলিয়ান কিংবদন্তি রোনালদোকে লাল গালিচার এক সঞ্চালক জিজ্ঞেস করলেন,‘এবার কে জিততে পারে?’
রোনালদোর উত্তর,‘আমি দেওয়ার সময় দেখতে পাবেন।’
পাল্টা প্রশ্ন হলো,‘জানেন তাহলে কে জিতছেন?’
রোনালদো সারলেন এক কথায়,‘না।’
পাশের সঞ্চালকরা বললেন,‘সে অবশ্য জানে!’
নির্ধারিত সময়ের ৪৫ মিনিট পর শুরু হলো মূল অনুষ্ঠান।
ব্রিটিশ গায়িকা জোর্জা স্মিথের পারফরম্যান্সের পর মঞ্চে পা রাখলেন দুই সঞ্চালক থিয়েরি অঁরি ও কেট স্কট।
ইউক্রেন কিংবদন্তি আন্দ্রে শেভচেঙ্কোর হাত থেকে ছেলেদের ২০২৬ তরুণ উদীয়মান খেলোয়াড়ের ট্রফি নিলেন ১৯ বছর বয়সী লামিনে ইয়ামাল।
ইয়ামাল অল্প কথায় বক্তব্য সারার পর তাঁকে অদ্ভুত এক প্রশ্ন করলেন অঁরি, ‘এই পুরস্কারটা সত্যিই চেয়েছিলে?’
ইয়ামাল বেশ লাজুক চাহনিতে বক্তব্য সারলেন। সবাই বুঝে নিলেন, ইয়ামাল আসলে ব্যালন ডি’অরের অপেক্ষায়।
ইংল্যান্ডের ফুটবলার লুসি ব্রোঞ্জের কাছ থেকে মেয়েদের উদীয়মান খেলোয়াড়ের পুরস্কার নিলেন বার্সেলোনার ২০ বছর বয়সী অ্যাটাকিং মিডফিল্ডার ভিকি লোপেজ।
প্রথম তিনটি পুরস্কারই উঠল বার্সার ঘরে!
ইয়ামাল জিতলেন ছেলেদের সেরা উদীয়মান তরুণ খেলোয়াড়ের ট্রফি। ভিকি লোপেজ একই ট্রফি জিতলেন মেয়েদের ক্যাটাগরিতে। এর মেয়েদের ফুটবলে বর্ষসেরা কোচের ট্রফি জিতলেন বার্সা নারী দলের কোচ পেরে রোমেউ।
লিভারপুলের সাবেক কোচ রাফা বেনিতেজের কাছ থেকে ট্রফিটি নিলেন রোমেউ। এক স্প্যানিশ ট্রফি দিলেন আরেক স্প্যানিশকে।
এখন পর্যন্ত স্পেনের জয়জয়কার!
স্পেনের জয়জয়কার!
ছেলেদের বর্ষসেরা কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তে। রাফা বেনিতেজের কাছ থেকে ট্রফি নিলেন। স্পেনকে ইউরো ও বিশ্বকাপ জিতিয়েছেন দে লা ফুয়েন্তে।
ছেলে ও মেয়েদের ক্যাটাগরিতে তরুণ উদীয়মান বর্ষসেরা ট্রফি জিতেছেন দুজন স্প্যানিশ। মেয়েদের ক্যাটাগরিতে বর্ষসেরা কোচের ট্রফিও জিতেছেন একজন স্প্যানিশ। এবার একই ক্যাটাগরিতে ছেলেদের ট্রফিও জিতছেন স্প্যানিশ দে লা ফুয়েন্তে।
মনোনয়ন পাওয়া পাঁচ কোচের মধ্যে চারজনই ছিলেন স্প্যানিশ।
মঞ্চে দাঁড়িয়ে দে লা ফুয়েন্তে বলেন,‘এই পুরস্কার সম্মানের। মনোনয়ন পাওয়াটাই ছিল একটা পুরস্কার। মনোনয়ন পাওয়া বাকিদেরও অভিবাদন জানাই। আমার এ পুরস্কার গোটা দলের জন্য। দুনিয়ার সেরা কোচিং স্টাফের জন্য।’
মঞ্চে চেক প্রজাতন্ত্রের কিংবদন্তি গোলকিপার পিটার স্মাইকেল। তাঁর কাছ থেকে ছেলে ও মেয়েদের ক্যাটাগরিতে সেরা গোলকিপারের ট্রফি নিলেন দুজন স্প্যানিশ।
স্পেন নারী দলের গোলকিপার কাতা কোল ও স্পেন ছেলেদের দলের গোলকিপার উনাই সিমোন।
২০২৬ ব্যালন ডি’অরের কোনো কিছু এখনো স্পেনের বাইরে যেতে পারেনি। সব ট্রফিই স্প্যানিশদের!
ব্রাজিলের কিংবদন্তি সক্রেটিসের নামে এ ট্রফিটি দেওয়া শুরু হয় ২০২২ সালে। মানবহিতকর কাজে অবদানের জন্য এই ট্রফি দেওয়া হয়। এবার পেলেন ইংল্যান্ড ও আর্সেনাল তারকা বুকায়ো সাকা। নাইজেরিয়ান গায়ক বার্না বয়ের কাছ থেকে ট্রফি নিলেন সাকা।
মঞ্চে রুয়ান্ডার ১৪ বছর বয়সী এক শিশুর চিঠি পড়ে শোনান সাকা। একদিন সে ইংরেজির শিক্ষক হতে চায়।
ম্যাচ থাকায় পিএসজি প্রতিনিধি দল পাঠাতে পারেনি। তাঁদের পক্ষ থেকে ছেলেদের বর্ষসেরা ক্লাবের ট্রফি নিলেন উসমান দেম্বেলে। গত বছর ব্যালন ডি’অর জেতেন পিএসজি তারকা।
গত মৌসুমে চ্যাম্পিয়নস লিগ ট্রফি ধরে রাখার পাশাপাশি ঘরোয়া লিগ শিরোপাও ধরে রেখেছে লুইস এনরিকের পিএসজি। টানা দ্বিতীয় বছর ট্রফিটি জিতল।
বছরের সেরা স্ট্রাইকারের ট্রফি দিতে মঞ্চে এলেন ইংল্যান্ড কিংবদন্তি অ্যালান শিয়ারার ও অভিনেত্রী সোফি টার্নার।
মেক্সিকান ক্লাব পাচুয়া নারী দলের স্ট্রাইকার শার্লিন কোবরাল জিতেছেন বর্ষসেরা স্ট্রাইকারের ট্রফি।
ছেলেদের বর্ষসেরা স্ট্রাইকারের ট্রফি বায়ার্ন মিউনিখ তারকা হ্যারি কেইনের। মঞ্চে কেইন ওঠার সঙ্গে সঙ্গে শিষের আওয়াজ বাড়ল। বর্ষসেরা ফুটবলারের ট্রফি জয়ের যে বড় দাবিদার!
গত মৌসুমে ক্লাব ও জাতীয় দল মিলিয়ে ৬৫ ম্যাচে ৭৩ গোল করেন কেইন।
২০০১ সালে ইংল্যান্ডের হয়ে সর্বশেষ ব্যালন ডি’অরজয়ী সাবেক স্ট্রাইকার মাইকেল ওয়েন মঞ্চে। ঘোষণা করলেন মেয়েদের ২০২৬ সালে ব্যালন ডি’অর বিজয়ীর নাম।
স্পেন তারকা অ্যালেক্সিয়া পুতেয়াস!
শীষে ফেটে পড়ছে হলরুম।
বার্সেলোনার সাবেক এ মিডফিল্ডার ২০২১ ও ২০২২ সালের পর এবার তৃতীয়বারের মতো ব্যালন ডি’অর জিতলেন।
গত মৌসুমে বার্সার হয়ে লিগ ও চ্যাম্পিয়নস লিগ জেতেন। ৫৩ বলে ২৬ গোলের পাশাপাশি ১৫টি অ্যাসিস্টও করেন। স্পেনের হয়ে জেতেন নেশনস লিগ।
আইতানা বোনমাতির সমান তৃতীয় ব্যালন ডি’অর জিতে তাঁর রেকর্ডে ভাগ বসালেন গত জুলাইয়ে লন্ডন সিটি লায়নেস ক্লাবে যোগ দেওয়া পুতেয়াস। উইমেন্স সুপার লিগের ক্লাবের (লন্ডন সিটি) প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে ব্যালন ডি’অর জিতলেন তিনি।
মঞ্চে ডেকে আনা হলো ব্রাজিলের কিংবদন্তি ও ব্যালন ডি’অর বিজয়ী রোনালদো নাজারিওকে। সাবেক এ স্ট্রাইকার দেবেন এবারের ছেলেদের বর্ষসেরা ফুটবলারের পুরস্কার।
রোনালদো এখনো সবচেয়ে কম বয়সে ব্যালন ডি’অর জয়ের রেকর্ডধারী।
এবং রেকর্ডটি অক্ষত থাকল।
রোনালদো খাম খুলে ঘোষণা করলেন এবারের ব্যালন ডি’অর বিজয়ীর নাম। হল রুমে শীষ ও চিৎকারের প্লাবন বইছে। হ্যারি কেইন! শীষের আওয়াজ আরও বাড়ল।
ইংল্যান্ডের হয়ে সর্বশেষ ২০০১ সালে ব্যালন ডি’অর জিতেছিলেন মাইকলে ওয়েন। ২৫ বছর পর ইংলিশদের অপেক্ষা ঘোচালেন হ্যারি কেইন। ক্যারিয়ারে প্রথমবারের মতো জিতলেন ব্যালন ডি’অর ট্রফি।
ব্রাজিলিয়ান কিংবদন্তি রোনালদো নাজারিও মঞ্চে গিয়ে বর্ষসেরার ট্রফি তুলে দেন কেইনকে।
স্ট্যানলি ম্যাথুস, ববি চার্লটন, কেভিন কিগান এবং ওয়েনের পর পঞ্চম ইংলিশ ফুটবলার হিসেবে ব্যালন ডি’অর জিতলেন ৩৩ বছর বয়সী এ স্ট্রাইকার। ১৯৮১ সালে কার্ল হেইঞ্জ রুমেনিগের পর বায়ার্নের প্রথম খেলোয়াড় হিসেবেও বর্ষসেরার ট্রফিটি জিতলেন কেইন।
গত মৌসুমে ক্লাব ও জাতীয় দলের হয়ে ৬৫ ম্যাচে ৭৩ গোল করেন কেইন। এর মধ্যে বায়ার্নের হয়ে ৫১ ম্যাচে করেন ৬১ গোল। এক মৌসুমে বায়ার্নের আর কোনো খেলোয়াড় এত গোল করতে পারেননি। ইংল্যান্ডকে বিশ্বকাপে ও বায়ার্নকে চ্যাম্পিয়নস লিগের সেমিফাইনালেও তোলেন কেইন।
লড়াইটা তাঁর ছিল মূলত ইয়ামাল ও এমবাপ্পের সঙ্গে। শেষ পর্যন্ত ভোটের লড়াইয়ে তাঁদের হারিয়ে লন্ডনে ঘরের মাটিতে ট্রফটি জিততে পারা কেইনের জন্য সত্যিই বিশেষ এক ব্যাপার।
মঞ্চে দাঁড়িয়ে ইংল্যান্ড তারকা বললেন সে কথাই,‘আমি প্রায় ভাষাহীন। লন্ডনে এটা হওয়ায় আরও বিশেষ হয়ে উঠল। আমাকে যারা ভোট দিয়েছেন তাদের সবাইকে ধন্যবাদ। জানি এ বছরটা অনেক কঠিন ছিল। এই কক্ষে বিশ্বমানের সব খেলোয়াড়। তাদের এবং বিজয়ী ও মনোনয়ন পাওয়া সবাইকে অভিনন্দন।’
ছেলেদের ব্যালন ডি’অর জয়ী: হ্যারি কেইন (ইংল্যান্ড ও বায়ার্ন মিউনিখ)
মেয়েদের ব্যালন ডি’অর জয়ী: অ্যালেক্সিস পুতেয়াস (স্পেন ও লন্ডন সিটি লায়নেস)
ছেলেদের সেরা উদীয়মান তরুণ খেলোয়াড় : লামিনে ইয়ামাল (স্পেন ও বার্সেলোনা)
মেয়েদের সেরা উদীয়মান তরুণ খেলোয়াড়: ভিকি লোপেজ (স্পেন ও বার্সেলোনা)
মেয়েদের ফুটবলে সেরা কোচ: পেরে রোমেউ (বার্সেলোনা)
ছেলেদের ফুটবলে সেরা কোচ: লুইস দে লা ফুয়েন্তে (স্পেন)
মেয়েদের ফুটবলে সেরা গোলকিপার: কাতা কোল (বার্সেলোনা)
ছেলেদের ফুটবলে সেরা গোলকিপার: উনাই সিমোন (স্পেন)
সক্রেটিস পুরস্কার: বুকায়ো সাকা (ইংল্যান্ড ও আর্সেনাল)
মেয়েদের সেরা ক্লাব: বার্সেলোনা
ছেলেদের সেরা ক্লাব: পিএসজি
ছেলেদের সেরা স্ট্রাইকার: হ্যারি কেইন (ইংল্যান্ড ও বায়ার্ন মিউনিখ)
মেয়েদের সেরা স্ট্রাইকার: শার্লিন কোবরাল (মেক্সিকো ও পাচুয়া)