বিশ্বকাপ ট্রফি হাতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প
বিশ্বকাপ ট্রফি হাতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প

বিশ্বকাপ ফুটবল বয়কটের ডাক এবার নেদারল্যান্ডসেও

আগামী জুনে উত্তর আমেরিকার তিন দেশ যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডায় অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ফুটবল বিশ্বকাপ। তবে সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্কের অবনতির প্রেক্ষাপটে টুর্নামেন্ট বয়কটের আলোচনা জোরালো হয়ে উঠছে। এরই মধ্যে বেশ কয়েকটি দেশের রাজনৈতিক নেতা ও ফুটবল ফেডারেশনের বক্তব্যে বয়কটের প্রসঙ্গ উঠে এসেছে।

জার্মানির এক রাজনীতিবিদ ও ইংলিশ গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব পিয়ার্স মরগানের পর এবার ফিফা বিশ্বকাপ বয়কটের ডাক এসেছে নেদারল্যান্ডস থেকে। দেশটির সুপরিচিত টেলিভিশন প্রডিউসার টিউন ফন দ্য কেউকেন বিশ্বকাপ থেকে ডাচ ফুটবল দলকে নাম প্রত্যাহারের আহ্বান করেছেন। একটি অনলাইন পিটিশনও করেছেন তিনি। যেখানে ২৬ জানুয়ারি সকালের মধ্যে প্রায় দেড় লাখ মানুষ সই করেছেন।

তবে নীতিনির্ধারকদের কেউই এখনই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে চান না। ফ্রান্সের ক্রীড়ামন্ত্রী মারিনা ফেরারি মঙ্গলবার ফরাসি গণমাধ্যমকে বলেন, এই মুহূর্তে সাবেক বিশ্ব চ্যাম্পিয়নদের বিশ্বকাপ বর্জনের কোনো পরিকল্পনা নেই। এ সময় তিনি যোগ করেন, ‘ভবিষ্যতে কী হতে পারে, তা আগাম বলা যায় না।’

জার্মানির ক্রীড়ামন্ত্রী ক্রিস্টিয়ানে শেন্ডারলাইন গত সপ্তাহে এএফপিকে বলেন, বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে জার্মান ফুটবল কর্তৃপক্ষ ও ফিফা। তিনি জানান, ‘ফেডারেল সরকার তাদের সিদ্ধান্ত মেনে নেবে।’

এদিকে নেদারল্যান্ডসে বিশ্বকাপ বয়কটের দাবিতে করা একটি পিটিশনে ইতিমধ্যে ১ লাখ ৪২ হাজারের বেশি মানুষ সই করেছেন। পিটিশনে বলা হয়েছে, ‘এমন একজন প্রেসিডেন্টের আয়োজিত টুর্নামেন্টে আমাদের ফুটবলারদের অংশ নেওয়া উচিত নয়, যিনি একটি মিত্রদেশকে আক্রমণের হুমকি দিচ্ছেন। সবকিছু স্বাভাবিক ধরে নিয়ে খেলায় অংশ নেওয়া ট্রাম্পের সম্প্রসারণবাদী নীতিকে বৈধতা দেয়।’

নেদারল্যান্ডসে বিশ্বকাপ বয়কটের দাবিতে করা একটি পিটিশনে ইতিমধ্যে ১ লাখ ৪২ হাজারের বেশি মানুষ সই করেছেন

একই ধারাবাহিকতায় এবার আলোচনায় এসেছে বেলজিয়াম ফুটবল দলের বিশ্বকাপে বয়কটের প্রসঙ্গও। বেলজিয়ামের গ্রুপ পর্বের তিনটি ম্যাচের মধ্যে দুটিই হবে যুক্তরাষ্ট্রে। এ বিষয়ে বেলজিয়াম ফুটবল ফেডারেশন জানায়, ‘আমরা এখন বিশ্বকাপের খেলার প্রস্তুতিতে মনোযোগ দিচ্ছি, তবে খেলাধুলার বাইরের পরিস্থিতিতেও তীক্ষ্ণ নজর রয়েছে।’

বেলজিয়ামের ফরাসিভাষী জনগোষ্ঠীর ক্রীড়ামন্ত্রী জ্যাকলিন গালাঁ ‘দ্য ব্রাসেলস টাইম’কে বলেন, এই মুহূর্তে বেলজিয়াম দলের বিশ্বকাপ বয়কটের বিষয়টি আলোচনায় নেই। তাঁর ভাষায়, ‘আমার লক্ষ্যটা পরিষ্কার। খেলাকে রাজনীতি থেকে আলাদা রাখতে হবে। সংস্কৃতির ক্ষেত্রেও যেমনটা হয়। তাই এখন বিশ্বকাপ বর্জনের কথা ভাবা হচ্ছে না।’

গত সোমবার বুদাপেস্টে ইউরোপীয় ফুটবল সংস্থা উয়েফার এক বৈঠকে বিশ্বকাপ থেকে সরে দাঁড়ানো একটি সম্ভাব্য পথ হতে পারে, এমন বিষয়ে ঐকমত্য হয়েছে বলে জানিয়েছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম গার্ডিয়ান। বিষয়টি আগামী ১১ ফেব্রুয়ারি ব্রাসেলসে উয়েফার নির্বাহী কমিটির বৈঠকে আলোচনায় উঠতে পারে। পরদিন একই শহরে উয়েফার বার্ষিক কংগ্রেসও অনুষ্ঠিত হবে।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ফিফা প্রেসিডেন্ট জিয়ান্নি ইনফান্তিনো

ব্রাসেলসের ইউনিভার্সিতে লিব্র দ্য ব্রুসেলের (ইউএলবি) অধ্যাপক জঁ-মিশেল দ্য ওয়াল বলেন, ‘বিশ্বকাপে না যাওয়ার পক্ষে যুক্তি আছে, তবে বয়কট করা সহজ হবে না। এ নিয়ে আলোচনা মানে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক নিয়েও আলোচনা।’

অধ্যাপক জঁ-মিশেল বলেন, ‘বয়কট সম্ভব না হলেও দলগুলো সেখানে গিয়ে প্রতিবাদ জানাতে পারে।’ তাঁর মতে, বিশ্বকাপ অন্য দেশে সরিয়ে নেওয়া কঠিন হলেও চুপ করে থাকা উচিত নয়। এই আয়োজনকে কাজে লাগিয়ে প্রতিক্রিয়া জানানোর সুযোগ আছে।
অধ্যাপক জঁ-মিশেল আরও বলেন, ‘আফ্রিকার কয়েকটি দেশের সমর্থকেরা যদি ভিসা পেতে সমস্যায় পড়েন, তাহলে কি এটাকে ন্যায্য প্রতিযোগিতা বলা যায়? যাঁরা স্বর্ণকেশী বা নীল চোখের নন, এমন বেলজিয়ান সমর্থকেরা কি নিরাপদ থাকবেন? এমন বেশ কিছু আইনি অনিশ্চয়তা আছে, যেগুলোর বিরুদ্ধে আমরা লড়াই করতে পারি।’

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রে ঢোকার জন্য সমর্থকদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের তথ্য চাওয়ার পরিকল্পনার খবরও বেশ উদ্বেগ তৈরি করেছে। ফুটবল সাপোর্টার্স ইউরোপ এই পরিকল্পনাকে ‘একেবারেই অগ্রহণযোগ্য’ বলে মন্তব্য করেছে। বেলজিয়াম ফুটবল ফেডারেশন জানিয়েছে, বিষয়টি নিয়ে শিগগিরই তারা তাদের সমর্থক সংগঠন ‘১৮৯৫’-এর সঙ্গে বৈঠকে বসবে।

বিশ্বকাপ শুরু হবে ১১ জুন, শেষ হবে ১৯ জুলাই। ফাইনাল ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে নিউইয়র্কে। বেলজিয়াম তাদের বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করবে ১৫ জুন, সিয়াটলে মিসরের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে। এরপর ২১ জুন লস অ্যাঞ্জেলেসে ইরানের বিপক্ষে এবং ২৬ জুন ভ্যাঙ্কুভারে নিউজিল্যান্ডের মুখোমুখি হবে রুডি গার্সিয়ার দল।