উসমান দেম্বেলের গোলের পর পিএসজির উদযাপন।
উসমান দেম্বেলের গোলের পর পিএসজির উদযাপন।

চ্যাম্পিয়নস লিগ

বায়ার্নকে বিদায় করে টানা দ্বিতীয়বার ফাইনালে পিএসজি

বায়ার্ন মিউনিখ ১ : ১ পিএসজি

দুই লেগ মিলিয়ে ৬-৫ গোলে জয়ী পিএসজি

প্যারিসে প্রথম লেগটা উপহার দিয়েছিল গোল-উৎসবের এক ম্যাচ। ৫-৪ ব্যবধানে সেই ম্যাচে বায়ার্ন মিউনিখকে হারিয়েছিল পিএসজি।

মিউনিখে আজ চ্যাম্পিয়নস লিগ সেমিফাইনালের ফিরতি লেগটায় অবশ্য জিতল না কোনো দলই, ১-১ সমতায় শেষ হলো ম্যাচ। তাতে শেষ পর্যন্ত কপাল পুড়ল বায়ার্নেরই।

দুই লেগ মিলিয়ে ৬-৫ গোলে জিতে টানা দ্বিতীয়বারের মতো ফাইনালে জায়গা করে নিল ইউরোপের বর্তমান চ্যাম্পিয়ন পিএসজি।

ম্যাচের মাত্র ১৩৯ সেকেন্ডের মাথায় গোল করে পিএসজিকে ৬-৪ অ্যাগ্রিগেটে এগিয়ে দেন উসমান দেম্বেলে। শুরুতেই গোল খেয়ে যাওয়ার দায়টা অবশ্য বায়ার্ন কোচ ভিনসেন্ট কোম্পানিকেই নিতে হবে। নিজের একাদশে ফুলব্যাকদের পজিশন অদলবদল করেছিলেন বায়ার্ন কোচ, যে সিদ্ধান্ত বুমেরাং হয়ে ফিরে এসেছে। বাঁ প্রান্ত দিয়ে খিচা কাভারাস্কেইয়া যখন বিদ্যুৎ গতিতে ঢুকে বল বাড়ালেন, তখন উসমান দেম্বেলে একদম একা। ইয়োসিপ স্তানিসিচ পুরোপুরি ভুলে গেছেন তাঁকে মার্ক করতে। ব্যালন ডি'অর বিজয়ী দেম্বেলে কি আর এই সুযোগ হাতছাড়া করেন!

ফাইনালের টিকিট কেটে পিএসজির খেলোয়াড়দের উল্লাস।

এরপর বায়ার্ন ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করেছে বারবার। মাইকেল ওলিসের সঙ্গে নুনো মেন্দেসের লড়াই জমে উঠেছিল বেশ। মেন্দেস তো ম্যাচের ৮ মিনিট হতে না হতেই মধ্যেই হলুদ কার্ডও খেয়ে গেলেন, তবে ওলিসের একটা প্রায় নিশ্চিত গোল শরীর দিয়ে আটকে দিয়েছেন। পরমুহূর্তেই কাভারাস্কেইয়া উপামেকানোকে নাটমেগ করে পুরো মাঠ একা পেরিয়ে গেলেন, কিন্তু গোল হলো না।

টানা দ্বিতীয়বারের মতো ফাইনালে পিএসজি।

রেফারিং নিয়েও বিস্তর নাটক হলো। বায়ার্নের খেলোয়াড়েরা রেফারি জোয়াও পেদ্রো পিনহেইরোকে দুইবার ঘিরে ধরেছিলেন। একবার মেন্দেসের ফাউলের পর লাল কার্ডের দাবিতে, আরেকবার পেনাল্টির জোরালো আবেদন। জোয়াও নেভেসের হাতে বল লেগেছিল ঠিকই, কিন্তু সেটা নিজের সতীর্থের শরীর হয়ে আসায় আইনের মারপ্যাঁচে বেঁচে যায় পিএসজি।

শেষ মুহূর্তে গোল করেছেন হ্যারি কেইন, কিন্তু তাতে লাভ হয়নি।

সবচেয়ে মুগ্ধ করেছে পিএসজির রক্ষণভাগ। এই মৌসুমে ইউরোপের শীর্ষ লিগগুলোতে সবচেয়ে বেশি গোল করা দলটির নাম বায়ার্ন মিউনিখ। সেই ভয়ংকর আক্রমণভাগকে তাদের নিজেদের মাঠেই বোবা বানিয়ে রাখলেন মার্কিনিওসরা।

যোগ হওয়া সময়ের একেবারে শেষ দিকে হ্যারি কেইন গোলটা শোধ করে ম্যাচে সমতা ফেরালেন বটে। কিন্তু ততক্ষনে বেশ দেরি হয়ে গেছে। দুই লেগ মিলিয়ে পিএসজির সঙ্গে ওই এক গোলের ব্যবধান আর ঘুচাতে পারেনি বায়ার্ন। বেচারা কেইন! ইউরোপসেরার ট্রফি ছোঁয়ার অপেক্ষাটা তাঁর জন্য যেন অনন্ত হাহাকার হয়েই রইল।

বায়ার্ন মিউনিখের হতাশা

এখন ৩০ মে বুদাপেস্টের ফাইনালের জন্য অপেক্ষা। একদিকে ২০ বছরের হাহাকার মেটানোর মিশন নিয়ে আর্সেনাল, অন্যদিকে রাজসিংহাসন ধরে রাখার অদম্য ইচ্ছায় পিএসজি।

সেরাদের হারিয়েই সেরা হতে হবে আর্সেনালকে!