রাশিয়ার ক্লাব এফসি সোচি থেকে রবার্তো মোরেনোর চাকরি গেছে গত ১ সেপ্টেম্বর। চার মাসের বেশি সময় পর তাঁর বিদায়ের পেছনে উঠে এল অদ্ভুত এক অভিযোগ—তিনি নাকি দল পরিচালনা করতে বড়–ছোট সব বিষয়ে চ্যাটজিপিটি ব্যবহার করতেন। আর তা এত বেশি ছিল যে তাঁকে ছাঁটাইয়ের প্রধানতম কারণগুলোর একটি ছিল অতিরিক্ত এআই–নির্ভরতা।
৪৮ বছর বয়সী মোরেনো স্প্যানিশ ফুটবলের পরিচিত নাম। ২০১৯ সালে স্পেন জাতীয় দলের কোচ ছিলেন তিনি, এর আগে কাজ করেছেন বার্সেলোনায়ও। গত বছর এফসি সোচি লিগ টেবিলের তলানিতে নেমে গেলে তাঁকে বরখাস্ত করা হয়।
স্প্যানিশ দৈনিক দিয়ারিও এএস এবং বিইন স্পোর্টস রুশ গণমাধ্যমকে দেওয়া এফসি সোচির সাবেক মহাপরিচালক আন্দ্রে অরলভের সাক্ষাৎকারের বক্তব্য দিয়ে প্রতিবেদন তৈরি করেছে। সেখানে অরলভ দাবি করেন, সোচিতে মোরেনোর ‘কাজের হাতিয়ার’ হয়ে উঠেছিল চ্যাটজিপিটি। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক চ্যাটবটটি দৈনন্দিন কাজে ব্যবহার করতেন মোরেনো। যার মধ্যে ছিল ম্যাচের শুরুর একাদশ সাজানো থেকে কখন কাকে বদলি করা হবে পর্যন্ত।
সাবেক এই রুশ কর্মকর্তা জানান, মোরেনো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সাহায্যে দলের ভ্রমণসূচিও বানাতেন। সোচির জন্য সবচেয়ে লম্বা ভ্রমণের একটি হচ্ছে খাবারভস্ক। স্মৃতিচারণা করে অরলভ বলেন, ‘রবার্তো বলল, সবকিছু চ্যাটজিপিটি দিয়ে পরিকল্পনা করা আছে।’ এআই দিয়ে তৈরি ভ্রমণ পরিকল্পনা প্রেজেন্টেশন পর্যালোচনায় দেখা যায়, খেলোয়াড়দের টানা ২৮ ঘণ্টা না ঘুমিয়ে থাকতে হবে। এ বিষয়ে তাঁকে জানানোর পর পরিকল্পনায় কিছু পরিবর্তন আনা হলেও শেষ পর্যন্ত এআইয়ের তৈরি করা সূচিই অনুসরণ করা হয়। অরলভ এ বিষয়ে বলেন, ‘আমি তাকে জিজ্ঞেস করেছিলাম, সবকিছু ঠিক আছে, কিন্তু ছেলেরা ঘুমাবে কখন?’
অভিযোগ এখানেই শেষ নয়। অরলভের দাবি, দলবদল বাজার থেকে ‘নাম্বার নাইন’ খুঁজতেও চ্যাটজিপিটি ব্যবহার করেছিলেন মোরেনো। আক্রমণভাগে একজন খেলোয়াড় বাড়াতে এফসি সোচি ভ্লাদিমির পিসারস্কি, পাভেল মেলেশিন ও আর্তুর শুশেনাচেভ নামের তিন খেলোয়াড়কে বিবেচনায় নিয়েছিল। মোরেনো উইস্কাউট (ফুটবলারদের বিভিন্ন তথ্য বিশ্লেষণ সাইট) থেকে তথ্য নিয়ে চ্যাটজিপিটিকে দেন সঠিক খেলোয়াড় বাছাই করে দেওয়ার জন্য।
অরলভ জানান, এই প্রক্রিয়াতেই কাজাখস্তানের ফুটবলার শুশেনাচেভকে দলে ভেড়ায় এফসি সোচি। তবে সিদ্ধান্তটা কাজে লাগেনি। শুশেনাচেভ ২০২৪–২৫ মৌসুমে মোট ১৩ ম্যাচ খেলে মাত্র ২ গোল ও ২ অ্যাসিস্ট করেন। বর্তমানে তিনি কাজাখ ক্লাব এফসি আকতোভেতে।
সোচি চলতি মৌসুমের প্রথম ৭ ম্যাচে মাত্র ১ পয়েন্ট পাওয়ার পর মোরেনোকে বরখাস্ত করা হয়। অরলভ বলেন, ‘চ্যাটজিপিটি তো একটা সহায়ক জিনিস, তাই না? ব্যবহার অবশ্যই করব। কিন্তু মোরেনো চ্যাটজিপিটিকে তাঁর প্রধান কাজের অংশ বানিয়ে ফেলেছিলেন।’
লুইস এনরিকের সহকারী হিসেবে রোমা (২০১১–১২) ও বার্সেলোনায় (২০১৪–১৭) কাজ করা মোরেনো একই কোচের সঙ্গে ২০১৮ সালে স্পেন জাতীয় দলে যোগ দেন। পরের বছর এনরিকের অনুপস্থিতিতে প্রথমে অন্তর্বর্তী, এরপর পূর্ণাঙ্গ মেয়াদের দায়িত্বও পান। তাঁর অধীনে খেলে ২০২০ ইউরোর চূড়ান্ত পর্বে জায়গা করে স্পেন। তবে ২০১৯ সালের শেষ দিকে এনরিকে আবার স্পেন দলে ফিরে মোরেনোকে কোচিং স্টাফ থেকে সরিয়ে দেন। সে সময় দীর্ঘদিনের সহকারীকে তিনি ‘অবিশ্বস্ত’ এবং ‘উচ্চাকাঙ্ক্ষী’ হিসেবে অভিহিত করেন।