
গত মৌসুমে বার্সেলোনার বিপক্ষে চার ম্যাচের চারটিতেই হেরেছিল রিয়াল মাদ্রিদ। সেই চার হারের কারণেই হাতছাড়া হয়েছিল তিনটি শিরোপা। স্প্যানিশ সুপার কাপ ও কোপা দেল রেতে শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচে হেরে যায় রিয়াল। আর লা লিগায় বার্সার কাছে দুই ম্যাচ হারের পর শিরোপার লড়াই থেকে পুরোপুরি ছিটকে পড়ে তারা।
নতুন মৌসুমে অবশ্য লা লিগার প্রথম লেগে ২-১ গোলে জিতেছে রিয়াল। সেই জয় কিছুটা স্বস্তি দিলেও গত মৌসুমের ক্ষতে প্রলেপ পড়েনি। তবে আজ রাতে স্প্যানিশ সুপার কাপের ফাইনালে যদি জিততে পারে, তবে অন্তত কিছুটা সান্ত্বনা পাবে স্পেনের সফলতম ক্লাবটি।
আজ জিতলে মৌসুমের প্রথম শিরোপাও হাতে আসবে রিয়ালের। যা নতুন বছরে বাকি সময়ের জন্য দলকে দারুণভাবে অনুপ্রাণিত করবে। রিয়াল-বার্সার এই লড়াইয়ে আলাদা করে নজর থাকবে দুই তারকার দিকে—কিলিয়ান এমবাপ্পে ও লামিনে ইয়ামাল। আজকের ম্যাচের ফল অনেকটাই নির্ভর করছে তাঁদের পারফরম্যান্সের ওপর।
চোটের কারণে সেমিফাইনালে খেলতে পারেননি এমবাপ্পে। শঙ্কা ছিল ফাইনাল নিয়েও। তবে রিয়াল সমর্থকদের জন্য সুখবর, চোট কাটিয়ে আজ মাঠে নামছেন তিনি। চলতি মৌসুমে দুর্দান্ত ছন্দে আছেন এই ফরাসি তারকা। ম্যাচের পর ম্যাচে গোল করেছেন। ২৪ ম্যাচে করেছেন ২৯ গোল, সঙ্গে আছে ৫টি অ্যাসিস্ট। কিন্তু দলীয় সাফল্য ছাড়া এই পারফরম্যান্সের কোনো মূল্য নেই। তাই আজ শিরোপাকে পাখির চোখ করে মাঠে নামবেন এমবাপ্পে।
এমবাপ্পের ফেরা নিয়ে রিয়াল কোচ আলোনসো বলেছেন, ‘ও এখন অনেক ভালো আছে। আতলেতিকোর বিপক্ষে ম্যাচে একটু টান অনুভব করছিল, তাই আমরা ঝুঁকি নিইনি। সে পরশু এসে পৌঁছেছে এবং গতকাল দলের সঙ্গে অনুশীলন করেছে। আমরা অবস্থা বুঝে সিদ্ধান্ত নেব, শুরু থেকে খেলবে নাকি কিছু সময়ের জন্য নামবে।’
তবে এমবাপ্পে শুরু থেকে না খেললে রিয়াল কিছুটা চাপে পড়বে। কারণ, এ মুহূর্তে ছন্দে নেই ভিনিসিয়ুস জুনিয়র। তাই সমর্থকদের চোখ থাকবে এমবাপ্পের পায়ের দিকে।
রিয়ালের ভরসা যদি এমবাপ্পে হন, বার্সার তুরুপের তাস ইয়ামাল। লা লিগার আগের ম্যাচে রীতিমতো বোতলবন্দী ছিলেন তিনি। রিয়াল লেফটব্যাক আলভারো কারেরাস তাঁকে ৯০ মিনিট বলতে গেলে শ্বাস নিতে দেননি। পুরো ম্যাচে দুটি শট আর দুটি সুযোগ তৈরি ছাড়া কিছুই করতে পারেননি ইয়ামাল। ম্যাচ শেষে রিয়াল খেলোয়াড়দের তোপের মুখেও পড়েন তিনি।
সেই ম্যাচের আগে ইয়ামাল অভিযোগ করেছিলেন, ‘রিয়াল মাদ্রিদ চুরি করে।’ ম্যাচ শেষে রিয়াল খেলোয়াড়েরা মূলত সে কথার জবাবই দেন। সেই ঘটনা নিশ্চয় ভুলে যাননি ইয়ামাল। আর জবাব দেওয়ার জন্য এর চেয়ে ভালো মঞ্চও নেই। তাই আজ নিজের সেরাটা ঢেলে দিতে চাইবেন তিনি। ইয়ামাল জ্বলে উঠলে ম্যাচের উত্তাপ বাড়বে আরও কয়েক গুণ। আর রিয়ালও পড়বে কঠিন চ্যালেঞ্জে।
এই ম্যাচের আগে প্রতিপক্ষ কোচের কাছ থেকেও সমীহ পেয়েছেন ইয়ামাল। তাঁকে নিয়ে আলোনসো বলেছেন, ‘আমি নতুন করে কিছু বলছি না। তার বয়সে বার্সেলোনা ও জাতীয় দলের হয়ে যে পারফরম্যান্স সে দেখিয়েছে, তা অসাধারণ। সে সত্যিই ভিন্ন ধরনের খেলোয়াড়। তবে তার উপস্থিতি আমাদের প্রস্তুতিতে কোনো পরিবর্তন আনবে না। আমরা জানি, নিজের পজিশনে সে বড় হুমকি। কিন্তু আমাদের কৌশল একই থাকছে।’