ম্যানচেস্টার সিটির কোচ এনজো মারেসকার গলায় কোনো জড়তা নেই
ম্যানচেস্টার সিটির কোচ এনজো মারেসকার গলায় কোনো জড়তা নেই

সিটির প্রতি অবিচল আস্থা মারেসকার, আপিলে জয় নিয়েও তিনি নিশ্চিত

ঝড়টা উঠেছে গত সপ্তাহেই। ফুটবল দুনিয়াকে কাঁপিয়ে দিয়ে প্রিমিয়ার লিগের আর্থিক নিয়ম ভাঙার ১০০টির বেশি অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে ম্যানচেস্টার সিটিকে। পয়েন্ট কাটা পড়া থেকে শুরু করে শীর্ষ লিগ থেকে অবনমন, এমনকি নির্বাসনের খড়্গও ঝুলছে সিটির মাথার ওপর।

এমন এক টালমাটাল পরিস্থিতিতে দাঁড়িয়ে ম্যানচেস্টার সিটির কোচ এনজো মারেসকার গলায় কোনো জড়তা নেই, নেই এতটুকু দ্বিধা। আজ সংবাদ সম্মেলনে স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন, ক্লাবের প্রতি তাঁর আস্থা অবিচল এবং আপিলে জয় নিয়ে তিনি এক শ ভাগ নিশ্চিত।

গত জুনে সিটির দায়িত্ব নেওয়ার আগে পেপ গার্দিওলার সহকারী হিসেবেও কাজ করেছেন এই ইতালিয়ান। আদালতের রায়ের পর এই প্রথম প্রকাশ্যে এ বিষয়ে কথা বলেছেন মারেসকা, ‘ক্লাবের ওপর আমার পুরোপুরি আস্থা আছে। ক্লাবের মানুষের ওপর আমার বিশ্বাস আছে বলেই এখানে যোগ দিয়েছি। পৃথিবীতে আর কোনো ক্লাবে আমি যেতে চাইতাম না।’

স্বাধীন কমিশন রায় দিয়েছে, ২০০৯ থেকে ২০১৮ সালের মধ্যে সিটি কয়েকটি স্পনসর প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে ভুয়া চুক্তি করে প্রায় ৯০ কোটি পাউন্ডের আয় বাড়িয়ে এবং ব্যয় কমিয়ে দেখিয়েছে। অভিযোগ অস্বীকার করে সিটি আপিল করেছে। মারেসকা বলেছেন,  ‘আমি ক্লাবের সঙ্গে কথা বলেছি, ওদের বিশ্বাস করি। যখন আমরা আপিলে জিতব, তখনই এ বিষয়ে কথা বলার সঠিক সময়।’

মাঠের ঝড়ের মাঝেও নতুন মৌসুমে উড়ন্ত সূচনা করেছে সিটি

তবে মাঠের বাইরের এই আইনি লড়াইয়ের আঁচ ক্লাবের দীর্ঘ ১৫ বছরের অর্জনের গায়ে লাগুক, তা একেবারেই চান না সাবেক চেলসি কোচ। গার্দিওলার অধীনে সিটির ট্রফি জয়ের দিনগুলোকে ‘কলঙ্কিত’ বলতে নারাজ মারেসকা, ‘তখনকার কোচ পেপ, খেলোয়াড় এবং ক্লাবের প্রতিটি মানুষের আত্মত্যাগ ও পরিশ্রম আমি কাছ থেকে দেখেছি। সুতরাং এই উচ্চতায় পৌঁছাতে ক্লাব কতটা রক্ত-ঘাম ঝরিয়েছে, তা আমার খুব ভালো করেই জানা আছে।’

এদিকে টানা ১০ বছরের বর্ণাঢ্য অধ্যায় শেষে গত মৌসুম শেষে সরে দাঁড়িয়েছিলেন গার্দিওলা। আগামী রবিবারে অ্যানফিল্ডে লিভারপুলের মুখোমুখি হতে যাচ্ছে সিটি, যা শাস্তি ঘোষণার পর তাদের প্রথম ম্যাচ। পরের সপ্তাহে পিএসজির বিপক্ষে ঘরের মাঠে চ্যাম্পিয়নস লিগের ম্যাচে ইতিহাদে উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে সাবেক এই স্প্যানিশ কোচের। সে প্রসঙ্গে মারেসকা বললেন, ‘এখানে ১০টা বছর কাটানোর পর ও যেকোনো সময় আসতে পারে। আমি মনে করি এটা ওর জন্য চমৎকার হবে, সমর্থকদের জন্য এবং আমাদের সবার জন্যই হবে আনন্দের।’

মাঠের ঝড়ের মাঝেও নতুন মৌসুমে উড়ন্ত সূচনা করেছে সিটি। লিগের প্রথম পাঁচ ম্যাচের সব কটি জিতে তালিকার শীর্ষেই আছে মারেসকার দল। অলরেডদের ঘরের মাঠ অ্যানফিল্ডে যে তাদের কতটা বৈরী অভ্যর্থনার মুখোমুখি হতে হবে, তা অজানা নয় কারোই। তবে সিটির নতুন মাস্টারমাইন্ড এতে ভয় পাচ্ছেন না একেবারেই, ‘পরিবেশটা হয়তো একটু বেশিই তপ্ত থাকবে। কিন্তু এ ধরনের ম্যাচ খেলতেই তো ম্যানেজার হওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি! সত্যি বলতে আমি মোটেও চিন্তিত নই। খেলোয়াড়দের ড্র্রেসিংরুমের পরিবেশ দারুণ। লিগের শীর্ষে আছি আমরা, তাই আনন্দিত ও রোমাঞ্চিত থাকার যথেষ্ট কারণ আছে তাদের।’

ভিনসেন্ট কোম্পানি

একই দিনে ম্যানচেস্টার সিটির সাবেক অধিনায়ক ভিনসেন্ট কোম্পানিও আর্থিক অনিয়মের রায় নিয়ে নিজের অবস্থান জানিয়েছেন। বায়ার্ন মিউনিখের বর্তমান কোচ বলেছেন, সিটির হয়ে অর্জন করা সাফল্য নিয়ে তিনি এখনো ‘সত্যিই গর্বিত’।

২০০৮ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত সিটিতে খেলেছেন বেলজিয়ামের সাবেক এই ডিফেন্ডার। ক্লাবটির হয়ে জিতেছেন চারটি প্রিমিয়ার লিগ শিরোপা, সঙ্গে ঘরোয়া প্রতিযোগিতার আরও বেশ কয়েকটি ট্রফি। সিটির সোনালি সময়ের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড় ছিলেন তিনি। ইতিহাদ স্টেডিয়ামের বাইরে তাঁর একটি ভাস্কর্যও রয়েছে।

আজ সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে আলাপকালে ৪০ বছর বয়সী কোম্পানি বলেছেন, ‘আমি ক্লাবটিতে ১১ বছর খেলেছি। প্রতিটি বছরই আমার ভালো লেগেছে। আমরা যা অর্জন করেছি, মাঠে যা করেছি, সেসব নিয়ে আমি সত্যিই গর্বিত।’

হামবুর্গ থেকে কোম্পানি সিটিতে যোগ দেওয়ার কয়েক সপ্তাহ পরই ক্লাবটির মালিকানা বদল হয়। শেখ মনসুরের নেতৃত্বে আবুধাবিভিত্তিক মালিকানায় যাওয়ার পর সিটি ধীরে ধীরে ইংলিশ ফুটবলের অন্যতম পরাশক্তিতে পরিণত হয়।

সিটির মাঠের বাইরের বিতর্ক নিয়ে প্রশ্ন করা হলে কোম্পানি বলেন, ‘একজন খেলোয়াড় হিসেবে এসব বিষয়ের সঙ্গে আমার সম্পৃক্ততা ছিল না। আর এখন বায়ার্ন মিউনিখের কোচ হিসেবে বিষয়টি নিয়ে আমি খুব বেশি ভাবছি না।’