৩–০ গোলে পিছিয়ে থাকার পর ঘুরে দাঁড়ানোর উদাহরণ চ্যাম্পিয়নস লিগে কম নেই। ট্রান্সফার মার্কেটের হিসাবে চ্যাম্পিয়নস লিগে এখন পর্যন্ত ১৪ বার প্রথম লেগে তিন বা তার বেশি ব্যবধানে পিছিয়ে থাকা দল ঘুরে দাঁড়িয়ে জয় পেয়েছে। ২০১৬–১৭ মৌসুমে শেষ ষোলো প্রথম লেগে বার্সেলোনা ৪–০ গোলে পিছিয়ে থাকার পর ঘুরে দাঁড়িয়ে জিতেছিল ৬–১ ব্যবধানে।
কিন্তু প্রথম লেগে ৩ গোলে হারের পর যদি কোনো কোচ আত্মসমর্পণ করে বসেন, তবে সেই দলের জন্য প্রত্যাবর্তনের গল্প লেখা নিশ্চয় সহজ নয়। গতকাল রিয়াল মাদ্রিদের কাছে শেষ ষোলো প্রথম লেগে ৩–০ গোলে হারের পর ঠিক সেই কাজটিই করলেন ম্যানচেস্টার সিটি কোচ পেপ গার্দিওলা। কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার সম্ভাবনা খুব বেশি দেখছেন না সিটি কোচ।
সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতে ম্যাচের প্রথমার্ধে মাত্র ২২ মিনিটের মধ্যে হ্যাটট্রিক করেন ফেদেরিকো ভালভের্দে। ৩–০ ব্যবধানে পিছিয়ে থাকা ম্যান সিটি আর ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি।
তবে ভিনিসিয়ুস জুনিয়র পেনাল্টি মিস না করলে এই ব্যবধান আরও বড় হতে পারত। এখন কোয়ার্টার ফাইনালে যেতে হলে আগামী সপ্তাহে ইতিহাদে ফিরতি লেগে ঘুরে দাঁড়ানোর নতুন এক গল্প লিখতে হবে ম্যান সিটিকে।
কিন্তু গার্দিওলা সেই গল্প লেখার খুব একটা সম্ভাবনা দেখেন না। ম্যাচ শেষে কোয়ার্টার ফাইনালে যাওয়ার সম্ভাবনা আছে কি না জানতে চাইলে গার্দিওলা বলেছেন, ‘এখন? খুব বেশি নয়। অবশ্যই আমরা চেষ্টা করব। কোথায় কী আরও ভালো করা যায়, তা বিশ্লেষণ করব। আক্রমণভাগে আরও সক্রিয় হওয়ার চেষ্টা করব এবং লড়াইটা চালিয়ে যাব।’
তবে প্রথম লেগে তিন গোলে জেতার পর রিয়ালের পরবর্তী পর্বে যাওয়ার হার দেখলে আরও দমে যেতে পারেন গার্দিওলা। পরিসংখ্যান বলছে, এখন পর্যন্ত ইউরোপিয়ান ক্লাব প্রতিযোগিতার নকআউট পর্বে প্রথম লেগে ৩ বা তার বেশি গোলের ব্যবধানে জেতার পর কখনো বিদায় নেয়নি রিয়াল। ৩৫ বার দলটি প্রথম লেগে ৩–০ গোলে এগিয়ে ছিল, যেখানে দুই লেগ মিলিয়ে জিতে প্রতিবারই পরের পর্বে গেছে তারা।
তবে রেকর্ড গড়াই হয় ভাঙার জন্য। ইতিহাদে ১৭ মার্চ রাতে তেমন প্রত্যাশা নিয়েই মাঠে নামবে সিটি। সে জন্য অবশ্য কঠিন পথই পাড়ি দিতে হবে তাদের।