
শেষ ষোলোতে ওঠার প্লে–অফের দুই লেগে আলভারো আরবেলোয়ার প্রতিপক্ষ ছিলেন জোসে মরিনিও। শেষ ষোলোর দুই লেগে পেপ গার্দিওলা। এই দুই কিংবদন্তি কোচকে হারিয়ে রিয়াল মাদ্রিদকে চ্যাম্পিয়নস লিগের কোয়ার্টার ফাইনালে তুলেছেন আরবেলোয়া। দু–আড়াই মাস আগেও কি তিনি এমন কিছু ভেবেছিলেন?
সংবাদ সম্মেলনে আরবেলোয়া স্বীকার করেছেন, ভাবেননি। সঙ্গে যোগ করেছেন, এ দুই হেভিওয়েট কোচকে বিদায় করার কৃতিত্বটা তাঁর খেলোয়াড়দের। সে তো বটেই। মাঠে তো খেলোয়াড়েরাই খেলেন। তবে পেছন থেকে কোচকেও কলকাঠি নাড়তে হয়। গত ১২ জানুয়ারি রিয়াল কোচের দায়িত্ব নেওয়া আরবেলোয়া সেই কৃতিত্বও নিতে চাইলেন না, ‘গত দুই মাসে আমি যা করেছি, তার বাইরে ভিন্ন কিছু করেছি বলে মনে করি না...গার্দিওলার মতো কোচকে আমি হারাতে পারি—এ কথা বলার সাহস আমার নেই। আমরা জিতলে সেটি খেলোয়াড়দের পরিশ্রমের ফল। কয়েক মাস আগেও এমনটা হবে, তা আমি বিশ্বাস করতাম না। কিন্তু হয়েছে, এটাই বাস্তব।’
শুধু এটাই হয়নি, তাতে বদলেছে ইতিহাসের একটি পাতাও। কোচিং ক্যারিয়ারে ইউরোপের শীর্ষ এই ক্লাব প্রতিযোগিতায় আরবেলোয়া তাঁর প্রথম দুটি নকআউট টাইয়েই হারিয়েছেন ইতিহাসের অন্যতম সেরা দুই কোচকে। সেটাও দুই লেগেই পেয়েছেন জয়।
ফুটবলের পরিসংখ্যানভিত্তিক এক্স হ্যান্ডল ‘মিস্টার চিপ’ জানিয়েছে, ইউরোপিয়ান কাপের ইতিহাসে প্রথম কোচ হিসেবে দুই লেগেই মরিনিও ও গার্দিওলাকে হারিয়ে তাঁদের প্রতিযোগিতা থেকে বিদায় করলেন আরবেলোয়া। এর আগে ইয়ুর্গেন ক্লপ ও ডিয়েগো সিমিওনে ইউরোপের এই শীর্ষ ক্লাব প্রতিযোগিতা থেকে দুই কোচকে একসঙ্গে বিদায় করেছেন। কিন্তু তাঁরা কেউ আরবেলোয়ার মতো দুই লেগেই মরিনিও ও গার্দিওলাকে হারাতে পারেননি।
শেষ ষোলোতে ওঠার প্লে–অফে রিয়ালের প্রতিপক্ষ ছিল মরিনিওর বেনফিকা। আরবেলোয়া এমনিতেই মরিনিওর সাবেক শিষ্য। পর্তুগিজ এই কোচের প্রতি তাঁর শ্রদ্ধাও অন্য পর্যায়ের। সেটাও অবশ্য নিজগুণেই আদায় করেছেন মরিনিও। চার দেশে লিগজয়ী মরিনিও দুটি ক্লাবের হয়ে চ্যাম্পিয়নস লিগজয়ী সপ্তম কোচ। একমাত্র কোচ হিসেবে উয়েফার বর্তমান সব ক্লাব প্রতিযোগিতার শিরোপাও জিতেছেন। পাশাপাশি চ্যাম্পিয়নস লিগে কোচ হিসেবে সর্বোচ্চ ম্যাচ জয়ের তালিকায়ও পাঁচে মরিনিও (১৫৪ ম্যাচে ৮০ জয়)।
সেই মরিনিও বিপক্ষে চ্যাম্পিয়নস লিগে নিজের কোচিং ক্যারিয়ারে প্রথম নকআউট ম্যাচের সম্মুখীন হন আরবেলোয়া। ফল? বেনফিকার মাঠে প্রথম লেগ ১–০ গোলে জেতার পর সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতে ফিরতি লেগেও ২–১ গোলের জয়।
শেষ ষোলোয় ওঠার পর আরবেলো কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার পথে বাধা হিসেবে পেয়েছেন গার্দিওলাকে। ম্যানচেস্টার সিটির এই কোচ ইতিহাসেরই অন্যতম সেরাদের একজন। বলা হয়, গত দেড় দশকে ফুটবল খেলার ধাঁচ পাল্টে ফেলার পেছনে গার্দিওলার ভূমিকা সবচেয়ে বেশি। চ্যাম্পিয়নস লিগে কোচ হিসেবে সর্বোচ্চ ম্যাচ জয়েও তৃতীয় (১৮৯ ম্যাচে ১১৭ জয়) গার্দিওলা। সেই গার্দিওলাও শেষ ষোলোর দুই লেগে হার মানলেন আরবেলোয়ার কাছে।
বার্নাব্যুতে প্রথম লেগ ৩–০ গোলে জয়ের পর সিটির মাঠে গতকাল রাতে রিয়াল ফিরতি লেগ জিতেছে ২–১ গোলে। আরবেলোয়ার কাছে জানতে চাওয়া হয়েছিল, হারের পর গার্দিওলা তাঁকে কী বলেছেন? রিয়াল কোচের উত্তর, ‘আমাকে অভিনন্দন জানিয়েছেন। রোববার (লিগ কাপের) ফাইনালের জন্য তাঁকে শুভকামনা জানিয়েছি।’