
শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগে দেশসেরা নারী শুটার কামরুন নাহার কলিকে নিষিদ্ধ করছে শুটিং ফেডারেশন। সঙ্গে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে আরও কয়েকজনের বিরুদ্ধেও। কমনওয়েলথ শুটিং ও দক্ষিণ এশিয়ান গেমসে সোনাজয়ী শুটার সাবরিনা সুলতানা ও শারমিন আক্তার রত্নাকে শুটিং অঙ্গন থেকে ‘অবাঞ্ছিত’ ঘোষণা করা হয়েছে। ফেডারেশনের কাছ থেকে সাময়িক বহিষ্কারের চিঠি পেয়েছেন আরও দুই শুটার। তাঁদের একজন আগেই বহিষ্কারাদেশের চিঠি পাওয়া কলির স্বামী মির্জা আবিদুর রহমান আহাদ।
৯ ফেব্রুয়ারি শুটিং ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক ফেরদৌস আরা খানম (আলেয়া ফেরদৌস) স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে সাবরিনা সুলতানা ও শারমিন আক্তারকে এ সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়। তবে সাবরিনা ও রত্না চিঠি পেয়েছেন আজ।
চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, বিভিন্ন সময় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ফেডারেশনবিরোধী কার্যকলাপে লিপ্ত থাকা এবং গত ২৫ জানুয়ারি ফেডারেশন কার্যালয়ে তদন্তকাজে আসা পুলিশ কর্মকর্তার উপস্থিতিতে সাধারণ সম্পাদক ও নির্বাহী কমিটির সদস্যদের সঙ্গে ‘অশালীন, অপমানজনক ও আক্রমণাত্মক’ আচরণ করার অভিযোগে এ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। ফেডারেশনের দাবি, তাঁদের আচরণ প্রতিষ্ঠানের মর্যাদা ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটানোয় গঠনতন্ত্রের ১৬.২০ ধারা অনুযায়ী এ শাস্তি দেওয়া হয়।
একই ভাষার চিঠিতে একই অভিযোগে সাময়িকভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে কামরুন নাহার কলির স্বামী রাজধানী শুটিং ক্লাবের পিস্তল শুটার আহাদ ও রাইফেল শুটার তাসমিয়াতি এমাকে। নৌবাহিনীর পিস্তল শুটার পিয়াস আহমেদকেও সাময়িক বহিষ্কার করা হয়েছে। কিন্তু অন্য শুটাররা বলছেন, যদিও ২৫ জানুয়ারি ফেডারেশনের কর্মকর্তাদের হুমকির ঘটনায় পিয়াস জড়িত ছিলেন না। তাঁদের দাবি, সামাজিক যোগাযোগ্যমাধ্যমে ফেডারেশনের অব্যাহতি পাওয়া যুগ্ম সম্পাদকের বিরুদ্ধে পোস্ট দেওয়াতেই শাস্তি দেওয়া হয়েছে তাঁকে।
শুটার শারমিন আক্তার রত্না প্রথম আলোকে জানিয়েছেন, ফেডারেশনের অব্যাহতি পাওয়া যুগ্ম সম্পাদক জি এম হায়দার সাজ্জাদের বিরুদ্ধে গত নভেম্বরে তিনি নারী নির্যাতন আইনে মামলা করেছিলেন। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ২৫ জানুয়ারি রত্নাকে নিয়ে গুলশান শুটিং ফেডারেশনে যান। সাক্ষী হিসেবে যান কলি, এমা, আহাদ ও সাবরিনা। সে সময় আলেয়া ফেরদৌসের সঙ্গে তাঁরা কথা বলতে চাইলেও তিনি না বললে বাগ্বিতণ্ডার সৃষ্টি হয়। শারমিন আক্তার বলেন, ‘সেই সময় পিয়াস আহমেদ আমাদের সঙ্গে ছিল না। কিন্তু তাকেও এ ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ত করে বহিষ্কার করা হয়েছে, যা প্রতিশোধমূলক।’
ফেডারেশনের শাস্তিকে অবশ্য কোনো গুরুত্বই দিচ্ছেন না সাবরিনা ও রত্না। ক্ষুব্ধ সাবরিনা প্রথম আলোকে বলেন, ‘এই অ্যাডহক কমিটিই অবৈধ। তারা টাকা দিয়ে ক্ষমতায় এসেছে, সার্চ কমিটি তাদের সিলেক্ট করেনি। যারা নিজেরাই অবৈধ, তাদের সিদ্ধান্তের কোনো মূল্য আমার কাছে নেই। আজ (গতকাল) কুষ্টিয়ায় এসে তাদের চিঠি পেয়েছি। এই চিঠি আমার কাছে হাস্যকর।’ সঙ্গে যোগ করেন, ‘আমি এমনিতেই ফেডারেশনে যাই না। একজন নারী হয়ে সাধারণ সম্পাদক কীভাবে এসব অগণতান্ত্রিক সিদ্ধান্ত নেন, তা দেখে আমি বিস্মিত।’
শারমিন আক্তারের কথা, ‘আমাদের আন্দোলন সাজ্জাদের বিরুদ্ধে। ফেডারেশনের বিরুদ্ধে নয়। কিন্তু আমাদের শাস্তি দিয়ে ফেডারেশন স্পষ্টতই সাজ্জাদের পক্ষ নিয়েছে। আমরা আলেয়া ফেরদৌসের অপসারণ চাই। ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক কেন কথা বলেননি আমাদের সঙ্গে? উল্টো তিনি আমাদের অবাঞ্ছিত করলেন। এসব সিদ্ধান্ত হাস্যকর।’
এসব বিষয়ে জানতে আলেয়া ফেরদৌসের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি।