ট্রফি নিয়ে সাবিনা খাতুন
ট্রফি নিয়ে সাবিনা খাতুন

মাঠের সাবিনাকে যেমন দেখছেন, মাঠের বাইরেও সাবিনা তেমনই

আগে সাবিনা খাতুন ছিলেন শুধু সাফজয়ী বাংলাদেশ নারী ফুটবল দলের অধিনায়ক। এখন তিনি সাফজয়ী বাংলাদেশ ফুটসাল দলেরও অধিনায়ক। থাইল্যান্ডে প্রথমবার হওয়া সাফ ফুটসাল চ্যাম্পিয়নশিপে বাংলাদেশ নারী দলের সাফল্যের সবচেয়ে বড় কারিগর তিনি। টুর্নামেন্ট সর্বোচ্চ ১৪ গোলও তাঁর। ফুটবলের পর ফুটসালে সফল হওয়ার নানা দিকসহ আরও অনেক বিষয় নিয়ে ব্যাংকক থেকে মুঠোফোনে প্রথম আলোর সঙ্গে কথা বলেছেন ৩২ বছর বয়সী এই তারকা খেলোয়াড়। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন জহির উদ্দিন

প্রশ্ন

সাফ ফুটসালে প্রথমবার অংশ নিয়েই চ্যাম্পিয়ন হতে পেরে কেমন লাগছে?

সাবিনা খাতুন: যেকোনো জয়ই আনন্দের। প্রথমবার অংশ নিয়ে চ্যাম্পিয়ন হতে পেরে বেশি ভালো লাগছে। আর লড়াই করে দেশের সম্মান বয়ে আনতে পারাটা সব সময়ই গর্বের।

প্রশ্ন

২০২২ সালে আপনার অধিনায়কত্বে প্রথম সাফ জিতেছিল বাংলাদেশ নারী দল। এবার ফুটসালে আপনার নেতৃত্বেই এসেছে প্রথম শিরোপা। কোনটাকে এগিয়ে রাখবেন?

‎সাবিনা: দুটির গুরুত্ব দুই রকম। আমি কোনো অর্জনকেই খাটো করে দেখতে চাই না। ফুটবলে ট্রফি জেতার পর যে ভালো লাগা কাজ করেছিল, ফুটসালেও একই রকম। আমি কোনোটাকে ভিন্ন চোখে দেখছি না।

সাফ ফুটসালজয়ী বাংলাদেশ নারী দলের অধিনায়ক সাবিনা খাতুন
প্রশ্ন

‎ফুটবল নাকি ফুটসাল, কোথায় গোল করা বেশি কঠিন?‎

‎সাবিনা: ফুটবল দিয়ে ক্যারিয়ার শুরু করেছি। চেষ্টা করেছি প্রতি ম্যাচে মনে রাখার মতো কিছু করতে। ফুটসালে আসার পরও সেই চেষ্টাটা আছে। আসলে আমার পজিশনটাই গোল করার। তাই গোল করাই আমার কাজ। কাজটা ঠিকঠাকভাবে করতে পারলে ভালো লাগে। তবে গোল করাটা সহজ নয়। সেটা ফুটবল বলেন আর ফুটসাল, দুই জায়গায়ই কঠিন। কারণ, গোল করতে দক্ষতা লাগে।

প্রশ্ন

‎জাতীয় ফুটবল দলের বাইরে আছেন। এ সময়টায় আপনাকে নিয়ে অনেক প্রশ্ন উঠেছে, অনেক সমালোচনা হচ্ছে। এটা কীভাবে দেখছেন? ‎

সাবিনা: খেলোয়াড়দের নিয়ে আলোচনা–সমালোচনা থাকবে, এটাই স্বাভাবিক। আমি মনে করি, একজন পেশাদার খেলোয়াড়কে সমালোচনাটা ইতিবাচক হিসেবেই নিতে হবে। ভালো সময়ে যেমন সবাই বাহবা দেয়, খারাপ সময়ে নেতিবাচক আলোচনাটাও হজম করতে হয়। পেশাদার ফুটবলারের মনোভাব এমনই হওয়া উচিত।

২০২২ সালে সাবিনার নেতৃত্বেই প্রথমবার সাফ নারী চ্যাম্পিয়নশিপ জেতে বাংলাদেশ
প্রশ্ন

ফুটসালে ট্রায়ালের সিদ্ধান্ত নেওয়া কতটা সহজ ছিল? তখন কি মনে হয়েছিল, এটাই হয়তো বাংলাদেশের জার্সিতে ফেরার নতুন পথ?

সাবিনা: এমন কোনো কিছুই মনে হয়নি। চেয়েছি বাছাইটা যেন ন্যায্য হয়। কেউ যাতে এটা না ভাবেন যে পক্ষপাতের কারণে আমি দলে ঢুকেছি। তবে এটা ভেবেছিলাম, আমি ফুটসালে যোগ দিলে আমার জন্য যদি দল কিছুটা উপকৃত হয়, দেশকে কিছু দিতে পারি; তাহলে কেন ফুটসালে যাব না।

প্রশ্ন

অল্প সময়ের মধ্যে এ দলটা গঠন করা হয়েছে। অধিনায়ক হিসেবে সবাইকে এক সুতোয় গাঁথার কাজটা কতটা কঠিন ছিল?

সাবিনা: এটা ঠিক যে খুব অল্প সময়ের মধ্যে দলটা গঠন করা হয়েছে। দলে নতুনদের সঙ্গে বেশ কয়েকজন অভিজ্ঞ খেলোয়াড় আছে। আমার নিজেরই অনেক দিনের অভিজ্ঞতা আছে। সেদিক থেকে গুছিয়ে নিতে খুব একটা সমস্যা হয়নি। কোচও খুবই সাহায্য করেছেন। সবাই দ্রুত মানিয়ে নিয়েছে। ‎

সাবিনা খাতুন
প্রশ্ন

মাঠ এবং মাঠের বাইরের সাবিনার পার্থক্য কোথায়? ‎

‎সাবিনা: মাঠের ভেতরে সাবিনাকে যেমন দেখছেন, মাঠের বাইরেও সাবিনা তেমনই। আসলে আমি সব সময় চেষ্টা করি সবার সঙ্গে ফ্রেন্ডলি থাকার এবং টিমটাকে যতটা সম্ভব উজ্জীবিত রাখার।

প্রশ্ন

এই সাফল্যের পর বাংলাদেশের নারী ফুটসালকে আপনি কোথায় দেখতে চান?

সাবিনা: আমি এটুকু বলব, ফুটসালের ভবিষ্যৎ ভালো। ফুটবল ফেডারেশন ফুটবলারদের জন্য যেমন দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা করছে, এখানেও তেমন কিছু দরকার। আমার বিশ্বাস, ছেলে–মেয়েদের নিয়ে যদি দীর্ঘমেয়াদি কাজ করা যায়, তাহলে সামনে আরও ভালো করা সম্ভব।

প্রশ্ন

কোচ পিটার বাটলারের বিরুদ্ধে বিদ্রোহের পর জাতীয় দলে জায়গা হারিয়েছেন, এটাকে কীভাবে দেখছেন? ‎

সাবিনা: ফুটবল কোচকে নিয়ে এ মুহূর্তে কিছু বলতে চাই না। এ আলোচনাটাও অনেক দিন আগের। আমরা ফুটসালে চ্যাম্পিয়ন হয়েছি, এই অর্জনটা উপভোগ করতে চাই। আমার মনে হয়, পুরোনো বিষয় নিয়ে কথা না বলাই ভালো।

অনুশীলনে বল নিয়ে কসরত সাবিনা খাতুনের
প্রশ্ন

ভবিষ্যতে আপনাকে আবার ফুটবলে দেখা যাবে?

সাবিনা: সেটা সময়ই বলে দেবে। ফুটবলে ফেরার আশা তো আছেই। আসলে আমার কোনো তাড়া নেই। ঝামেলা আর ভালোও লাগে না। ভালো থাকুক সবাই।

প্রশ্ন

মার্চে এশিয়ান কাপে খেলবে নারী ফুটবল দল। আপনিও সেখানে থাকতে পারতেন, এটা নিয়ে কী বলবেন?

‎সাবিনা: দেখুন, আমি বর্তমান নিয়েই ভাবছি। ফুটবল দলের জন্য শুভকামনা ও ভবিষ্যতেও থাকবেন।